ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা মহররমের চাঁদ দেখা গেছে ২৬ জুন সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র আশুরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রতিটি জেলায় খামার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী আত্রাই নদীতে অবৈধ সৌতিজালের বিরুদ্ধে অভিযান নেটওয়ার্ক খুঁজতে আম গাছে প্রধান শিক্ষক, কী ঘটেছিল সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে ফেরাতে আরব আমিরাতকে দুদকের চিঠি মাদরাসা শিক্ষকদের মে মাসের বেতন বিলম্ব: দ্রুত সমাধান ও স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করতে খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিতে হবে রাত পোহালেই আর্জেন্টিনার ম্যাচ, মাঠে নামলেই ইতিহাস গড়বেন মেসি

হাদিসের কথা কোরআন ত্যাগ ও নামাজ অবহেলার করুণ পরিণতি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:১১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০১ বার

ইসলাম মানুষের আত্মশুদ্ধি ও আমলের দৃঢ়তার জন্য কেবল নির্দেশই দেয় না, বরং অবহেলা ও গাফলতের করুণ পরিণতি সম্পর্কেও দৃঢ়তার সহিত সতর্ক করে। পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর কালাম যা মানব জীবনে আলোর দিশারী ও নৈতিকতার চূড়ান্ত মানদণ্ড। আর ফরজ নামাজ মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সংযোগ স্থাপন ও রক্ষার সর্বোচ্চ মাধ্যম। কিন্তু যখন মানুষ অবহেলায় আলোর দিশারী এই কোরআন ও ফরজ নামাজ থেকে দূরে সরে যায় তখন সেই অবহেলা শুধু দুনিয়ার ব্যর্থতাই ডেকে আনে না, আখিরাতেও কঠিন পরিণতির সতর্ক বার্তা বহন করে।

মহানবী (সা.) স্বপ্নে দেখা কিছু দৃশ্য বর্ণনা করে উম্মতকে ঠিক সেই গাফেলতার বিপদ সম্পর্কে সাবধান করে দিয়েছেন-

 عَن سَمُرَة بْنُ جُنْدَبٍ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرُّؤْيَا قَالَ ‏ “‏ أَمَّا الَّذِي يُثْلَغُ رَأْسُهُ بِالْحَجَرِ فَإِنَّهُ يَأْخُذُ الْقُرْآنَ فَيَرْفِضُهُ وَيَنَامُ عَنِ الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ ‏”‏‏.‏

সামুরাহ ইবনে জুনদাব (রা.) সূত্রে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্বপ্ন বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেছেন, যে ব্যক্তির মাথা পাথর দিয়ে বিচূর্ণ করা হচ্ছিল, সে হল ঐ লোক যে কুরআন শিখে তা পরিত্যাগ করে এবং ফরজ সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে। (বুখারি, হাদিস : ১১৪৩)

হাদিসের মূল বার্তা

এই হাদিসটি মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবহেলার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে—

(১) কোরআন শিখে তা ত্যাগ করা, এবং
(২) ফরজ সালাত গাফলতের কারণে ছেড়ে দেওয়া।

মহানবী (সা.) তাঁর স্বপ্নে যে শাস্তিমূলক দৃশ্য দেখেছেন, তা এসব গাফেল ব্যক্তির ভবিষ্যৎ অবস্থার প্রতীকী রূপ।

পবিত্র কোরআন শিখে তার উপর আমল না করা মানে আল্লাহর দীপ্ত আলোকে নিজ হাতে নিভিয়ে ফেলা। আর ফরজ নামাজঘুম বা অলসতার অযুহাতে ত্যাগ করা মানে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো বড় গোনানে লিপ্ত হওয়া।এই স্বপ্নের বর্ণনা উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পবিত্র কোরআন শেখা শুধু তথ্য গ্রহণ নয়; বরং তা জীবনে ধারণ করাই প্রকৃত উদ্দেশ্য। আর নামাজ কখনোই গাফলতের কারণে ছেড়ে দেওয়া যায় না—এটি ঈমানের স্তম্ভ, জীবনকে শুদ্ধ রাখার প্রধান মাধ্যম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা

হাদিসের কথা কোরআন ত্যাগ ও নামাজ অবহেলার করুণ পরিণতি

আপডেট টাইম : ০৭:১১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

ইসলাম মানুষের আত্মশুদ্ধি ও আমলের দৃঢ়তার জন্য কেবল নির্দেশই দেয় না, বরং অবহেলা ও গাফলতের করুণ পরিণতি সম্পর্কেও দৃঢ়তার সহিত সতর্ক করে। পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর কালাম যা মানব জীবনে আলোর দিশারী ও নৈতিকতার চূড়ান্ত মানদণ্ড। আর ফরজ নামাজ মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সংযোগ স্থাপন ও রক্ষার সর্বোচ্চ মাধ্যম। কিন্তু যখন মানুষ অবহেলায় আলোর দিশারী এই কোরআন ও ফরজ নামাজ থেকে দূরে সরে যায় তখন সেই অবহেলা শুধু দুনিয়ার ব্যর্থতাই ডেকে আনে না, আখিরাতেও কঠিন পরিণতির সতর্ক বার্তা বহন করে।

মহানবী (সা.) স্বপ্নে দেখা কিছু দৃশ্য বর্ণনা করে উম্মতকে ঠিক সেই গাফেলতার বিপদ সম্পর্কে সাবধান করে দিয়েছেন-

 عَن سَمُرَة بْنُ جُنْدَبٍ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرُّؤْيَا قَالَ ‏ “‏ أَمَّا الَّذِي يُثْلَغُ رَأْسُهُ بِالْحَجَرِ فَإِنَّهُ يَأْخُذُ الْقُرْآنَ فَيَرْفِضُهُ وَيَنَامُ عَنِ الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ ‏”‏‏.‏

সামুরাহ ইবনে জুনদাব (রা.) সূত্রে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্বপ্ন বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেছেন, যে ব্যক্তির মাথা পাথর দিয়ে বিচূর্ণ করা হচ্ছিল, সে হল ঐ লোক যে কুরআন শিখে তা পরিত্যাগ করে এবং ফরজ সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে। (বুখারি, হাদিস : ১১৪৩)

হাদিসের মূল বার্তা

এই হাদিসটি মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবহেলার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে—

(১) কোরআন শিখে তা ত্যাগ করা, এবং
(২) ফরজ সালাত গাফলতের কারণে ছেড়ে দেওয়া।

মহানবী (সা.) তাঁর স্বপ্নে যে শাস্তিমূলক দৃশ্য দেখেছেন, তা এসব গাফেল ব্যক্তির ভবিষ্যৎ অবস্থার প্রতীকী রূপ।

পবিত্র কোরআন শিখে তার উপর আমল না করা মানে আল্লাহর দীপ্ত আলোকে নিজ হাতে নিভিয়ে ফেলা। আর ফরজ নামাজঘুম বা অলসতার অযুহাতে ত্যাগ করা মানে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো বড় গোনানে লিপ্ত হওয়া।এই স্বপ্নের বর্ণনা উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পবিত্র কোরআন শেখা শুধু তথ্য গ্রহণ নয়; বরং তা জীবনে ধারণ করাই প্রকৃত উদ্দেশ্য। আর নামাজ কখনোই গাফলতের কারণে ছেড়ে দেওয়া যায় না—এটি ঈমানের স্তম্ভ, জীবনকে শুদ্ধ রাখার প্রধান মাধ্যম।