বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুজন শোক প্রকাশ করছেন।
গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সুপারস্টার শাকিব খানও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাকিব খান লিখেছেন, লোকসংগীতের দেশবরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি ছিলেন আমাদের লালনগীতি, নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের এক উজ্জ্বল দীপ্তি, যার কণ্ঠে ছিল বাংলার মাটি, মানুষের আত্মা ও সংস্কৃতির স্পন্দন। তার অনন্য সাধনা ও সুরের ছোঁয়া আমাদের হৃদয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ওস্তাদ গাজী আব্দুল হাকিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শনিবার সকালে ফরিদা পারভীনের মরদেহ ‘অচিন পাখি’ নামে গানের স্কুলে নেওয়া হবে। এরপর সকাল ৯টায় তেজকুনি পাড়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, শিল্পী, কলাকুশলীসহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা জানানো শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে।
ফরিদা পারভীনের লালনের গানের বাণী ও সুরকে জনপ্রিয় করার অবদান সর্বজনস্বীকৃত। তিনি দেশের পাশাপাশি জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশে লালনসংগীত পরিবেশন করেছেন। লালনসংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক পান।
ফরিদা পারভীন ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ সিনেমার ‘নিন্দার কাঁটা’ গানটির জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (নারী) হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তিনি জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন। লালনশিল্পী হিসেবে সুপরিচিত হলেও, তাঁর কণ্ঠে বেশ কিছু আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানও জনপ্রিয় হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদির নাম’, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ ইত্যাদি।
Reporter Name 

























