মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহর পরীক্ষা। কেউ ইবাদতের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জন করে, কেউ আবার গুনাহে লিপ্ত হয়ে ধ্বংসের পথে চলে যায়। আমাদের মাঝে একটি প্রচলিত ধারণা হলো—যত বেশি নফল ইবাদত করা যায়, ততই আল্লাহর কাছে মর্যাদা বাড়ে। নামাজ, রোজা, হজ, উমরা, সাদকা—সবকিছুতেই নফল আমল যেনো অশেষ পুণ্যের ভাণ্ডার।
আসলে নফল ইবাদত করলে ধন্যবাদ পাওয়া যায়, সওয়াব মেলে, আখেরাতে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়—এটাই এর পুরস্কার।
ভাবুন, একজন মানুষ ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুআক্কাদা যথাযথভাবে আদায় করেছে। সে আলস্য বা উদাসীনতাকে স্থান দেয়নি। কিন্তু সে খুব বেশি নফল নামাজ, নফল রোজা, নফল হজ কিংবা নফল সাদকা করেনি। তবে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার পূর্ণ চেষ্টা করেছে। আল্লাহ তাআলার রহমতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে বলা যায়, এ ব্যক্তির নাজাত নিশ্চিত হওয়ারই কথা।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন,
“ترك المعاصي أحب إلى الله من كثرة النوافل.”
অর্থাৎ, নফল ইবাদত অধিক করার চেয়ে গুনাহ ত্যাগ করা আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়।
অতএব, নফল ইবাদত নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ, কিন্তু গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা তার থেকেও মহান। কারণ গুনাহ ত্যাগ করলে আল্লাহর রহমত লাভ হয়, অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং নফল আমলের আসল স্বাদও পরিপূর্ণ হয়।
আজকের সমাজে আমরা অনেককে দেখি, যারা নফল ইবাদতে মশগুল, কিন্তু মিথ্যা, প্রতারণা, পরনিন্দা, সুদ বা অপকর্ম থেকে নিজেদের বিরত রাখে না। এর ফলে তাদের ইবাদতের আসল বরকত নষ্ট হয়ে যায়। তাই ইবাদতের পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—গুনাহ থেকে সম্পূর্ণভাবে বেঁচে থাকা।
ইবাদত আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের উপায়, আর গুনাহ থেকে বিরত থাকা আল্লাহর গজব থেকে রক্ষার ঢাল। এই দুটোর সমন্বয়েই মানুষ প্রকৃত মুত্তাকি হতে পারে। তবে এর মধ্যে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হলো সেই ইবাদত, যা নফলের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
Reporter Name 

























