আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। দীর্ঘদিন পর এবারে সত্যিকারের ভোটের আমেজ ফিরবে বলে তাদের ধারণ। কারণ এরই মধ্যে ভোটের মাঠে নানাভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের প্রায় অর্ধশত প্রার্থী গণসংযোগে মনোযোগ বাড়িয়েছেন।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ময়মনসিংহ অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহৎ জেলা। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেও এই জেলা ইতিহাস, ঐতিহ্য সমৃদ্ধ। এ জেলায় মোট ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৩টি উপজেলা, ১টি সিটি করপোরেশন, ১০টি পৌরসভা এবং ১৪৫টি ইউনিয়ন এবং ১টি ক্যান্টনমেন্ট রয়েছে। এতে জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৯৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬টি, মহিলা ভোটার ২২ লাখ ৫২ হাজার ৫২৫টি এবং হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩৭টি।
জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের পাশে থাকুন, জনগণের সঙ্গে থাকুন। আমরা এই নির্দেশনা মেনেই এলাকায় কাজ করছি। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত দেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে। আশা করছি এবারের নির্বাচন হবে বিশ্ব সমাদৃত নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ। আমরা সেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। দেশের জনগণের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপি সবসময়ই গণমুখী দল। নির্বাচন এবং আন্দোলন সবক্ষেত্রেই দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে সরব রয়েছে বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, বিগত কয়েক দিন ধরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। তবে লন্ডন বৈঠকে ইতিমধ্যে সেই সংকট কেটে গেছে। এর মধ্য দিয়ে জাতি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাস্তবায়নের মহাসড়কে উঠেছে। আশা করছি যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। এতে জনগণের প্রত্যক্ষ ব্যালটে গঠন হবে গণতান্ত্রিক সরকার।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) : দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১০৬টি। এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে হামলা, মামলায় নির্যাতন ও গ্রেফতার হয়েও দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি ছুটেছেন দেশের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে। সেই সঙ্গে টানা ১০ বছর ধরে এই আসনের প্রতিটি গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় সরব ছিলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা মানুষের সুখে-দুঃখে। তার সঙ্গে প্রার্থিতায় লড়বেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও প্রবীণ আইনজীবী আফজাল এইচ খান এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তরুণ রাজনীতিক বিএনপি নেতা সালমান ওমর রুবেল। এই আসনে জামায়াতের ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমানকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) : সমতল ভূমি ও খাল-বিলে সমৃদ্ধ উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় এবারের নির্বাচনে এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৩টি। এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারোয়ার বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী হয়ে অংশ নেন। এ কারণে বহিষ্কার হন দল থেকে।
ফলে আগামী নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির মনোনয়নে মূল আলোচনায় রয়েছেন দলের জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার। বিগত লড়াই-সংগ্রামে গ্রেফতার, মামলা-হামলায় তার ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। তবে তার সঙ্গে প্রার্থিতায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও উত্তর জেলা কৃষক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল বাসার আকন্দ, সাবেক সহ-সভাপতি যুবদল কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি মোহাম্মদ সুজাউদ্দৌলা সুজা ও ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়েদ হোসেন শাকিল। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা আমির মাহবুব মণ্ডল। বিএনপি থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস রয়েছে এবং দুই উপজেলার ভোটাররা বিভক্ত হয়ে নিজ নিজ উপজেলার প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আসন নিজেদের দখলে নিতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
ময়মনসিংহ-৩ আসন (গৌরীপুর) : ব্রিটিশ শাসনে রাজা-জমিদারের তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৯১টি। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তৃণমূলের জনপ্রিয়তায় আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও নবগঠিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন। তার সঙ্গে মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসাইন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নূরুল হক, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আবদুস সেলিম এবং নবগঠিত উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক। গৌরীপুর উপজেলা শাখার আমির মাওলানা বদরুজ্জামান প্রার্থী হবেন জামায়াতে ইসলামী থেকে।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) : সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৩টি। এই আসনে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও লক্ষাধিক ভোট পেয়ে দেশজুড়ে নজির সৃষ্টি করেছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এবারও তিনি এই আসনে আলোচিত প্রার্থী। ফলে আসনটিতে এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন। ইতিমধ্যে দলীয় প্রচার-প্রচারণায় তারা প্রার্থিতার জানান দিয়েছেন। আসনটিতে মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুল। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের আমির অধ্যাপক শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে কর্মী সম্মেলন করে চাঙ্গা অবস্থায় রয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) : এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৭১টি। বিএনপির একমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সরব রয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু। তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের সহোদর। তার নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি ভোটের চমক সৃষ্টি করবে বলে আশাবাদী দলটির নেতাকর্মীরা। তবে তার সঙ্গে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হারুন মনোনয়ন চাইতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। মুক্তাগাছা আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে লড়াইয়ের আভাস রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের (চরমোনাই) প্রিন্সিপ্যাল মুফতি সিরাজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মুফতি হাবিবুর রহমান, ন্যাশনাল পার্টির সামান মিয়া। তবে এই আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে যা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট হিসেবে কাজ করতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) : লাল চিনি ও কাঁচা হলুদের জন্য বিখ্যাত পাহাড়ি জনপদ ঘেঁষা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসন। ভোটার সংখ্যার দিক থেকে এই আসনটি জেলার তৃতীয় অবস্থানে। