ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নিকলী-বাজিতপুরের সাবেক ইউএনও সোহানা নাসরিন এবার কিশোরগঞ্জের ডিসি জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’

একটি দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে : মাহদী আমিন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৭ বার

Oplus_16908288

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন অভিযোগ করে বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে ওই দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা ভোটের সিল তৈরির ঘটনা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করে জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরখা ও নিকাব প্রস্তুত করার তথ্যও বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, “লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের জন্য অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক গ্রেফতার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন—জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার নির্দেশেই এসব সিল তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, জব্দকৃত আলামত, হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া অর্ডারের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ প্রাথমিক তদন্তেই উঠে এসেছে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।

এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নারী কক্ষে অবশ্যই পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নারী ভোটারদের মুখমণ্ডল খুলে সঠিকভাবে শনাক্ত করার ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে—ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা হজের ছবি তোলার সময় যেমন মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক, ঠিক তেমনি ভোটগ্রহণের সময়ও নারী পোলিং কর্মকর্তার সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলকে নারী কক্ষে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “এর আগেও আমরা দেখেছি—ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে জাল ভোটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
এমনকি অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর প্রস্তুতির তথ্যও বিএনপি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে একটি ঘটনার উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ওই রাজনৈতিক দলের এক নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্রিকেট খেলার ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এগুলো কি নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী সহিংসতা সৃষ্টির প্রস্তুতি নয়?”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পর্যবেক্ষকের নামে কিছু প্রতিষ্ঠান বিশেষ দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুতর অসংগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে একাই পাশা পেয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন। অথচ বাস্তবে সংস্থাটির তথাকথিত কার্যালয় হবিগঞ্জের একটি গ্রামের বাসার একটি কক্ষে সীমাবদ্ধ এবং লোকবল বলতে একজন মাত্র—যা ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা আগেও নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি—পর্যবেক্ষকের নামে কিছু প্রতিষ্ঠান একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।
এসব অনিয়ম একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পথে বড় অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেষে মাহদী আমিন একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আবারও জোরালো আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নিকলী-বাজিতপুরের সাবেক ইউএনও সোহানা নাসরিন এবার কিশোরগঞ্জের ডিসি

একটি দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে : মাহদী আমিন

আপডেট টাইম : ০৩:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন অভিযোগ করে বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে ওই দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা ভোটের সিল তৈরির ঘটনা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করে জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরখা ও নিকাব প্রস্তুত করার তথ্যও বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, “লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের জন্য অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক গ্রেফতার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন—জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার নির্দেশেই এসব সিল তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, জব্দকৃত আলামত, হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া অর্ডারের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ প্রাথমিক তদন্তেই উঠে এসেছে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।

এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নারী কক্ষে অবশ্যই পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নারী ভোটারদের মুখমণ্ডল খুলে সঠিকভাবে শনাক্ত করার ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে—ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা হজের ছবি তোলার সময় যেমন মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক, ঠিক তেমনি ভোটগ্রহণের সময়ও নারী পোলিং কর্মকর্তার সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলকে নারী কক্ষে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “এর আগেও আমরা দেখেছি—ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে জাল ভোটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
এমনকি অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর প্রস্তুতির তথ্যও বিএনপি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে একটি ঘটনার উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ওই রাজনৈতিক দলের এক নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্রিকেট খেলার ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এগুলো কি নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী সহিংসতা সৃষ্টির প্রস্তুতি নয়?”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পর্যবেক্ষকের নামে কিছু প্রতিষ্ঠান বিশেষ দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুতর অসংগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে একাই পাশা পেয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন। অথচ বাস্তবে সংস্থাটির তথাকথিত কার্যালয় হবিগঞ্জের একটি গ্রামের বাসার একটি কক্ষে সীমাবদ্ধ এবং লোকবল বলতে একজন মাত্র—যা ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা আগেও নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি—পর্যবেক্ষকের নামে কিছু প্রতিষ্ঠান একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।
এসব অনিয়ম একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পথে বড় অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেষে মাহদী আমিন একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আবারও জোরালো আহ্বান জানান।