ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত ৪৪ জেলা বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯ বার
শীত জেঁকে বসায় রাজধানীসহ সারা দেশে কার্যত নাকাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত এই কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় সূর্যের দেখা মিলছে না। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ও হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাতভর টিপটিপ বৃষ্টির মতো ঝরা ঘন কুয়াশা থাকছে সকাল পর্যন্ত।
সকাল ও সন্ধ্যায় প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। একই সঙ্গে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
বুধবার আবহাওয়া অফিস বলছে, বর্তমানে ৪৪টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁর বদলগাছীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, দেশের ৩০টি আবহাওয়া স্টেশনে (অঞ্চলে) বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে এদিন ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সর্বত্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই চার বিভাগে জেলার সংখ্যা ৩২টি। পাশাপাশি টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ মোট ৯ জেলায় বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। এ নিয়ে টানা তিন দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নিম্নমুখী। গত সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার রাজশাহীতে তা নেমে হয় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
বুধবার আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, শৈত্যপ্রবাহটি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। আর তীব্র শীতের অনুভূতি আরও দুদিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, ফলে শীতের অনুভূতি কমবে।
বাংলাদেশে শীতের দাপট মূলত চলে জানুয়ারি মাসজুড়ে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার থেকে রোববার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা এবং সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ পাঁচ দিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় : পৌষের শেষ সময়ে উত্তরের জনপদ নওগাঁ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে। বুধবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এটিই এখন পর্যন্ত এই মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে মঙ্গলবার ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রেকর্ড করা হয়। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রার দিনে আকাশে কুয়াশার আধিক্য তেমন না থাকলেও হাড় কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের দাপট। শীতের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দিনমজুর আর খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে।
রিকশাচালক ইয়াসিন আলী বলেন, সকাল-সন্ধ্যায় ঠান্ডায় হাত জমে যায়। কিন্তু না বের হলে পেট চলবে না ভাই। এখনও মাঘ মাস আসেনি। তারপরেও এত শীত পড়ছে। সড়কে টেকা যাচ্ছে না শীতের জ্বালায়।
নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। আকাশে মেঘ এবং বাতাস থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা কেমন থাকবে তা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।
পঞ্চগড়ে বেড়েছে শীতজনিত রোগ : তাপমাত্রা নেমে যাওয়ার কারণে বেড়েছে শীতজনিত রোগ। বুধবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ শতাংশ। কয়েক দিন ধরে হালকা কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল।
দুপুরের দিকে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও বাতাসের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হয়। শীতে আবারও দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। কনকনে শীতের কারণে এলাকার মানুষজন কষ্ট পাচ্ছেন। বিশেষ করে পাথর শ্রমিক, ভ্যানচালক, চা শ্রমিক, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রায় কঠিন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শীতের কারণে আয় রোজগার কমে যাওয়ায় তাদের দুরবস্থা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বাজারদরের বৃদ্ধি ও শীতজনিত রোগের চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে এসব মানুষ অত্যন্ত কষ্টে আছেন। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছেন।
দিনাজপুরে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ : হিমশীতল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় শিশু ও বৃদ্ধ। বুধবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁর বদলগাছীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস জানিয়েছে দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন।
কুড়িগ্রামে চরম ভোগান্তি : কুড়িগ্রামে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে করে সাধারণ মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। ঠান্ডার কারণে শিশু এবং বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। গত কয়েক দিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না। আজ সূর্য মাঝেমধ্যে উঁকি দিচ্ছে আবার চলে যাচ্ছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, খড়ে ঘরে থাকি বাতাস রাত ও দিনে হু হু করে ঢুকে মোক কাবু করছে। বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
এদিকে এ বছর শীতের কারণে গত কয়েক দিন থেকে সর্দি, কাশি, নিউমেনিয়া, আমাশয় ও ডায়রিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেড়ে চলছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আবার কিছু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
মেহেরপুরে হাড় কাঁপানো শীত : উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মেহেরপুরের জনজীবন। টানা শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। চলতি শীত মৌসুমে এবং দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এই অঞ্চলে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত ৪৪ জেলা বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ

