ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যা রয়েছে রুমিন ফারহানার হলফনামায়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০ বার

সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তার সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।

হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, রুমিন ফারহানার নামে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া তার হাতে রয়েছে নগদ ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গত ২৯ ডিসেম্বর সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন রুমিন ফারহানা। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সাবেক যুবদল নেতা মো. আলী হোসেন।

দাখিল করা হলফনামায় দেখা যায়, ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে মায়ের কাছ থেকে হেবানামা যার মূল্য অজানা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ঢাকার লালমাটিয়া অবস্থিত পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট তিনি বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন, যার জন্য কোনো মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া পুরানা পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি স্পেস রয়েছে, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা।

হলফনামায় তিনি পেশা হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট উল্লেখ করেছেন। তার নামে কোনো ব্যাংক জমা, বিদেশি মুদ্রা, শেয়ার, বন্ড বা স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ নেই। নিজের নামে কোনো যানবাহনও নেই। তবে তার কাছে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি বলেও উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির উৎস হিসেবে নিজের আইন পেশা হতে আয় হওয়া ২০ লাখ টাকা খরচ করবেন। প্রবাসী খালাতো ভাই গালিব মেহেদী তার নির্বাচনের জন্য স্বেচ্ছায় ৫ লাখ টাকা দান করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের তিনটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট আইনে ও ২০২৩ সালে একটি ফৌজদারি মামলা ছিল; যা ২০২৫ সালে এই চারটি মামলাই নিষ্পত্তি হয়েছে।

এছাড়াও তিনি হলফনামায় ২০১৯ সালে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করার বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে ৭০ শতাংশ রাস্তাঘাট উন্নয়ন, ৬৫ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, ৮০ শতাংশ মাদক নিয়ন্ত্রণ ও ৫০ শতাংশ বেকারত্ব দূরীকরণ অর্জন করেছেন।

উল্লেখ্য, জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনটি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেয় বিএনপি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যা রয়েছে রুমিন ফারহানার হলফনামায়

আপডেট টাইম : ১০:৩০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তার সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।

হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, রুমিন ফারহানার নামে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া তার হাতে রয়েছে নগদ ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গত ২৯ ডিসেম্বর সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন রুমিন ফারহানা। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সাবেক যুবদল নেতা মো. আলী হোসেন।

দাখিল করা হলফনামায় দেখা যায়, ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে মায়ের কাছ থেকে হেবানামা যার মূল্য অজানা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ঢাকার লালমাটিয়া অবস্থিত পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট তিনি বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন, যার জন্য কোনো মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া পুরানা পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি স্পেস রয়েছে, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা।

হলফনামায় তিনি পেশা হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট উল্লেখ করেছেন। তার নামে কোনো ব্যাংক জমা, বিদেশি মুদ্রা, শেয়ার, বন্ড বা স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ নেই। নিজের নামে কোনো যানবাহনও নেই। তবে তার কাছে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি বলেও উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির উৎস হিসেবে নিজের আইন পেশা হতে আয় হওয়া ২০ লাখ টাকা খরচ করবেন। প্রবাসী খালাতো ভাই গালিব মেহেদী তার নির্বাচনের জন্য স্বেচ্ছায় ৫ লাখ টাকা দান করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের তিনটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট আইনে ও ২০২৩ সালে একটি ফৌজদারি মামলা ছিল; যা ২০২৫ সালে এই চারটি মামলাই নিষ্পত্তি হয়েছে।

এছাড়াও তিনি হলফনামায় ২০১৯ সালে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করার বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে ৭০ শতাংশ রাস্তাঘাট উন্নয়ন, ৬৫ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, ৮০ শতাংশ মাদক নিয়ন্ত্রণ ও ৫০ শতাংশ বেকারত্ব দূরীকরণ অর্জন করেছেন।

উল্লেখ্য, জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনটি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেয় বিএনপি।