ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
এভারকেয়ার হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক যুগে যুগে ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম প্রতিনিধি ফিরে দেখা ২০২৫ – বিজয়ের মাস ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন ওসমান হাদিকে দেখতে গিয়ে কাঁদলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ মেসির সঙ্গে দেখা করবেন বলিউড বাদশাহ ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে : জামায়াত আমির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে : সেনাপ্রধান পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা গেল কয়েকমাসে অন্তত ৮০ জনকে দেশের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করিয়েছে মিশরে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি বিচারক

পরের জমি দখলের পরিণাম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪ বার

নিয়ার জীবন খুব ছোট্ট। এই ছোট্ট জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি বাড়ানোর অদম্য আকাক্সক্ষায় মানুষ কত কিছুই না করে! সম্পদের নেশায় মত্ত হয়ে অন্যের হক নষ্ট করা, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধে জড়ানো এখন নিত্যদিনের ঘটনা। যে জমির মালিকানা নিয়ে মানুষ এত লড়াই করে, মৃত্যুর পর সেই জমিই মানুষের দেহকে গ্রাস করে নেয়। তবু মানুষ অন্যের হক কেড়ে নেওয়ার মতো ভয়াবহ জুলুম করতে পিছপা হয় না। দুনিয়াতে গায়ের জোরে পরের জমি দখল করে পার পেলেও আখেরাতে এর ভয়াবহ শাস্তি হবে। কখনো কখনো দুনিয়াতেও শাস্তি নেমে আসতে পারে।

সাঈদ ইবনে জায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল (রা.) থেকে বর্ণিত। আরওয়া (নামক এক মহিলা) বাড়ির কিছু অংশ নিয়ে তার সঙ্গে বিবাদ করে। তিনি বলেন, তোমরা ওকে ছেড়ে দাও এবং জমির দাবিও ত্যাগ করো। কারণ, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে কেউ বিনা অধিকারে এক বিঘত জমি জবর দখল করবে কেয়ামতের দিন তাকে ওই পরিমাণে সাত স্তর জমিনের বেড়ি পরিয়ে দেওয়া হবে। হে আল্লাহ! সে (আরওয়া) যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার চোখ অন্ধ করে দিন এবং তার ঘরেই তার কবর দাফন করুন।

বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তী সময়ে আমি আরওয়াকে অন্ধ অবস্থায় দেখেছি, প্রাচীরে আঘাত খেয়ে খেয়ে চলত। সে বলত, সাঈদ ইবনে জায়েদের বদদোয়া লেগেছে। একদিন সে বাড়ির মধ্যে চলাচল করছিল। বাড়ির মধ্যে এক কূপের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় সে তাতে পড়ে যায় এবং কূপই তার কবর হয়। (সহিহ মুসলিম ১৬১০) এ হাদিস থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও উপদেশ পাওয়া যায়।

জমির স্তর ও মালিকানা : মহান আল্লাহ ভূমিকে সাত স্তরবিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন এবং অনেক বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। জমির মালিকানা যার, ওপরের শূন্যমণ্ডল এবং নিচের গভীরতম স্তর পর্যন্ত অধিকার তার। কাজেই তার অনুমতি ছাড়া অন্য কারও জন্য সে জমির ওপর-নিচের স্তর ব্যবহার করা জায়েজ নয়।

জমি দখলের শাস্তি : অন্যের জমি কোনো অবস্থায় অন্যায়ভাবে দখল করা উচিত নয়। তাতে তার পরিমাণ যত কম হোক না কেন। এক বিঘত জমির জন্য সাত স্তর জমিনের শাস্তি গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। এটা কত ভয়ংকর শাস্তি হবে, তা কল্পনা করে শেষ করা যাবে না।

আল্লাহর ন্যায্য বিচার : দুনিয়ার আদালতে কাগজপত্র ও সাক্ষীর ওপর সিদ্ধান্ত হয়। কখনো প্রভাব খাটিয়ে রায় ভিন্ন খাতে নেওয়া যায়। কিন্তু আল্লাহর আদালতে এটা কারও পক্ষে সম্ভব। তিনি ন্যায্য ও সঠিক বিচার করেন। জুলুমকারী যদি দুনিয়াতে রক্ষা পেয়ে যায়ও আখেরাতের শাস্তি থেকে বাঁচার পথ নেই। আল্লাহ ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না।

সাহাবির বদদোয়া : আরওয়া বিনতে উওয়াইস নামে এক মহিলা বিখ্যাত সাহাবি সাঈদ ইবনে জায়েদ (রা.)-এর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করেছিলেন। গভর্নর মারওয়ান তদন্ত দল পাঠালে সাঈদ (রা.) তার অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে বদদোয়া করেছিলেন। মহান আল্লাহ সত্যবাদী সাহাবির দোয়া কবুল করেন। এ কারণেই ওই জালেম নারীকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিল।

