ঢাকা ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জয়েন্ট-ব্যথা? যেভাবে মিলবে সমাধান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১৯ বার

দেশজুড়ে এখন পুরোদমে শীত। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে অনেক মানুষ হাত–পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, জয়েন্টে ব্যথা, পেশিতে টান বা শক্তভাবের সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গ শীতের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া; তবে যাদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস, গেঁটেবাত বা স্নায়ুর সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে।

কেন বাড়ে শীতে ব্যথা?

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শীতকালে শরীর তাপ ধরে রাখতে রক্তনালী সংকুচিত হয়। এতে হাত–পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। ফলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে। জয়েন্টের ভেতরে থাকা সিনোভিয়াল ফ্লুইড বা লুব্রিকেন্টও ঠান্ডায় ঘন হয়ে যায়, যা জয়েন্টের নড়াচড়া কমিয়ে দেয়। এ কারণে হাঁটু, কোমর, আঙুল বা কাঁধে ব্যথা অনুভূত হয়।

শুধু তাই নয়, ঠান্ডায় পেশিতে চাপ বাড়ে এবং স্নায়ুগুলো ব্যথার সিগন্যাল বেশি তীব্রভাবে পাঠায়। তাই আগে থেকেই যাদের আর্থ্রাইটিস বা নিউরোলজিক্যাল সমস্যা আছে, তাদের ব্যথা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে।

সমাধান কী? চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শরীর গরম রাখা। মোজা, গ্লাভস, থার্মাল পোশাক ও মাথা ঢেকে রাখলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং ব্যথা কমে। ঘরে নিরাপদ দূরত্বে হিটার ব্যবহার বা গরম পানি দিয়ে হাত–পায়ে সেক দেওয়া বেশ কার্যকর।

প্রতিদিন ১০–২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করাও উপকারী। এতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং জয়েন্টের লুব্রিকেন্ট স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি শরীর পর্যাপ্ত পানি না পেলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে—তাই শীতেও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

খাদ্যাভ্যাসেও চোখ রাখতে পরামর্শ দেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। মাছ, ডিম, কলা, বাদাম, ফ্ল্যাক্সসিড ও রোদে অল্প সময় থাকা—এসব উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং জয়েন্টকে নমনীয় রাখে।

ওষুধ কখন প্রয়োজন?

ব্যথা বেশি হলে প্যারাসিটামল বা চিকিৎসকের পরামর্শে ইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রক্সেন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন—নিজে থেকে অতিরিক্ত ব্যথানাশক খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে

জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে গেলে

জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে

হাত–পা অসাড় বা দুর্বল হয়ে গেলে

আগে থেকে আর্থ্রাইটিস বা ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীদের ব্যথা বেড়ে গেলে

গুজব নয়, দরকার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান

চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দেন—শীতে ব্যথা বাড়লেও এটা “ঠান্ডা লাগার কারণে বাত হয়”—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। একইভাবে ভেষজ তেল, ঝাড়ফুঁক অথবা অ্যান্টিবায়োটিক–—কোনোটিই এই সমস্যার সমাধান নয়।

শীত যতই বাড়ুক, সঠিক সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে চললে হাত–পা ও জয়েন্টের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জয়েন্ট-ব্যথা? যেভাবে মিলবে সমাধান

আপডেট টাইম : ১০:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশজুড়ে এখন পুরোদমে শীত। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে অনেক মানুষ হাত–পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, জয়েন্টে ব্যথা, পেশিতে টান বা শক্তভাবের সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গ শীতের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া; তবে যাদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস, গেঁটেবাত বা স্নায়ুর সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে।

কেন বাড়ে শীতে ব্যথা?

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শীতকালে শরীর তাপ ধরে রাখতে রক্তনালী সংকুচিত হয়। এতে হাত–পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। ফলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে। জয়েন্টের ভেতরে থাকা সিনোভিয়াল ফ্লুইড বা লুব্রিকেন্টও ঠান্ডায় ঘন হয়ে যায়, যা জয়েন্টের নড়াচড়া কমিয়ে দেয়। এ কারণে হাঁটু, কোমর, আঙুল বা কাঁধে ব্যথা অনুভূত হয়।

শুধু তাই নয়, ঠান্ডায় পেশিতে চাপ বাড়ে এবং স্নায়ুগুলো ব্যথার সিগন্যাল বেশি তীব্রভাবে পাঠায়। তাই আগে থেকেই যাদের আর্থ্রাইটিস বা নিউরোলজিক্যাল সমস্যা আছে, তাদের ব্যথা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে।

সমাধান কী? চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শরীর গরম রাখা। মোজা, গ্লাভস, থার্মাল পোশাক ও মাথা ঢেকে রাখলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং ব্যথা কমে। ঘরে নিরাপদ দূরত্বে হিটার ব্যবহার বা গরম পানি দিয়ে হাত–পায়ে সেক দেওয়া বেশ কার্যকর।

প্রতিদিন ১০–২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করাও উপকারী। এতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং জয়েন্টের লুব্রিকেন্ট স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি শরীর পর্যাপ্ত পানি না পেলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে—তাই শীতেও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

খাদ্যাভ্যাসেও চোখ রাখতে পরামর্শ দেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। মাছ, ডিম, কলা, বাদাম, ফ্ল্যাক্সসিড ও রোদে অল্প সময় থাকা—এসব উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং জয়েন্টকে নমনীয় রাখে।

ওষুধ কখন প্রয়োজন?

ব্যথা বেশি হলে প্যারাসিটামল বা চিকিৎসকের পরামর্শে ইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রক্সেন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন—নিজে থেকে অতিরিক্ত ব্যথানাশক খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে

জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে গেলে

জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে

হাত–পা অসাড় বা দুর্বল হয়ে গেলে

আগে থেকে আর্থ্রাইটিস বা ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীদের ব্যথা বেড়ে গেলে

গুজব নয়, দরকার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান

চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দেন—শীতে ব্যথা বাড়লেও এটা “ঠান্ডা লাগার কারণে বাত হয়”—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। একইভাবে ভেষজ তেল, ঝাড়ফুঁক অথবা অ্যান্টিবায়োটিক–—কোনোটিই এই সমস্যার সমাধান নয়।

শীত যতই বাড়ুক, সঠিক সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে চললে হাত–পা ও জয়েন্টের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।