ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুয়াশা কাটিয়ে রোদের দেখা, স্বস্তিতে ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৪ বার

কনকনে ঠান্ডা আর হাড়কাঁপানো উত্তুরে হাওয়ার দাপট কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল উত্তর জনপদের জেলা ঠাকুরগাঁও।

গত কয়েক দিনের কুয়াশার চাদর সরিয়ে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটায় দেখা মিলল ‘সূর্যিমামা’র। মেঘমুক্ত আকাশে সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়তেই পাল্টে গেল জনজীবনের ছবি। কর্মব্যস্ততা আর শিশু-কিশোরদের হুল্লোড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পাড়া-মহল্লায় ফিরল হারানো চনমনে মেজাজ।

বৃহস্পতিবার থেকেই উত্তুরে হাওয়ায় কার্যত জবুথবু হয়ে পড়েছিল এই জনপদ। রোববার সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেলেও সোমবার থেকে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। মঙ্গলবার সকাল হতেই দেখা গেল অন্য দৃশ্য—শহরের টিনের চাল আর শীতের আড়ষ্টতায় নুয়ে পড়া গাছের পাতায় রুপালি ঝিলিক। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডানা ঝাপটে নতুন রোদের ওম মেখে নিতে দেখা গেল পাখিদেরও।

কৃষিজীবী মানুষের কাছে এ রোদ যেন প্রকৃতির এক অনন্য আশীর্বাদ। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের পাইক গ্রামের কৃষকদের চোখেমুখে এখন স্বস্তির ছাপ। বোরো চাষের ভরা মৌসুমে এই রোদ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় কৃষক ফরহাদ হোসেনের কথায়, সোমবার থেকে কাঁপুনি আর কুয়াশা যেন বিশ্রামে গিয়েছে। এটা আমাদের কাছে উপহারের মতো। তবে মাঘ মাসের শীতের কামড় এখনও বাকি, সেই অনুভূতি হবে আরও অন্যরকম।

তিনি আরও জানান, কড়া রোদ না উঠলে ধানের চারা নিয়ে বড়সড় বিপদের আশঙ্কায় ছিলেন তারা।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সোমবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সকালে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, গত দু’দিনের রোদ প্রকৃতির এক প্রশান্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা রোদ ওঠায় খেতের ফসলে রোগবালাইয়ের আশঙ্কাও অনেকটা প্রশমিত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

কুয়াশা কাটিয়ে রোদের দেখা, স্বস্তিতে ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন

আপডেট টাইম : ১১:১৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

কনকনে ঠান্ডা আর হাড়কাঁপানো উত্তুরে হাওয়ার দাপট কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল উত্তর জনপদের জেলা ঠাকুরগাঁও।

গত কয়েক দিনের কুয়াশার চাদর সরিয়ে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটায় দেখা মিলল ‘সূর্যিমামা’র। মেঘমুক্ত আকাশে সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়তেই পাল্টে গেল জনজীবনের ছবি। কর্মব্যস্ততা আর শিশু-কিশোরদের হুল্লোড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পাড়া-মহল্লায় ফিরল হারানো চনমনে মেজাজ।

বৃহস্পতিবার থেকেই উত্তুরে হাওয়ায় কার্যত জবুথবু হয়ে পড়েছিল এই জনপদ। রোববার সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেলেও সোমবার থেকে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। মঙ্গলবার সকাল হতেই দেখা গেল অন্য দৃশ্য—শহরের টিনের চাল আর শীতের আড়ষ্টতায় নুয়ে পড়া গাছের পাতায় রুপালি ঝিলিক। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডানা ঝাপটে নতুন রোদের ওম মেখে নিতে দেখা গেল পাখিদেরও।

কৃষিজীবী মানুষের কাছে এ রোদ যেন প্রকৃতির এক অনন্য আশীর্বাদ। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের পাইক গ্রামের কৃষকদের চোখেমুখে এখন স্বস্তির ছাপ। বোরো চাষের ভরা মৌসুমে এই রোদ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় কৃষক ফরহাদ হোসেনের কথায়, সোমবার থেকে কাঁপুনি আর কুয়াশা যেন বিশ্রামে গিয়েছে। এটা আমাদের কাছে উপহারের মতো। তবে মাঘ মাসের শীতের কামড় এখনও বাকি, সেই অনুভূতি হবে আরও অন্যরকম।

তিনি আরও জানান, কড়া রোদ না উঠলে ধানের চারা নিয়ে বড়সড় বিপদের আশঙ্কায় ছিলেন তারা।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সোমবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সকালে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, গত দু’দিনের রোদ প্রকৃতির এক প্রশান্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা রোদ ওঠায় খেতের ফসলে রোগবালাইয়ের আশঙ্কাও অনেকটা প্রশমিত হয়েছে।