ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়াকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় আওয়ামী লীগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ নভেম্বর ২০১৬
  • ৩২৫ বার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি ভয় পায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনির্য়াস ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে মহিলাদলের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য যে জায়গা চেয়েছিল আওয়ামী লীগ অন্যায় ভাবে বিএনপিকে সে জায়গা দেয়নি। আমরা জানি আওয়ামী লীগ জনগণকে ভয় পায়। বিএনপিকে ভয় পায়, আমরা এটাও জানি আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়াকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। খালেদা জিয়া হচ্ছেন সেই নেত্রী যিনি রাস্তায় বেরিয়ে আসলে জনগণের সামনে দাড়ালে, জনগণ তাঁর সঙ্গে এসে দাড়ায়। যেহেতু খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্ব করে প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাই আজকে সেই নেত্রী যাতে করে বক্তব্য রাখতে না পারেন, জনগণের কাছে যেতে না পারেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রিয় দল বিএনপি যাতে জনগণের কাছে যেতে না পারে, সেজন্য সকল পরিকল্পনা, চক্রান্ত্র ও অপচেষ্টা চলেছে। কারণ আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করবে। তারা দেশপ্রেমিক মানুষদের স্তব্ধ করে দেবে। বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে, পত্রপত্রিকা বন্ধ করেছে আরো করবে এবং সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় তারা।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, গত দুই দিন আগে ব্রাম্মণবাড়িয়াতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি গ্রাম আর মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে। এর পরপরেই উচিত ছিল সরকারের সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সে ব্যবস্থা তারা তো গ্রহণ করেনি অন্য দিকে আমরা দেখেছি একজন মন্ত্রী কিভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। এদিকে গতরাতে এতো পুলিশ ও র‌্যাবের নিরাপত্তা বেষ্ঠনির মধ্যে আরো ৫টি বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। মানুষ এতো বোকা নয়, খুব সহজেই বোঝা যায় অত্যন্ত সুপরিকল্পীতভাবেই আপনাদের ( আওয়ামী লীগ সরকার) প্ররোচনাতেই বাংলাদেশে এমন একটি অবস্থা তৈরি করতে চাচ্ছেন যে অবস্থার মধ্যে দিয়ে সাম্প্রতিক উস্কানী সৃষ্টি করছেন।

তিনি বলেন, স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই আমরা অতীতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষা করেছি। বাংলাদেশের মানুষ সাম্পদায়িক সম্প্রতি চায়। এখানে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জনগণের গণতন্ত্রকে আদায় করার যে আন্দোলন সেটা বিছিন্ন করে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য কোনো অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।

এসময় মহিলাদলের নতুন নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অধিকার ফিওে পেতে সর্বাত্ক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর সে জন্য আপনারা কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় জেলায় গিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করবেন। ঢাকায় বসে কোনো কমিটি দিবে না।

মহিলাদলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং মহিলাদলের নেত্রী হেলেন জেরিন খান, পেয়ারা মোস্তফা, আমেনা বেগম, রাজিয়া আলিম, আসমা আফরিন, সাধারণ সম্পাদক শামসুন নাহার বেগম এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা মহিলা দলে আহ্বায়ক রহিমা শিকদার, ফেনী জেলা মহিলা দলের সভাপতি জুলেকা আক্তার, চাদপুর জেলা মহিলাদলের সভাপতি মনিরা বেগম চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহনাজ পারভীন, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ সাংগঠনিক সেলিনা পারভীন, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়াকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় আওয়ামী লীগ

আপডেট টাইম : ১২:১৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ নভেম্বর ২০১৬

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি ভয় পায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনির্য়াস ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে মহিলাদলের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য যে জায়গা চেয়েছিল আওয়ামী লীগ অন্যায় ভাবে বিএনপিকে সে জায়গা দেয়নি। আমরা জানি আওয়ামী লীগ জনগণকে ভয় পায়। বিএনপিকে ভয় পায়, আমরা এটাও জানি আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়াকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। খালেদা জিয়া হচ্ছেন সেই নেত্রী যিনি রাস্তায় বেরিয়ে আসলে জনগণের সামনে দাড়ালে, জনগণ তাঁর সঙ্গে এসে দাড়ায়। যেহেতু খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্ব করে প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাই আজকে সেই নেত্রী যাতে করে বক্তব্য রাখতে না পারেন, জনগণের কাছে যেতে না পারেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রিয় দল বিএনপি যাতে জনগণের কাছে যেতে না পারে, সেজন্য সকল পরিকল্পনা, চক্রান্ত্র ও অপচেষ্টা চলেছে। কারণ আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করবে। তারা দেশপ্রেমিক মানুষদের স্তব্ধ করে দেবে। বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে, পত্রপত্রিকা বন্ধ করেছে আরো করবে এবং সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় তারা।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, গত দুই দিন আগে ব্রাম্মণবাড়িয়াতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি গ্রাম আর মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে। এর পরপরেই উচিত ছিল সরকারের সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সে ব্যবস্থা তারা তো গ্রহণ করেনি অন্য দিকে আমরা দেখেছি একজন মন্ত্রী কিভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। এদিকে গতরাতে এতো পুলিশ ও র‌্যাবের নিরাপত্তা বেষ্ঠনির মধ্যে আরো ৫টি বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। মানুষ এতো বোকা নয়, খুব সহজেই বোঝা যায় অত্যন্ত সুপরিকল্পীতভাবেই আপনাদের ( আওয়ামী লীগ সরকার) প্ররোচনাতেই বাংলাদেশে এমন একটি অবস্থা তৈরি করতে চাচ্ছেন যে অবস্থার মধ্যে দিয়ে সাম্প্রতিক উস্কানী সৃষ্টি করছেন।

তিনি বলেন, স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই আমরা অতীতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষা করেছি। বাংলাদেশের মানুষ সাম্পদায়িক সম্প্রতি চায়। এখানে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জনগণের গণতন্ত্রকে আদায় করার যে আন্দোলন সেটা বিছিন্ন করে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য কোনো অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।

এসময় মহিলাদলের নতুন নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অধিকার ফিওে পেতে সর্বাত্ক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর সে জন্য আপনারা কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় জেলায় গিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করবেন। ঢাকায় বসে কোনো কমিটি দিবে না।

মহিলাদলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং মহিলাদলের নেত্রী হেলেন জেরিন খান, পেয়ারা মোস্তফা, আমেনা বেগম, রাজিয়া আলিম, আসমা আফরিন, সাধারণ সম্পাদক শামসুন নাহার বেগম এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা মহিলা দলে আহ্বায়ক রহিমা শিকদার, ফেনী জেলা মহিলা দলের সভাপতি জুলেকা আক্তার, চাদপুর জেলা মহিলাদলের সভাপতি মনিরা বেগম চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহনাজ পারভীন, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ সাংগঠনিক সেলিনা পারভীন, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।