ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট গুপ্ত এবং অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ভোট করতে হয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে জুবাইদা রহমান ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নতি স্বীকার: ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে পিছুটান ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে উড়িয়ে দিল ইরান, ‘কোনো আলোচনাই হয়নি’—আরাগচি ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার, ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষেধ শারীরিক অবস্থার উন্নতি কথা বলতে পারছেন মির্জা আব্বাস, দোয়া চেয়েছে পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে ‌অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন

শিশুদের জন্য নবীজির হৃদয়ভরা ভালোবাসা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • ৬২ বার

স্নেহ, ভালোবাসা ও কোমলতা—এই গুণগুলো সমাজকে মানবিক ও শান্তিময় করে তোলে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন এই মানবিক গুণাবলির জীবন্ত আদর্শ। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি তাঁর স্নেহ-মমতা ছিল অতুলনীয়। তিনি নিজে ছোটদের স্নেহ করতেন, আদর মেখে দিতেন; সাহাবিদেরও এই আদর্শ শিক্ষা দিতেন। এক হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ছোটদের স্নেহ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৪৩)

একবার নবী করিম (সা.) প্রিয় নাতি হাসানকে চুমু খান। সে সময় তাঁর কাছে আকরা তামিমি (রা.) বসা ছিলেন। তিনি নবী (সা.)-কে বলেন, ‘আমার ১০টি পুত্র আছে। আমি তাদের কাউকে কোনো দিন চুমু দিইনি।’ নবীজি (সা.) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৯৯৭)

আরেক হাদিসে এসেছে, ‘এক বেদুইন এসে নবী (সা.)-কে বললেন, ‘আপনারা শিশুদের চুমু দেন, কিন্তু আমরা ওদের চুমু দিই না।’ প্রিয় নবীজি (সা.) তখন বললেন, ‘আল্লাহ যদি তোমার হৃদয় থেকে দয়ামায়া উঠিয়ে নেন, তাহলে তোমার ওপর আমার কি কোনো অধিকার আছে!’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৯৯৮)

নবী করিম (সা.)-এর পুত্র ইবরাহিম শিশু বয়সেই ইন্তেকাল করেন। নবীজির কাছে যখন প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ আসে, তখন তিনি কেঁদে দেন। তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। কান্নাভেজা কণ্ঠে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এ কান্না হচ্ছে স্নেহ ও ভালোবাসার প্রকাশ।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয় বেদনাহত, চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত। তবে আমি শুধু সে কথাগুলোই বলছি, যা আমার রবকে সন্তুষ্ট করে। ইবরাহিম, তোমার বিচ্ছেদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ (সহিহ্ বুখারি)

প্রিয় নবীজির (সা.) জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে করুণার ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়েছে। শিশুদের প্রতি তাঁর দয়ার ছোঁয়া আমাদের শেখায়, একটি কোমল হৃদয়ই পারে একটি সুন্দর সমাজ গড়তে। আজকের দুনিয়ায়, যখন শিশুরা নির্যাতন ও অবহেলার শিকার, তখন নবীজি (সা.)-এর এই দৃষ্টান্তগুলো আমাদের আরও মানবিক, আরও দায়িত্বশীল করে তুলতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

শিশুদের জন্য নবীজির হৃদয়ভরা ভালোবাসা

আপডেট টাইম : ১১:৪০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

স্নেহ, ভালোবাসা ও কোমলতা—এই গুণগুলো সমাজকে মানবিক ও শান্তিময় করে তোলে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন এই মানবিক গুণাবলির জীবন্ত আদর্শ। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি তাঁর স্নেহ-মমতা ছিল অতুলনীয়। তিনি নিজে ছোটদের স্নেহ করতেন, আদর মেখে দিতেন; সাহাবিদেরও এই আদর্শ শিক্ষা দিতেন। এক হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ছোটদের স্নেহ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৪৩)

একবার নবী করিম (সা.) প্রিয় নাতি হাসানকে চুমু খান। সে সময় তাঁর কাছে আকরা তামিমি (রা.) বসা ছিলেন। তিনি নবী (সা.)-কে বলেন, ‘আমার ১০টি পুত্র আছে। আমি তাদের কাউকে কোনো দিন চুমু দিইনি।’ নবীজি (সা.) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৯৯৭)

আরেক হাদিসে এসেছে, ‘এক বেদুইন এসে নবী (সা.)-কে বললেন, ‘আপনারা শিশুদের চুমু দেন, কিন্তু আমরা ওদের চুমু দিই না।’ প্রিয় নবীজি (সা.) তখন বললেন, ‘আল্লাহ যদি তোমার হৃদয় থেকে দয়ামায়া উঠিয়ে নেন, তাহলে তোমার ওপর আমার কি কোনো অধিকার আছে!’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৯৯৮)

নবী করিম (সা.)-এর পুত্র ইবরাহিম শিশু বয়সেই ইন্তেকাল করেন। নবীজির কাছে যখন প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ আসে, তখন তিনি কেঁদে দেন। তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। কান্নাভেজা কণ্ঠে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এ কান্না হচ্ছে স্নেহ ও ভালোবাসার প্রকাশ।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয় বেদনাহত, চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত। তবে আমি শুধু সে কথাগুলোই বলছি, যা আমার রবকে সন্তুষ্ট করে। ইবরাহিম, তোমার বিচ্ছেদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ (সহিহ্ বুখারি)

প্রিয় নবীজির (সা.) জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে করুণার ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়েছে। শিশুদের প্রতি তাঁর দয়ার ছোঁয়া আমাদের শেখায়, একটি কোমল হৃদয়ই পারে একটি সুন্দর সমাজ গড়তে। আজকের দুনিয়ায়, যখন শিশুরা নির্যাতন ও অবহেলার শিকার, তখন নবীজি (সা.)-এর এই দৃষ্টান্তগুলো আমাদের আরও মানবিক, আরও দায়িত্বশীল করে তুলতে পারে।