ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

দুঃসময়ে দল ছাড়েননি মেজর (অব.)আখতারুজ্জামান রঞ্জন—বহিষ্কৃত হয়েও লড়েছিলেন খালেদা জিয়ার মুক্তির পক্ষে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৫৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১২৮ বার

Oplus_16908288

বহিষ্কৃত হয়েও খালেদা জিয়ার মুক্তির লড়াইয়ে অটল ছিলো—রাজনীতিতে ফিরে আসছেন নতুন শক্তি নিয়ে? 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুঃসময়, চাপ ও ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুহূর্তে যখন অনেক নেতৃত্ব আড়ালে চলে যায়—সেই সময়ে একজন নেতাকে বারবার রাজপথে দেখা গেছে। তিনি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা যেমন আলোচিত, তেমনি নানা বিতর্কের মাঝেও তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন দৃঢ়তার সঙ্গে।

দলের দুঃসময়ে রক্ত দিয়ে পাশে—রঞ্জনের রাজনৈতিক যাত্রার শক্ত ভিত্তি:

২০০৮ ও ২০১৮—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে অস্থির দুটি সময়।
এই সময়টি বিএনপি ও বিরোধী রাজনীতির জন্য ছিল ভয়াবহ চাপের।
নেতাকর্মীদের ওপর গ্রেপ্তার, হামলা, নির্যাতন ও মামলার ঝড় চলছিল সর্বত্র।

এই কঠিন সময়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন শুধু মুখে নয়, শরীরে রক্ত দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দলের পাশে—এমন দাবি তার ঘনিষ্ঠজন ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের।
কেউ হাসপাতালে, কেউ পথে—যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই রক্তদানে এগিয়ে এসেছেন তিনি।

একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য এটি নিছক সহমর্মিতা নয়; এটি তাঁর দলের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ—যা আজও তাঁর পরিচয়ের মূল ভিত্তি হয়ে আছে।

বহিষ্কারাদেশ—তবুও আন্দোলন থামেনি:

দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে মতবিরোধ, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং সত্য উচ্চারণের কারণে বিএনপি তাঁকে বহিষ্কার করে।
কিন্তু বহিষ্কারাদেশ তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় কোনো বিরতি আনেনি।

বহিষ্কৃত হয়েও তিনি:

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নিয়মিত মিছিলে

বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় মানববন্ধন ও পথসভায়

দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও বক্তব্যে সোস্যালমিডিয়ায়

স্থানীয় সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে মাঠপর্যায়ে

অবিচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় থেকেছেন।

রাজনীতিতে বহিষ্কৃত হওয়া সাধারণত নেতাকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
কিন্তু মেজর (অব.) আখতার সেই সব প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে নিজের অবস্থান আরও জোরালো করেছেন।

“সত্য বলার কারণেই আজ আমি বহিষ্কৃত”—রঞ্জনের অবস্থান;

নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি কখনোই স্বীকার করেননি।
বরং তাঁর দাবি—

সত্য কথাই বলেছি। দল, নেতা, দেশ—যার যেখানে ভুল, তা না বললে উন্নতি হবে না। আর এই সত্য বলার কারণেই আমি দল থেকে বহিষ্কৃত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,
বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘সত্য বলা’ প্রায়ই দলীয় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মেজর (অব.) আখতার সেই অস্বস্তির মুখোমুখি হয়েও পিছপা হননি।

খালেদা জিয়ার মুক্তিই তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু:

দল ছাড়ার পরেও তিনি যে বিএনপির আদর্শ ও নেতৃত্বের সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত রাখেন—তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ তাঁর বক্তব্য:

দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যই আমার সকল রাজনৈতিক লড়াই।

বহিষ্কৃত হলেও তিনি:

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি
বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি
রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকার পুনর্বহাল
গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ

এসব বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কথা বলে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়,
রঞ্জনের লড়াই আসলে আইডিয়া ও নীতির লড়াই, যা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য।

বিতর্কে থাকতে হলেও মাঠে তাঁর জনপ্রিয়তা অটুট:

বহিষ্কার, অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপ—সবকিছু সত্ত্বেও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি।
বরং—

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের লোকজনের মধ্যে
যুবসমর্থক ও তরুণ ভোটারদের কাছে
তিনি এখনও শক্ত অবস্থানে আছেন।

অনেকে তাঁকে বলেন :

বিতর্কিত কিন্তু নির্ভীক একজন নেতা।

রাজনীতির নতুন অধ্যায়—আবারও মাঠে ফিরবে রঞ্জন :

সম্প্রতি নানা রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন বাস্তবতায় তিনি আবারো সক্রিয় হচ্ছেন উল্লেখযোগ্য ভাবে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি যত পাল্টাচ্ছে, ততই তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে :

দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করা
সত্য কথা বলায় সৎ ভাবমূর্তি
মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা
এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা

সব মিলিয়ে তাঁর সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।

সংক্ষেপে—কেন আলোচনায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন?

