জুলাই–পরবর্তী রাজনীতিতে বদলে গেছে ভোটের সমীকরণ
এক সময়ের আওয়ামী লীগ–দুর্গ কিশোরগঞ্জে এবারের নির্বাচনী হাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমে আসায় মাঠে নতুন আশার আলো দেখছে বিএনপি। সংগঠন পুনর্গঠন ও প্রার্থী চূড়ান্তের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও গণঅধিকার পরিষদও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে জেলার সাতটির মধ্যে পাঁচ আসনে জিতেছিল বিএনপি। পরে সময়ের পালাবদলে ২০০৮ থেকে সব আসনই গেছে আওয়ামী লীগের ঝুলিতে। ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর এবার কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে সাজাতে চাইছে বিএনপি। ছয় আসনের মধ্যে চারটিতে ইতোমধ্যেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে দলটি। অন্যদিকে জামায়াত প্রতিটি আসনেই প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে।
কিশোরগঞ্জ–১ : আ.লীগের ঘাঁটিতে বহুপ্রার্থী, সুবিধায় জামায়াত
সদর–হোসেনপুর আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক নায়েবে আমির মোসাদ্দেক ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে সক্রিয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন— রেজাউল করিম খান চুন্নু, সাবেক এমপি মাসুদ হিলালী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ালীউল্লাহ রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সহসভাপতি রুহুল হোসাইন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান ও জহিরুল ইসলাম মবিন।
এ ছাড়া মাঠে আছেন গণঅধিকার পরিষদের আবু হানিফ, ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ আজিজুর রহমান, খেলাফত মজলিসের হিফজুর রহমান খান, জমিয়তের মুহাম্মদুল্লাহ জামী ও হেদায়েতুল্লাহ হাদী।
কিশোরগঞ্জ–২ : বিএনপির এডভোকেট জালাল, চ্যালেঞ্জে জামায়াত–খেলাফত–জমিয়ত
কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট জালাল উদ্দীন ।
জামায়াতের শফিকুল ইসলাম মোড়ল, খেলাফত মজলিসের ছাঈদ আহমদ, গণঅধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলাম শফিক, জমিয়তের রশীদ আহমদ জাহাঙ্গীর হোসাইনী প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ–৩ : ওসমান ফারুক বনাম জামায়াতের কর্নেল জিহাদ
করিমগঞ্জ–তাড়াইল আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক।
জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় সাবেক সিএমএইচ বিশেষজ্ঞ কর্নেল (অব.) ডা. জিহাদ খান, যিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের শ্যালক।
ইসলামী আন্দোলনের আলমগীর তালুকদার, খেলাফত মজলিসের আতাউর রহমান শাহান, জমিয়তের আবু বকর সিদ্দিকও আছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
কিশোরগঞ্জ–৪ : আলোচিত এডভোকেট ফজলুর রহমানকে নিয়ে সরগরম ভোটের মাঠ
ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম আসনে বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান।
জামায়াতের প্রার্থী শেখ রোকন রেজা, খেলাফত মজলিসের অলিউর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের বিল্লাল মজুমদার ও জমিয়তের আনোয়ারুল ইসলামের তৎপরতা বাড়ছে।
কিশোরগঞ্জ–৫ : জাতীয় দলের জন্য আসন ‘খালি’, বিএনপির ভিন্ন সমীকরণ
নিকলী–বাজিতপুর আসনটি সৈয়দ এহসানুল হুদার জন্য খালি রেখেছে বিএনপি । ফলে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তাকে সমর্থন জানাচ্ছেন।
একই সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল গণসংযোগ জোরদার করেছেন।
জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ রমজান আলী, খেলাফত মজলিসের আব্দুল আহাদ, জমিয়তের দিলাওয়ার হোসাইন নূরী—এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমও প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ–৬ : পাপনের আসনে বিএনপির শরীফুল আলম, মাঠে বহু প্রতিদ্বন্দ্বী
ভৈরব–কুলিয়ারচর আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা সভাপতি শরীফুল আলম।
জামায়াতের মোহাম্মদ কবীর হোসাইন, জমিয়তের লাইস উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের সাইফুল ইসলাম সাহেল, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ মুছা খান সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় আছেন।
সার্বিক চিত্র:
এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ–ঘাঁটি কিশোরগঞ্জে তৈরি হয়েছে বহু-মেরুকরণ নিয়ে।
একদিকে বিএনপি ও জামায়াত, অন্যদিকে ইসলামী দলগুলো—সব মিলিয়ে জেলায় প্রতিটি আসনেই হচ্ছে ত্রিমুখী ও চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
জুলাই–উত্তর বাস্তবতায় এখানকার ভোটের।
Reporter Name 
