সংঘাত পরিহার করা : জায়গা জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলা উচিত। যে পরিবারে জমি নিয়ে কলহ নেই, সেই পরিবারে প্রশান্তি থাকে। আর যেখানে বিরোধ সেখানেই থাকে অশান্তির আগুন। দুনিয়ার সামান্য জমির জন্য দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। মহান আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : খতিব ও মাদ্রাসাশিক্ষক

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এভারকেয়ার হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক

পরের জমি দখলের পরিণাম

আপডেট টাইম : ১০:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

নিয়ার জীবন খুব ছোট্ট। এই ছোট্ট জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি বাড়ানোর অদম্য আকাক্সক্ষায় মানুষ কত কিছুই না করে! সম্পদের নেশায় মত্ত হয়ে অন্যের হক নষ্ট করা, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধে জড়ানো এখন নিত্যদিনের ঘটনা। যে জমির মালিকানা নিয়ে মানুষ এত লড়াই করে, মৃত্যুর পর সেই জমিই মানুষের দেহকে গ্রাস করে নেয়। তবু মানুষ অন্যের হক কেড়ে নেওয়ার মতো ভয়াবহ জুলুম করতে পিছপা হয় না। দুনিয়াতে গায়ের জোরে পরের জমি দখল করে পার পেলেও আখেরাতে এর ভয়াবহ শাস্তি হবে। কখনো কখনো দুনিয়াতেও শাস্তি নেমে আসতে পারে।

সাঈদ ইবনে জায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল (রা.) থেকে বর্ণিত। আরওয়া (নামক এক মহিলা) বাড়ির কিছু অংশ নিয়ে তার সঙ্গে বিবাদ করে। তিনি বলেন, তোমরা ওকে ছেড়ে দাও এবং জমির দাবিও ত্যাগ করো। কারণ, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে কেউ বিনা অধিকারে এক বিঘত জমি জবর দখল করবে কেয়ামতের দিন তাকে ওই পরিমাণে সাত স্তর জমিনের বেড়ি পরিয়ে দেওয়া হবে। হে আল্লাহ! সে (আরওয়া) যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার চোখ অন্ধ করে দিন এবং তার ঘরেই তার কবর দাফন করুন।

বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তী সময়ে আমি আরওয়াকে অন্ধ অবস্থায় দেখেছি, প্রাচীরে আঘাত খেয়ে খেয়ে চলত। সে বলত, সাঈদ ইবনে জায়েদের বদদোয়া লেগেছে। একদিন সে বাড়ির মধ্যে চলাচল করছিল। বাড়ির মধ্যে এক কূপের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় সে তাতে পড়ে যায় এবং কূপই তার কবর হয়। (সহিহ মুসলিম ১৬১০) এ হাদিস থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও উপদেশ পাওয়া যায়।

জমির স্তর ও মালিকানা : মহান আল্লাহ ভূমিকে সাত স্তরবিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন এবং অনেক বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। জমির মালিকানা যার, ওপরের শূন্যমণ্ডল এবং নিচের গভীরতম স্তর পর্যন্ত অধিকার তার। কাজেই তার অনুমতি ছাড়া অন্য কারও জন্য সে জমির ওপর-নিচের স্তর ব্যবহার করা জায়েজ নয়।

জমি দখলের শাস্তি : অন্যের জমি কোনো অবস্থায় অন্যায়ভাবে দখল করা উচিত নয়। তাতে তার পরিমাণ যত কম হোক না কেন। এক বিঘত জমির জন্য সাত স্তর জমিনের শাস্তি গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। এটা কত ভয়ংকর শাস্তি হবে, তা কল্পনা করে শেষ করা যাবে না।

আল্লাহর ন্যায্য বিচার : দুনিয়ার আদালতে কাগজপত্র ও সাক্ষীর ওপর সিদ্ধান্ত হয়। কখনো প্রভাব খাটিয়ে রায় ভিন্ন খাতে নেওয়া যায়। কিন্তু আল্লাহর আদালতে এটা কারও পক্ষে সম্ভব। তিনি ন্যায্য ও সঠিক বিচার করেন। জুলুমকারী যদি দুনিয়াতে রক্ষা পেয়ে যায়ও আখেরাতের শাস্তি থেকে বাঁচার পথ নেই। আল্লাহ ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না।

সাহাবির বদদোয়া : আরওয়া বিনতে উওয়াইস নামে এক মহিলা বিখ্যাত সাহাবি সাঈদ ইবনে জায়েদ (রা.)-এর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করেছিলেন। গভর্নর মারওয়ান তদন্ত দল পাঠালে সাঈদ (রা.) তার অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে বদদোয়া করেছিলেন। মহান আল্লাহ সত্যবাদী সাহাবির দোয়া কবুল করেন। এ কারণেই ওই জালেম নারীকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিল।

সংঘাত পরিহার করা : জায়গা জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলা উচিত। যে পরিবারে জমি নিয়ে কলহ নেই, সেই পরিবারে প্রশান্তি থাকে। আর যেখানে বিরোধ সেখানেই থাকে অশান্তির আগুন। দুনিয়ার সামান্য জমির জন্য দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। মহান আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : খতিব ও মাদ্রাসাশিক্ষক