ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা ‘এদের আমি মানুষ বলতে নারাজ, ধিক্কার জানাই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • ১৭৪ বার
প্রায় তিন দশক হয়ে গেল তিনি নায়িকা। আজও নানা প্রজন্মের কাছে তিনি আরাধ্য। ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য হিট সিনেমা। নিজের সময়কালে করেছেন রাজত্ব।

বলছিলাম দিলারা হানিফ পূর্ণিমার কথা। একসময়ের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীকে এখন খুব একটা রুপালি পর্দায় দেখা যায় না। তবে টিভি রিয়ালিটি শোগুলোতে বিচারক হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। শুক্রবার মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে রিয়ালিটি শো ‘সেরা রাঁধুনী সিজন-৮’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে।
এবারও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। এই রিয়ালিটি শো ও অন্যান্য বিষয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ।

বিষণ্নতার এই সব দিন

অন্য সবার মতো পূর্ণিমার হৃদয়কেও ক্ষতবিক্ষত করেছে মাইলস্টোনের হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। ঘটনার পর থেকে চোখের পাতা এক করতে পারেননি।

বারবার মনে হয়েছে নিজের মেয়ে উমাইজার কথা। উমাইজাও পড়ে উত্তরার একটি স্কুলে। সে-ও তো মাইলস্টোনে পড়তে পারত। সেদিন ওখানে থাকতে পারত উমাইজাও! কিভাবে নিজেকে সামলাতেন তখন? পূর্ণিমা বলেন, ‘কোমলমতি প্রাণগুলো কিভাবে চোখের সামনে ঝরে গেল। একেকটা পোড়া শরীরের ফুল দৌড়াদৌড়ি করছে আর মানুষ ভিডিও করছে।
এদের আমি মানুষ বলতে নারাজ। ধিক্কার জানাই এদের। দুঃসময়ে যারা পানির দাম বাড়িয়ে দিল, রিকশার ভাড়া বাড়িয়ে দিল, তারা কেউ মানুষের কাতারে পড়ে না।’

এই স্কুলের পারমিশন পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। বলেন, ‘কিভাবে রানওয়ের এত কাছে এমন একটা স্কুল তৈরির অনুমতি পায়? এই মৃত্যুকে কি শুধু দুর্ঘটনা বলা যাবে? এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা যেন আর না ঘটে সেদিকে সরকারকে লক্ষ রাখতে হবে। গত তিন দিন ফেসবুক খুলিনি। এসব ভিডিও দেখলে আমার অন্তর কেঁপে ওঠে।’

সেরা রাঁধুনীর গ্র্যান্ড ফিনালে

কাল [শুক্রবার] মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ‘সেরা রাঁধুনী সিজন-৮’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। শেষ চারটি সিজনেরই বিচারক পূর্ণিমা। গত দুই মাস এই রিয়ালিটি শোর শুটিং করেছেন। নিজেও রান্না করতে পছন্দ করেন। ফলে বেশ উপভোগও করেন এই শো।

পূর্ণিমা বলেন, ‘মাছরাঙা ও স্কয়ারকে নিজের পরিবারই মনে হয়। তারা আমাকে প্রতি সিজনেই ডাকে। আর প্রতিবারই মনে হয় হয়তো অনুষ্ঠানটি করতে পারব না। কারণ উমাইজার স্কুল থাকে, পড়াশোনার চাপ থাকে। তবে শেষ মুহূর্তে আর না করতে পারি না। জানি না, পরের সিজনে থাকতে পারব কি না। মাছরাঙাও আমাকে ডাকবে কি না তা-ও জানি না। যদি ব্যাটে-বলে মেলে, তাহলে বিচারক হিসেবে পুনরায় আমাকে দেখাও যেতে পারে।’

বড় পর্দা, ওটিটি—প্রস্তাব এলে করবেন

গত বছর রোজার ঈদে ছট্কু আহমেদের ‘আহা রে জীবন’-এ শেষবার পূর্ণিমাকে দেখা গেছে বড় পর্দায়। এরপর নতুন কোনো ছবির প্রস্তাব পাননি অভিনেত্রী। এমনকি ওটিটি প্ল্যাটফরমের ডাকও পাননি।

