ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট গুপ্ত এবং অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ভোট করতে হয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে জুবাইদা রহমান ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নতি স্বীকার: ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে পিছুটান ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে উড়িয়ে দিল ইরান, ‘কোনো আলোচনাই হয়নি’—আরাগচি ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার, ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষেধ শারীরিক অবস্থার উন্নতি কথা বলতে পারছেন মির্জা আব্বাস, দোয়া চেয়েছে পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে ‌অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন

মুমিন জীবনের সর্বাবস্থায় সুখানুভবের রহস্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ৭১ বার
মানুষ চিরকালই সুখ সন্ধানী। বড় কোনো সফলতা, সমাজের স্বীকৃতি কিংবা দৃষ্টিনন্দন ভবিষ্যৎ; এসবের মাঝেই সে সুখের ঠিকানা আঁকে। কিন্তু সময়ের প্রবাহে মানুষ ধীরে ধীরে উপলব্ধি করে, বড় কিছু সবসময় আসে না। দিনের শেষে থেকে যায় কিছু ক্ষুদ্র অর্জন, কিছু ছোট ভালো লাগা, আর মাঝে মাঝে শুধুই নিঃসঙ্গতা।

যারা চায় সাময়িক সুখ, তারা অপেক্ষা করে বড় কোনো অর্জনের। কোনো লক্ষ্য পূরণ হলে তাদের মুখে হাসি ফোটে, না হলে ভেঙে পড়ে। জীবনের মানে তাদের কাছে শুধুই সফলতার পাল্লায় ঝুলে থাকে।

আর যারা চায় জীবনের অধিকাংশ সময়ে আনন্দে থাকতে, তারা বুঝে যে, ক্ষুদ্র কাজেও প্রশান্তি পাওয়া যায়।

মায়ের মুখে হাসি ফোটানো, কারও দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, নামাজে আত্মনিবিষ্ট হওয়া কিংবা সামান্য সাদাকাহ করা। এসবের মধ্যেই তারা খুঁজে পায় মানসিক প্রশান্তি। তারা জানে, সুখ মানে সবসময় বড় কিছু পাওয়ার নাম নয়, বরং ছোট ছোট ভালো কাজের মাঝেও আনন্দের বিস্তৃতি লুকিয়ে থাকে।কিন্তু যারা চায় সারাজীবন সুখে থাকতে; তারা নেয় এক ভিন্ন পথ।

তারা প্রতিটি ভোরে চোখ মেলে ভাবে; আল্লাহ আমাকে মুসলিম বানিয়েছেন।তারা জানে; ইসলাম কোনো ক্ষণস্থায়ী পরিচয় নয়। এটি চিরন্তন আশ্রয়, যা মানুষকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। তারা দিনের শুরু করে এই উপলব্ধি নিয়ে যে, আজও আমি একজন তাওহীদবান মানুষ।

এমনকি যদি দিনটি কোনো বড় অর্জন ছাড়াও কাটে, যদি কোনো স্বপ্ন পূরণ না-ও হয়, তবুও একটি কারণ থেকে যায় আনন্দের যে, আজও আমি কুফর ও শিরক থেকে মুক্ত, আজও আমি জান্নাতের আশায় বাঁচছি।

এই পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ আল্লাহকে অস্বীকার করে। তারা ঈমান ছাড়াই জীবন কাটায়। তারা জানে না তাদের সামনে কী ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।

আর আপনি?

আপনি তো সেই সৌভাগ্যবানদের একজন, যাকে আল্লাহ দিয়েছেন সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত ইসলাম। আপনি একজন মুসলিম, এক আল্লাহর তাওহিদের ধারক মুমিন।

তাহলে আপনি কেন ভাববেন; আপনি কিছুই পাননি?

আপনি কেন বলবেন; ‘আমার জীবনে আনন্দের কিছু নেই’?

