ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা: প্রমাণসহ বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ নীলনকশা, ফয়সালের পুরো পরিবার ও ২০ জনের সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৬ বার

ওসমান হাদি-এর ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। প্রমাণ বলছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক হামলা নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় সংঘটিত একটি সংঘবদ্ধ হত্যামিশন। হামলাটি সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ে অন্তত ২০ জনের একটি সুসংগঠিত গ্রুপ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে শুটারদের নিরাপদে সীমান্ত পার করাতে একাধিক ধাপে পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কেউ অর্থের জোগান দিয়েছে, কেউ সরবরাহ করেছে অস্ত্র। ঘটনার পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন করা হয়—সবই ছিল পূর্বপরিকল্পিত নীলনকশার অংশ।

খুনি ফয়সালের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক স্বাক্ষরিত চেক তদন্তে বড় প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। এসব চেক থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, কোনো প্রভাবশালী শক্তির ইশারায় ওসমান হাদিকে সরিয়ে দিতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঢালা হয়েছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, হামলার আগের রাতে একটি রিসোর্টে অবস্থানকালে ফয়সাল তার কথিত বান্ধবীকে জানায়—“কাল এমন কিছু হবে, সারা দেশ কাঁপবে।” এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, হামলার বিষয়ে সে আগেই অবগত ছিল এবং পরিকল্পনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিল।

সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো—গুলিবর্ষণের পর পালানোর সময় ফয়সালের বাবা নিজে উপস্থিত থেকে মোটরসাইকেলের ভুয়া নম্বর প্লেট পরিবর্তন করেন এবং ছেলেকে পালাতে সহায়তা করেন। নরসিংদীর একটি বিলের পানি থেকে উদ্ধার হওয়া বিদেশি পিস্তল ও ৫২ রাউন্ড তাজা গুলি হামলাকারীদের ভয়ংকর প্রস্তুতির প্রমাণ বহন করছে।

এছাড়া আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সালের বোনের বাসার নিচ থেকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, ম্যাগাজিন ও গুলিগুলো বোনের বাসা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় শুটার ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ও মা মোসাম্মাৎ হাসি বেগমকে র‍্যাব-৩ গ্রেপ্তার করেছে।

সূত্র আরও জানায়, ওসমান হাদির ওপর হামলার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন ফয়সালের কথিত বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা। ঘটনার আগের রাতে ফয়সাল ও আলমগীর সাভারের গ্রিন জোন রিসোর্টের ২০৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন। ওই সময় মারিয়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ফয়সাল তাকে জানান, পরদিন এমন ঘটনা ঘটবে যা সারা দেশে আলোড়ন তুলবে। শুক্রবার সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে তারা একসঙ্গে রিসোর্ট ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। যাওয়ার সময় মারিয়াকে তিন হাজার টাকা দেন ফয়সাল।

এই ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে আরও ভয়াবহ তথ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পুরো ঘটনার পেছনে একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় ছিল এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা: প্রমাণসহ বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ নীলনকশা, ফয়সালের পুরো পরিবার ও ২০ জনের সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত

আপডেট টাইম : ১০:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ওসমান হাদি-এর ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। প্রমাণ বলছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক হামলা নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় সংঘটিত একটি সংঘবদ্ধ হত্যামিশন। হামলাটি সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ে অন্তত ২০ জনের একটি সুসংগঠিত গ্রুপ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে শুটারদের নিরাপদে সীমান্ত পার করাতে একাধিক ধাপে পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কেউ অর্থের জোগান দিয়েছে, কেউ সরবরাহ করেছে অস্ত্র। ঘটনার পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন করা হয়—সবই ছিল পূর্বপরিকল্পিত নীলনকশার অংশ।

খুনি ফয়সালের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক স্বাক্ষরিত চেক তদন্তে বড় প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। এসব চেক থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, কোনো প্রভাবশালী শক্তির ইশারায় ওসমান হাদিকে সরিয়ে দিতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঢালা হয়েছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, হামলার আগের রাতে একটি রিসোর্টে অবস্থানকালে ফয়সাল তার কথিত বান্ধবীকে জানায়—“কাল এমন কিছু হবে, সারা দেশ কাঁপবে।” এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, হামলার বিষয়ে সে আগেই অবগত ছিল এবং পরিকল্পনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিল।

সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো—গুলিবর্ষণের পর পালানোর সময় ফয়সালের বাবা নিজে উপস্থিত থেকে মোটরসাইকেলের ভুয়া নম্বর প্লেট পরিবর্তন করেন এবং ছেলেকে পালাতে সহায়তা করেন। নরসিংদীর একটি বিলের পানি থেকে উদ্ধার হওয়া বিদেশি পিস্তল ও ৫২ রাউন্ড তাজা গুলি হামলাকারীদের ভয়ংকর প্রস্তুতির প্রমাণ বহন করছে।

এছাড়া আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সালের বোনের বাসার নিচ থেকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, ম্যাগাজিন ও গুলিগুলো বোনের বাসা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় শুটার ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ও মা মোসাম্মাৎ হাসি বেগমকে র‍্যাব-৩ গ্রেপ্তার করেছে।

সূত্র আরও জানায়, ওসমান হাদির ওপর হামলার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন ফয়সালের কথিত বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা। ঘটনার আগের রাতে ফয়সাল ও আলমগীর সাভারের গ্রিন জোন রিসোর্টের ২০৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন। ওই সময় মারিয়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ফয়সাল তাকে জানান, পরদিন এমন ঘটনা ঘটবে যা সারা দেশে আলোড়ন তুলবে। শুক্রবার সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে তারা একসঙ্গে রিসোর্ট ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। যাওয়ার সময় মারিয়াকে তিন হাজার টাকা দেন ফয়সাল।

এই ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে আরও ভয়াবহ তথ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পুরো ঘটনার পেছনে একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় ছিল এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।