ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

শিশুদের জন্য নবীজির হৃদয়ভরা ভালোবাসা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • ৭৪ বার

স্নেহ, ভালোবাসা ও কোমলতা—এই গুণগুলো সমাজকে মানবিক ও শান্তিময় করে তোলে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন এই মানবিক গুণাবলির জীবন্ত আদর্শ। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি তাঁর স্নেহ-মমতা ছিল অতুলনীয়। তিনি নিজে ছোটদের স্নেহ করতেন, আদর মেখে দিতেন; সাহাবিদেরও এই আদর্শ শিক্ষা দিতেন। এক হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ছোটদের স্নেহ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৪৩)

একবার নবী করিম (সা.) প্রিয় নাতি হাসানকে চুমু খান। সে সময় তাঁর কাছে আকরা তামিমি (রা.) বসা ছিলেন। তিনি নবী (সা.)-কে বলেন, ‘আমার ১০টি পুত্র আছে। আমি তাদের কাউকে কোনো দিন চুমু দিইনি।’ নবীজি (সা.) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৯৯৭)

আরেক হাদিসে এসেছে, ‘এক বেদুইন এসে নবী (সা.)-কে বললেন, ‘আপনারা শিশুদের চুমু দেন, কিন্তু আমরা ওদের চুমু দিই না।’ প্রিয় নবীজি (সা.) তখন বললেন, ‘আল্লাহ যদি তোমার হৃদয় থেকে দয়ামায়া উঠিয়ে নেন, তাহলে তোমার ওপর আমার কি কোনো অধিকার আছে!’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৯৯৮)

নবী করিম (সা.)-এর পুত্র ইবরাহিম শিশু বয়সেই ইন্তেকাল করেন। নবীজির কাছে যখন প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ আসে, তখন তিনি কেঁদে দেন। তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। কান্নাভেজা কণ্ঠে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এ কান্না হচ্ছে স্নেহ ও ভালোবাসার প্রকাশ।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয় বেদনাহত, চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত। তবে আমি শুধু সে কথাগুলোই বলছি, যা আমার রবকে সন্তুষ্ট করে। ইবরাহিম, তোমার বিচ্ছেদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ (সহিহ্ বুখারি)

প্রিয় নবীজির (সা.) জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে করুণার ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়েছে। শিশুদের প্রতি তাঁর দয়ার ছোঁয়া আমাদের শেখায়, একটি কোমল হৃদয়ই পারে একটি সুন্দর সমাজ গড়তে। আজকের দুনিয়ায়, যখন শিশুরা নির্যাতন ও অবহেলার শিকার, তখন নবীজি (সা.)-এর এই দৃষ্টান্তগুলো আমাদের আরও মানবিক, আরও দায়িত্বশীল করে তুলতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

শিশুদের জন্য নবীজির হৃদয়ভরা ভালোবাসা

আপডেট টাইম : ১১:৪০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

স্নেহ, ভালোবাসা ও কোমলতা—এই গুণগুলো সমাজকে মানবিক ও শান্তিময় করে তোলে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন এই মানবিক গুণাবলির জীবন্ত আদর্শ। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি তাঁর স্নেহ-মমতা ছিল অতুলনীয়। তিনি নিজে ছোটদের স্নেহ করতেন, আদর মেখে দিতেন; সাহাবিদেরও এই আদর্শ শিক্ষা দিতেন। এক হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ছোটদের স্নেহ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৪৩)

একবার নবী করিম (সা.) প্রিয় নাতি হাসানকে চুমু খান। সে সময় তাঁর কাছে আকরা তামিমি (রা.) বসা ছিলেন। তিনি নবী (সা.)-কে বলেন, ‘আমার ১০টি পুত্র আছে। আমি তাদের কাউকে কোনো দিন চুমু দিইনি।’ নবীজি (সা.) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৯৯৭)

আরেক হাদিসে এসেছে, ‘এক বেদুইন এসে নবী (সা.)-কে বললেন, ‘আপনারা শিশুদের চুমু দেন, কিন্তু আমরা ওদের চুমু দিই না।’ প্রিয় নবীজি (সা.) তখন বললেন, ‘আল্লাহ যদি তোমার হৃদয় থেকে দয়ামায়া উঠিয়ে নেন, তাহলে তোমার ওপর আমার কি কোনো অধিকার আছে!’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৯৯৮)

নবী করিম (সা.)-এর পুত্র ইবরাহিম শিশু বয়সেই ইন্তেকাল করেন। নবীজির কাছে যখন প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ আসে, তখন তিনি কেঁদে দেন। তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। কান্নাভেজা কণ্ঠে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এ কান্না হচ্ছে স্নেহ ও ভালোবাসার প্রকাশ।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয় বেদনাহত, চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত। তবে আমি শুধু সে কথাগুলোই বলছি, যা আমার রবকে সন্তুষ্ট করে। ইবরাহিম, তোমার বিচ্ছেদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ (সহিহ্ বুখারি)

প্রিয় নবীজির (সা.) জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে করুণার ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়েছে। শিশুদের প্রতি তাঁর দয়ার ছোঁয়া আমাদের শেখায়, একটি কোমল হৃদয়ই পারে একটি সুন্দর সমাজ গড়তে। আজকের দুনিয়ায়, যখন শিশুরা নির্যাতন ও অবহেলার শিকার, তখন নবীজি (সা.)-এর এই দৃষ্টান্তগুলো আমাদের আরও মানবিক, আরও দায়িত্বশীল করে তুলতে পারে।