দুঃসময়ে রক্ত দিয়ে দলের পাশে ছিলেন
বহিষ্কৃত হয়েও আন্দোলন চালিয়ে গেছেন
সত্য কথা বলাকে রাজনৈতিক নীতি হিসেবে মানেন
খালেদা জিয়ার মুক্তিকে রাজনীতির কেন্দ্র করেছেন
এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা আগের মতোই শক্ত
নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি আবার আলোচনায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওরে কৃষক বিপর্যয়: ক্ষতিগ্রস্তদের ৩ মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

দুঃসময়ে দল ছাড়েননি মেজর (অব.)আখতারুজ্জামান রঞ্জন—বহিষ্কৃত হয়েও লড়েছিলেন খালেদা জিয়ার মুক্তির পক্ষে

আপডেট টাইম : ০১:৫৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

বহিষ্কৃত হয়েও খালেদা জিয়ার মুক্তির লড়াইয়ে অটল ছিলো—রাজনীতিতে ফিরে আসছেন নতুন শক্তি নিয়ে? 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুঃসময়, চাপ ও ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুহূর্তে যখন অনেক নেতৃত্ব আড়ালে চলে যায়—সেই সময়ে একজন নেতাকে বারবার রাজপথে দেখা গেছে। তিনি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা যেমন আলোচিত, তেমনি নানা বিতর্কের মাঝেও তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন দৃঢ়তার সঙ্গে।

দলের দুঃসময়ে রক্ত দিয়ে পাশে—রঞ্জনের রাজনৈতিক যাত্রার শক্ত ভিত্তি:

২০০৮ ও ২০১৮—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে অস্থির দুটি সময়।
এই সময়টি বিএনপি ও বিরোধী রাজনীতির জন্য ছিল ভয়াবহ চাপের।
নেতাকর্মীদের ওপর গ্রেপ্তার, হামলা, নির্যাতন ও মামলার ঝড় চলছিল সর্বত্র।

এই কঠিন সময়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন শুধু মুখে নয়, শরীরে রক্ত দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দলের পাশে—এমন দাবি তার ঘনিষ্ঠজন ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের।
কেউ হাসপাতালে, কেউ পথে—যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই রক্তদানে এগিয়ে এসেছেন তিনি।

একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য এটি নিছক সহমর্মিতা নয়; এটি তাঁর দলের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ—যা আজও তাঁর পরিচয়ের মূল ভিত্তি হয়ে আছে।

বহিষ্কারাদেশ—তবুও আন্দোলন থামেনি:

দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে মতবিরোধ, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং সত্য উচ্চারণের কারণে বিএনপি তাঁকে বহিষ্কার করে।
কিন্তু বহিষ্কারাদেশ তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় কোনো বিরতি আনেনি।

বহিষ্কৃত হয়েও তিনি:

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নিয়মিত মিছিলে

বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় মানববন্ধন ও পথসভায়

দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও বক্তব্যে সোস্যালমিডিয়ায়

স্থানীয় সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে মাঠপর্যায়ে

অবিচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় থেকেছেন।

রাজনীতিতে বহিষ্কৃত হওয়া সাধারণত নেতাকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
কিন্তু মেজর (অব.) আখতার সেই সব প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে নিজের অবস্থান আরও জোরালো করেছেন।

“সত্য বলার কারণেই আজ আমি বহিষ্কৃত”—রঞ্জনের অবস্থান;

নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি কখনোই স্বীকার করেননি।
বরং তাঁর দাবি—

সত্য কথাই বলেছি। দল, নেতা, দেশ—যার যেখানে ভুল, তা না বললে উন্নতি হবে না। আর এই সত্য বলার কারণেই আমি দল থেকে বহিষ্কৃত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,
বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘সত্য বলা’ প্রায়ই দলীয় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মেজর (অব.) আখতার সেই অস্বস্তির মুখোমুখি হয়েও পিছপা হননি।

খালেদা জিয়ার মুক্তিই তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু:

দল ছাড়ার পরেও তিনি যে বিএনপির আদর্শ ও নেতৃত্বের সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত রাখেন—তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ তাঁর বক্তব্য:

দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যই আমার সকল রাজনৈতিক লড়াই।

বহিষ্কৃত হলেও তিনি:

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি
বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি
রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকার পুনর্বহাল
গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ

এসব বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কথা বলে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়,
রঞ্জনের লড়াই আসলে আইডিয়া ও নীতির লড়াই, যা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য।

বিতর্কে থাকতে হলেও মাঠে তাঁর জনপ্রিয়তা অটুট:

বহিষ্কার, অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপ—সবকিছু সত্ত্বেও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি।
বরং—

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের লোকজনের মধ্যে
যুবসমর্থক ও তরুণ ভোটারদের কাছে
তিনি এখনও শক্ত অবস্থানে আছেন।

অনেকে তাঁকে বলেন :

বিতর্কিত কিন্তু নির্ভীক একজন নেতা।

রাজনীতির নতুন অধ্যায়—আবারও মাঠে ফিরবে রঞ্জন :

সম্প্রতি নানা রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন বাস্তবতায় তিনি আবারো সক্রিয় হচ্ছেন উল্লেখযোগ্য ভাবে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি যত পাল্টাচ্ছে, ততই তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে :

দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করা
সত্য কথা বলায় সৎ ভাবমূর্তি
মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা
এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা

সব মিলিয়ে তাঁর সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।

সংক্ষেপে—কেন আলোচনায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন?

দুঃসময়ে রক্ত দিয়ে দলের পাশে ছিলেন
বহিষ্কৃত হয়েও আন্দোলন চালিয়ে গেছেন
সত্য কথা বলাকে রাজনৈতিক নীতি হিসেবে মানেন
খালেদা জিয়ার মুক্তিকে রাজনীতির কেন্দ্র করেছেন
এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা আগের মতোই শক্ত
নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি আবার আলোচনায়।