আপডেট টাইম : ১১:০২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
শীত জেঁকে বসায় রাজধানীসহ সারা দেশে কার্যত নাকাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত এই কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় সূর্যের দেখা মিলছে না। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ও হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাতভর টিপটিপ বৃষ্টির মতো ঝরা ঘন কুয়াশা থাকছে সকাল পর্যন্ত।
সকাল ও সন্ধ্যায় প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। একই সঙ্গে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
বুধবার আবহাওয়া অফিস বলছে, বর্তমানে ৪৪টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁর বদলগাছীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, দেশের ৩০টি আবহাওয়া স্টেশনে (অঞ্চলে) বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে এদিন ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সর্বত্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই চার বিভাগে জেলার সংখ্যা ৩২টি। পাশাপাশি টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ মোট ৯ জেলায় বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। এ নিয়ে টানা তিন দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নিম্নমুখী। গত সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার রাজশাহীতে তা নেমে হয় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
বুধবার আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, শৈত্যপ্রবাহটি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। আর তীব্র শীতের অনুভূতি আরও দুদিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, ফলে শীতের অনুভূতি কমবে।
বাংলাদেশে শীতের দাপট মূলত চলে জানুয়ারি মাসজুড়ে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার থেকে রোববার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা এবং সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ পাঁচ দিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় : পৌষের শেষ সময়ে উত্তরের জনপদ নওগাঁ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে। বুধবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এটিই এখন পর্যন্ত এই মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে মঙ্গলবার ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রেকর্ড করা হয়। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রার দিনে আকাশে কুয়াশার আধিক্য তেমন না থাকলেও হাড় কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের দাপট। শীতের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দিনমজুর আর খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে।
রিকশাচালক ইয়াসিন আলী বলেন, সকাল-সন্ধ্যায় ঠান্ডায় হাত জমে যায়। কিন্তু না বের হলে পেট চলবে না ভাই। এখনও মাঘ মাস আসেনি। তারপরেও এত শীত পড়ছে। সড়কে টেকা যাচ্ছে না শীতের জ্বালায়।
নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। আকাশে মেঘ এবং বাতাস থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা কেমন থাকবে তা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।
পঞ্চগড়ে বেড়েছে শীতজনিত রোগ : তাপমাত্রা নেমে যাওয়ার কারণে বেড়েছে শীতজনিত রোগ। বুধবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ শতাংশ। কয়েক দিন ধরে হালকা কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল।
দুপুরের দিকে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও বাতাসের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হয়। শীতে আবারও দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। কনকনে শীতের কারণে এলাকার মানুষজন কষ্ট পাচ্ছেন। বিশেষ করে পাথর শ্রমিক, ভ্যানচালক, চা শ্রমিক, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রায় কঠিন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শীতের কারণে আয় রোজগার কমে যাওয়ায় তাদের দুরবস্থা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বাজারদরের বৃদ্ধি ও শীতজনিত রোগের চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে এসব মানুষ অত্যন্ত কষ্টে আছেন। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছেন।
দিনাজপুরে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ : হিমশীতল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় শিশু ও বৃদ্ধ। বুধবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁর বদলগাছীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস জানিয়েছে দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন।
কুড়িগ্রামে চরম ভোগান্তি : কুড়িগ্রামে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে করে সাধারণ মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। ঠান্ডার কারণে শিশু এবং বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। গত কয়েক দিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না। আজ সূর্য মাঝেমধ্যে উঁকি দিচ্ছে আবার চলে যাচ্ছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, খড়ে ঘরে থাকি বাতাস রাত ও দিনে হু হু করে ঢুকে মোক কাবু করছে। বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
এদিকে এ বছর শীতের কারণে গত কয়েক দিন থেকে সর্দি, কাশি, নিউমেনিয়া, আমাশয় ও ডায়রিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেড়ে চলছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আবার কিছু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
মেহেরপুরে হাড় কাঁপানো শীত : উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মেহেরপুরের জনজীবন। টানা শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। চলতি শীত মৌসুমে এবং দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এই অঞ্চলে।