ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোরআনে বর্ণিত যে আমলে রিজিক বাড়ে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭২ বার

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি যথার্থভাবে ভরসা রাখো। তিনি তোমাদের সেভাবে রিজিক দান করবেন, যেভাবে তিনি পাখিদের দান করে থাকেন।

রিজিক, হায়াত, ধন-সম্পদ ও কল্যাণের জন্য অনেক আমলই কোরআন-সুন্নায় উল্লেখ রয়েছে।

কোরআনে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে রিজিক বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিনিময়ে একটি আমল করতে বলেছেন তিনি। তাহলো-

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِهٖ وَ یَقۡدِرُ لَهٗ ؕ وَ مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَهُوَ یُخۡلِفُهٗ ۚ وَ هُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ

‘(হে রাসুল! আপনি) বলুন, ‘নিশ্চয়ই আমার রব তার বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর; তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা : আয়াত ৩৯)

কত সুন্দর ও সুস্পষ্ট ঘোষণা এটি। আমলটি হলো- আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে তারই পথে ব্যয় করা। যারা আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে ব্যয় করবে; আল্লাহ তাআলা তাদের বিনিময় দেবেন। আর সেই বিনিময় হলো উত্তম রিজিক।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার আদেশ অনুযায়ী ব্যয় করবে, তিনি নিজ দায়িত্বে তাকে বিনিময় দেওয়ার দায়িত্বে গ্রহণ করেছেন।

হাদিসে আছে

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রতিদিন ভোরে দুইজন ফেরেশতা নাজিল হয়। তাদের একজন এ দোয়া করতে থাকে যে ‘হে আল্লাহ! আপনি ব্যয়কারীকে প্রতিফল দিন।’ আরেকজন দোয়া করতে থাকে যে ‘হে আল্লাহ! যে ব্যয় করে না তার সম্পদ ধ্বংস করে দিন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিস থেকেও প্রমাণিত যে আল্লাহর পথে ব্যয় করার গুরুত্ব কতবেশি। আর দান না করার ক্ষতিও কত মারাত্মক!

মনে রাখতে হবে

ধন-সম্পদ কম-বেশি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির কারণ নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা মুমিন-মুশরিক সবাইকে ধন-সম্পদ ও রিজিক দেন। অনেক সময় কাফের-মুশরিকদের অনেক বেশি সম্পদ দেন। কিন্তু কেন? তাদেরকে ঢিল বা অবকাশ দেওয়ার জন্য। পক্ষান্তরে কখনো মুমিনকে অভাব-অনটন দেন। কিন্তু কেন? মুমিনের নেকি বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এর মাঝেও যারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করবে, আল্লাহ তাআলা তাদের রিজিক দেবেন।

কাউকে দান করা কিংবা কারো জন্য খরচ করা মহান আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ। আর এ অনুগ্রহের কারণেই দানের আমলে মহান আল্লাহ বান্দাকে রিজিক বাড়িয়ে দেন। হাদিসে কুদসিতে এসেছে-

‘আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি খরচ করো; আমি তোমার জন্য খরচ করব। (অর্থাৎ তোমার খরচের বিনিময় দেব)।’ (বুখারি)

আবার বান্দাকে অভাবমুক্ত থাকার জন্য আল্লাহ তাআলা একটি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। অভাব মোচনে যে দোয়াটি আমরা বেশি বেশি পড়বে; তাহলো-

اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَاء تَكُونُ لَنَا عِيداً لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা আনযিল আলাইনা মায়িদাতাম মিনাস সামায়ি তাকুনু লানা ঈদাল্লি আওওয়ালিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াতাম মিনকা ওয়ারযুকনা ওয়া আনতা খায়রুর রাযিকিন।’ (সুরা মায়েদা: আয়াত ১১৪)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরআনে বর্ণিত যে আমলে রিজিক বাড়ে

আপডেট টাইম : ১১:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি যথার্থভাবে ভরসা রাখো। তিনি তোমাদের সেভাবে রিজিক দান করবেন, যেভাবে তিনি পাখিদের দান করে থাকেন।

রিজিক, হায়াত, ধন-সম্পদ ও কল্যাণের জন্য অনেক আমলই কোরআন-সুন্নায় উল্লেখ রয়েছে।

কোরআনে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে রিজিক বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিনিময়ে একটি আমল করতে বলেছেন তিনি। তাহলো-

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِهٖ وَ یَقۡدِرُ لَهٗ ؕ وَ مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَهُوَ یُخۡلِفُهٗ ۚ وَ هُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ

‘(হে রাসুল! আপনি) বলুন, ‘নিশ্চয়ই আমার রব তার বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর; তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা : আয়াত ৩৯)

কত সুন্দর ও সুস্পষ্ট ঘোষণা এটি। আমলটি হলো- আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে তারই পথে ব্যয় করা। যারা আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে ব্যয় করবে; আল্লাহ তাআলা তাদের বিনিময় দেবেন। আর সেই বিনিময় হলো উত্তম রিজিক।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার আদেশ অনুযায়ী ব্যয় করবে, তিনি নিজ দায়িত্বে তাকে বিনিময় দেওয়ার দায়িত্বে গ্রহণ করেছেন।

হাদিসে আছে

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রতিদিন ভোরে দুইজন ফেরেশতা নাজিল হয়। তাদের একজন এ দোয়া করতে থাকে যে ‘হে আল্লাহ! আপনি ব্যয়কারীকে প্রতিফল দিন।’ আরেকজন দোয়া করতে থাকে যে ‘হে আল্লাহ! যে ব্যয় করে না তার সম্পদ ধ্বংস করে দিন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিস থেকেও প্রমাণিত যে আল্লাহর পথে ব্যয় করার গুরুত্ব কতবেশি। আর দান না করার ক্ষতিও কত মারাত্মক!

মনে রাখতে হবে

ধন-সম্পদ কম-বেশি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির কারণ নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা মুমিন-মুশরিক সবাইকে ধন-সম্পদ ও রিজিক দেন। অনেক সময় কাফের-মুশরিকদের অনেক বেশি সম্পদ দেন। কিন্তু কেন? তাদেরকে ঢিল বা অবকাশ দেওয়ার জন্য। পক্ষান্তরে কখনো মুমিনকে অভাব-অনটন দেন। কিন্তু কেন? মুমিনের নেকি বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এর মাঝেও যারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করবে, আল্লাহ তাআলা তাদের রিজিক দেবেন।

কাউকে দান করা কিংবা কারো জন্য খরচ করা মহান আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ। আর এ অনুগ্রহের কারণেই দানের আমলে মহান আল্লাহ বান্দাকে রিজিক বাড়িয়ে দেন। হাদিসে কুদসিতে এসেছে-

‘আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি খরচ করো; আমি তোমার জন্য খরচ করব। (অর্থাৎ তোমার খরচের বিনিময় দেব)।’ (বুখারি)

আবার বান্দাকে অভাবমুক্ত থাকার জন্য আল্লাহ তাআলা একটি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। অভাব মোচনে যে দোয়াটি আমরা বেশি বেশি পড়বে; তাহলো-

اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَاء تَكُونُ لَنَا عِيداً لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা আনযিল আলাইনা মায়িদাতাম মিনাস সামায়ি তাকুনু লানা ঈদাল্লি আওওয়ালিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াতাম মিনকা ওয়ারযুকনা ওয়া আনতা খায়রুর রাযিকিন।’ (সুরা মায়েদা: আয়াত ১১৪)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।