আপনার জীবনে যে ঈমান আছে; এই তো আসল ধন! ঈমান তো এমন ধন, যার কোনো মানদণ্ডে ওজন করা যায় না। যার মূল্য শুধু জান্নাতের চাবিকাঠিতে প্রকাশ পায়।

মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেন,

‘বলুন: আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ার কারণেই তারা যেন আনন্দ করে—এটাই তাদের সমস্ত কিছু থেকে উত্তম।’
(সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৮)

সুতরাং সুখ বড় অর্জনে নয়।
সুখ সত্য উপলব্ধিতে।
আর সেই সত্য হলো; আপনি মুসলিম।
আপনি একজন তাওহীদের অনুসারী। এই পরিচয়ই আপনাকে নিয়ে যাবে জান্নাতের চিরসুখের ঠিকানায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

মুমিন জীবনের সর্বাবস্থায় সুখানুভবের রহস্য

আপডেট টাইম : ০৬:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
মানুষ চিরকালই সুখ সন্ধানী। বড় কোনো সফলতা, সমাজের স্বীকৃতি কিংবা দৃষ্টিনন্দন ভবিষ্যৎ; এসবের মাঝেই সে সুখের ঠিকানা আঁকে। কিন্তু সময়ের প্রবাহে মানুষ ধীরে ধীরে উপলব্ধি করে, বড় কিছু সবসময় আসে না। দিনের শেষে থেকে যায় কিছু ক্ষুদ্র অর্জন, কিছু ছোট ভালো লাগা, আর মাঝে মাঝে শুধুই নিঃসঙ্গতা।

যারা চায় সাময়িক সুখ, তারা অপেক্ষা করে বড় কোনো অর্জনের। কোনো লক্ষ্য পূরণ হলে তাদের মুখে হাসি ফোটে, না হলে ভেঙে পড়ে। জীবনের মানে তাদের কাছে শুধুই সফলতার পাল্লায় ঝুলে থাকে।

আর যারা চায় জীবনের অধিকাংশ সময়ে আনন্দে থাকতে, তারা বুঝে যে, ক্ষুদ্র কাজেও প্রশান্তি পাওয়া যায়।

মায়ের মুখে হাসি ফোটানো, কারও দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, নামাজে আত্মনিবিষ্ট হওয়া কিংবা সামান্য সাদাকাহ করা। এসবের মধ্যেই তারা খুঁজে পায় মানসিক প্রশান্তি। তারা জানে, সুখ মানে সবসময় বড় কিছু পাওয়ার নাম নয়, বরং ছোট ছোট ভালো কাজের মাঝেও আনন্দের বিস্তৃতি লুকিয়ে থাকে।কিন্তু যারা চায় সারাজীবন সুখে থাকতে; তারা নেয় এক ভিন্ন পথ।

তারা প্রতিটি ভোরে চোখ মেলে ভাবে; আল্লাহ আমাকে মুসলিম বানিয়েছেন।তারা জানে; ইসলাম কোনো ক্ষণস্থায়ী পরিচয় নয়। এটি চিরন্তন আশ্রয়, যা মানুষকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। তারা দিনের শুরু করে এই উপলব্ধি নিয়ে যে, আজও আমি একজন তাওহীদবান মানুষ।

এমনকি যদি দিনটি কোনো বড় অর্জন ছাড়াও কাটে, যদি কোনো স্বপ্ন পূরণ না-ও হয়, তবুও একটি কারণ থেকে যায় আনন্দের যে, আজও আমি কুফর ও শিরক থেকে মুক্ত, আজও আমি জান্নাতের আশায় বাঁচছি।

এই পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ আল্লাহকে অস্বীকার করে। তারা ঈমান ছাড়াই জীবন কাটায়। তারা জানে না তাদের সামনে কী ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।

আর আপনি?

আপনি তো সেই সৌভাগ্যবানদের একজন, যাকে আল্লাহ দিয়েছেন সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত ইসলাম। আপনি একজন মুসলিম, এক আল্লাহর তাওহিদের ধারক মুমিন।

তাহলে আপনি কেন ভাববেন; আপনি কিছুই পাননি?

আপনি কেন বলবেন; ‘আমার জীবনে আনন্দের কিছু নেই’?

আপনার জীবনে যে ঈমান আছে; এই তো আসল ধন! ঈমান তো এমন ধন, যার কোনো মানদণ্ডে ওজন করা যায় না। যার মূল্য শুধু জান্নাতের চাবিকাঠিতে প্রকাশ পায়।

মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেন,

‘বলুন: আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ার কারণেই তারা যেন আনন্দ করে—এটাই তাদের সমস্ত কিছু থেকে উত্তম।’
(সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৮)

সুতরাং সুখ বড় অর্জনে নয়।
সুখ সত্য উপলব্ধিতে।
আর সেই সত্য হলো; আপনি মুসলিম।
আপনি একজন তাওহীদের অনুসারী। এই পরিচয়ই আপনাকে নিয়ে যাবে জান্নাতের চিরসুখের ঠিকানায়।