নিম্নে কোরআন তিলাওয়াতকারীর বিশেষ ১০ মর্যাদার কথা বর্ণনা করা হলো—
সর্বশেষ্ঠ মানুষ
সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আছে।
Reporter Name নিম্নে কোরআন তিলাওয়াতকারীর বিশেষ ১০ মর্যাদার কথা বর্ণনা করা হলো—
সর্বশেষ্ঠ মানুষ
সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময় সাহাবায়ে কেরামকে নানা উদাহরণের মাধ্যমে দ্বিন শিক্ষা দিতেন। যেমন তিনি অন্য মুমিনের চেয়ে কোরআন তিলাওয়াতকারী মুমিনের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার সময় শিক্ষা দিয়েছিলেন।
কোরআনের জ্ঞানে পারদর্শী ব্যক্তির মর্যাদা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে বৃদ্ধি পায়। নাফে বিন আব্দুল হারিস (রা.) উসফান নামক স্থানে উমর (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য গেলেন।
আসমান ও জমিনে উচ্চ সম্মান অর্জন
কোরআন নিঃসন্দেহে ইহকাল ও পরকালে উচ্চ সম্মান অর্জনের সোপান। ফলে কোরআন তিলাওয়াতকারীর সুনাম আসমানে ও জমিনে ছড়িয়ে পড়ে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোরআন তিলাওয়াতকে তুমি আবশ্যক করে নাও। কেননা এটি তোমার জন্য জমিনে আলোকবর্তিকা ও আসমানে ধনভাণ্ডারস্বরূপ।’ (সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস : ৩৬১)
গাফেলদের তালিকা থেকে মুক্তি
নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতে ঈমান মজবুত হয়। অন্তরের মরিচা বিদূরিত হয়। এমনকি উদাসীনতার কুহক থেকে মুক্ত হয়ে সোচ্চার ও শক্তিশালী মুমিনে রূপান্তরিত হওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘…আর যে ব্যক্তি রাতে ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করবে, গাফেলদের তালিকায় তার নাম লেখা হবে না অথবা তার নাম বিনয়ীদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে।’
(সহিহ ইবনু খুজায়মাহ, হাদিস : ১১৪২)
তিলাওয়াতকারীর পাপ নেকিতে পরিবর্তিত হয়
পৃথিবীর বুকে এমন কোনো গ্রন্থ নেই, যা পাঠ করলে পাপ ক্ষমা করা হয় এবং তাদের কৃত পাপ নেকিতে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু কোরআন মাজিদ তিলাওয়াত করলে আল্লাহ তাকে সব গুনাহ থেকে মুক্ত করবেন। কেননা আল্লাহকে স্মরণের অন্যতম মাধ্যম হলো কোরআন নিয়ে আলোচনা করা। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো জনসমষ্টি আল্লাহকে স্মরণের উদ্দেশ্যে একত্র হয়, অতঃপর পৃথক হয়, তখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা পাপ থেকে ক্ষমাকৃত অবস্থায় দণ্ডায়মান হও। কেননা তোমাদের পাপকে পুণ্য দিয়ে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ১২৪৭৬)
ঈমানি জ্যোতির বিকিরণ
জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার ঈমান শাণিত থাকে এবং এ সময়ের সব ফিতনা থেকে আল্লাহ তাকে হেফাজত করেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করে, তার ঈমানি জ্যোতির বিকিরণ থাকবে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত।’ (মুসতাদরাক হাকেম, হাদিস : ৩৩৯২; সহিহুত তারগিব, হাদিস : ৭৩৬)
কোরআনের ধারক জাহান্নামে যাবে না
কোরআনের ধারক-পাঠক জাহান্নামে দগ্ধীভূত হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা কোরআন পাঠ করো। আর বাড়িতে সংরক্ষিত কোরআন যেন তোমাদের প্রতারিত না করে। কেননা আল্লাহ ওই অন্তরকে কখনো শাস্তি দেবেন না, যা কোরআনের সংরক্ষক।’ (দারেমি, হাদিস : ৩৩১৯)
সম্মানিত লেখক ফেরেশতাদের মর্যাদা লাভ
দক্ষ তিলাওয়াতকারী ও অদক্ষ তিলাওয়াতকারীর ভিন্ন ভিন্ন ফজিলত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোরআনে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত পুণ্যবান লিপিকার ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবেন। আর যে ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করে, কিন্তু আটকে যায় এবং তার জন্য তিলাওয়াত কষ্টকর হয়, তবে তার জন্য দ্বিগুণ নেকি আছে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৯৩৭)
এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, যারা দক্ষতার সঙ্গে কোরআন তিলাওয়াত করতে সক্ষম তারা আমল লিপিবদ্ধকারী সম্মানিত ফেরেশতাদের সঙ্গে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জন করবে।
জান্নাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ
কোরআন মাজিদ তিলাওয়াতকারীর জন্য জান্নাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা আছে। কোরআনের পাঠক আয়াত মুখস্থ রাখার সংখ্যা বরাবর জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করবেন। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হবে, কোরআন তিলাওয়াত করো এবং ওপরে উঠতে থাকো। দুনিয়ায় তুমি যেভাবে ধীরে-সুস্থে তিলাওয়াত করতে, সেভাবে তিলাওয়াত করো। কেননা তিলাওয়াতের শেষ আয়াত সংখ্যায় জান্নাতে তোমার বাসস্থান হবে।’