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ১০৫টি। এ আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন শের-ই-বাংলা একেএম ফজলুল হকের নাতজামাই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আকতারুল আলম ফারুক। তার সঙ্গে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিগত ১৫ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের সম্মুখসারির যোদ্ধা কেন্দ্রীয় যুবদলের সদ্য সাবেক প্রচার সম্পাদক আবদুল করিম সরকারসহ আরও কয়েকজন। আসনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মো. কামরুল হাসান মিলন প্রার্থী হওয়ায় নতুন এই আসনটি সাংগঠনিকভাবে দুই দলের পক্ষ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জামায়াতের প্রার্থী প্রতিদিনই মাঠ পর্যায়ে চষে বেড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত এই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮৯টি। এ আসন দখলে রাখতে মরিয়া বিএনপি, মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা, বিএনপির হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সরব রয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে তিনি এই আসনে ধানের শীষের নমিনি ছিলেন। তার নেতৃত্বেই তৃণমূল বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। তবে গতবারের ন্যায় এবারও তার সঙ্গে মনোনয়ন চাইবেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। সেই সঙ্গে আসনটিতে নতুন প্রার্থী হিসেবে আওয়াজ দিয়েছেন নবগঠিত দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল আমিন খসরু এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির আসাদুজ্জামান সোহেল। তিনি ১২ ইউনিয়নে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে ত্রিশাল উপজেলা শাখার সভাপতি মাও. ইব্রাহিম খলিল উল্লাহকে। তিনিও তার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন এ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দুবার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালাচ্ছেন। তিনি জনগণের কাছে বিএনপির বার্তা নিয়ে পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) : কাঁচা মাটিয়া নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা জমিদারি স্থাপত্য সমৃদ্ধ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৫৬টি। বিগত ১২টি নির্বাচনে বিএনপি তিনবার, জাতীয় পার্টি পাঁচবার, আওয়ামী লীগ তিনবার ও একবার স্বতস্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। বিগত তিনটি নির্বাচনে এ আসনে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রার্থী দেন দলগুলো।
বিএনপি থেকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ নুরুল কবীর শাহীন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাস্টার, সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এমএ মজিদ, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, অতিরিক্ত মহাসচিব এমএ বাশার, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের একক প্রার্থী উপজেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ মওলানা মঞ্জুরুল হক হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক প্রার্থী উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মোজাম্মেল হক মাঠে রয়েছেন।
সাবেক সংসদ সদস্য শাহ নুরুল কবীর শাহীন জানান, ২০০১ সালে দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে তাই আশা রাখি এবারও দল আমাকে মূল্যায়ন করে ধানের শীষ আমার হাতে তুলে দেবেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে আসনটি উপহার দিতে পারব দলকে। কারণ মাঠ পর্যায়ে ভোটাররা আমার পক্ষে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।
জামায়েত ইসলামী বাংলাদেশ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ মওলানা মঞ্জুরুল হক হাসান বলেন, ইতিমধ্যে দল থেকে আমার মনোনয়ন কনফার্ম করা হয়েছে। আমি এলাকায় সবসময় ঘুরছি জনতার রব এবার নতুনদের দেখতে চায়। দেশের যে চিত্র দুর্নীতি আর অপশাসন এগুলোকে মানুষ আর ভালোভাবে দেখে না। কাজেই আগামী নির্বাচনে ঈশ্বরগঞ্জসহ সারা দেশে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আশাবাদী।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) : জেলার পূর্ব-দক্ষিণের সবশেষ উপজেলার নাম নান্দাইল। ভাটি অঞ্চল ঘেঁষা এ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩৮টি। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এ আসনটিতে তৃণমূলে দল গোছাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রয়াত সংসদ সদস্যের পুত্র ইয়াসের খান চৌধুরী। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আরেক সংসদ সদস্যের পুত্র নাসের খান চৌধুরী। তারা পারিবারিক সম্পর্কে চাচাত ভাই। এ ছাড়াও আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন অবসরপ্রাপ্ত ও আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামসুল ইসলাম শামছ।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরাগাঁও) : রাজনীতির রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত জেলার গফরগাঁওয়ে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৩টি। আগামী নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন চাইছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা আলমগীর মাহমুদ আলম এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মোফাখারুল ইসলাম রানা। এ ছাড়াও আসনটিতে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রবীণ বিএনপি নেতা এবি সিদ্দিক, তার সহোদর ভাতিজা প্রয়াত সংসদ সদস্যের পুত্র তরুণ বিএনপি নেতা মুশফিকুর রহমান এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকতারুজ্জামান বাচ্চু। গফরগাঁও আসনে জামায়াতের প্রার্থী উপজেলা জমায়াতের আমির ইসমাইল হোসেন।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) : দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত জেলার ভালুকা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এতে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬২টি। এই আসনে একাধিক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী রয়েছে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায়। এর মধ্যে রয়েছেন এই আসনের সাবেক নমিনি ও বর্তমানে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু এবং নবগঠিত দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ মুর্শেদ আলমসহ আরও কয়েকজন। তবে এই আসনটিতে এবারের নির্বাচনে চমক আসতে পারে হেভিওয়েট এক নতুন প্রার্থিতায়।
Reporter Name 
