পূর্ণিমা বলেন, ‘হয়তো এখনকার নির্মাতাদের ধারণা, আমি সময় দেব না। বা অনেকে ধরেই নিয়েছেন, আমি কাজ করতে আগ্রহী নই। এসব নিছক ভুল ধারণা। একজন শিল্পী সারা জীবন ক্যামেরার সামনে কাজ করতে চায়। এটা সহজাত স্বভাব। আমি বরাবরই মুখিয়ে থাকি ভালো কাজের। তবে একটা শর্ত আছে, আমাকে আমার মতো চরিত্রেই নিতে হবে।’

জয়া আহসানের উদাহরণ টেনে পূর্ণিমা আরো বলেন, “জয়া আপাকে দেখেন, তিনি যে বয়সী সেই বয়সের চরিত্রেই হাজির হচ্ছেন পর্দায়। আফসানা মিনি আপুকেও দেখেন, ‘উৎসব’ করলেন। কী মিষ্টি লেগেছে! এখন কেউ যদি আমাকে নাচা-গানার ছবিতে নিতে চান, তাহলে কিভাবে হবে? জয়া আপার ‘অর্ধাঙ্গিনী’র কী সুন্দর গল্প! এমন গল্প নিয়ে কেউ আমার কাছে এলে অবশ্যই আমি করতাম।”

নিয়মিত ছবি দেখেন

চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। স্বভাবতই ছবি দেখার পোকা তাঁর মাথায় থাকার কথা। পূর্ণিমারও আছে সেটা। ‘জংলি’, ‘দাগি’সহ ঈদের কয়েকটি ছবি দেখেছেন। অপেক্ষায় আছেন ‘তাণ্ডব’, ‘ইনসাফ’সহ বাকি ছবিগুলো দেখার। চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে দারুণ খুশি ‘হৃদয়ের কথা’ অভিনেত্রী। বলেন, ‘গত দুই-তিন বছরে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অনেক বদলেছে। বড় বড় ছবি হচ্ছে, বাজারও বেড়েছে। এসব দেখে খুব ভালো লাগে। এই যে জোয়ার শুরু হয়েছে, এটা কাজে লাগাতে হবে। নতুন নতুন নির্মাতা, অভিনেতাদের কাজের সুযোগ করে দিতে হবে। গত শতাব্দীর সত্তর ও আশির দশকের যে গল্প আমরা শুনে এসেছি, সেটা এখন ফিরিয়ে আনার সময়।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা ‘এদের আমি মানুষ বলতে নারাজ, ধিক্কার জানাই

আপডেট টাইম : ১১:১৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
প্রায় তিন দশক হয়ে গেল তিনি নায়িকা। আজও নানা প্রজন্মের কাছে তিনি আরাধ্য। ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য হিট সিনেমা। নিজের সময়কালে করেছেন রাজত্ব।

বলছিলাম দিলারা হানিফ পূর্ণিমার কথা। একসময়ের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীকে এখন খুব একটা রুপালি পর্দায় দেখা যায় না। তবে টিভি রিয়ালিটি শোগুলোতে বিচারক হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। শুক্রবার মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে রিয়ালিটি শো ‘সেরা রাঁধুনী সিজন-৮’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে।
এবারও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। এই রিয়ালিটি শো ও অন্যান্য বিষয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ।

বিষণ্নতার এই সব দিন

অন্য সবার মতো পূর্ণিমার হৃদয়কেও ক্ষতবিক্ষত করেছে মাইলস্টোনের হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। ঘটনার পর থেকে চোখের পাতা এক করতে পারেননি।

বারবার মনে হয়েছে নিজের মেয়ে উমাইজার কথা। উমাইজাও পড়ে উত্তরার একটি স্কুলে। সে-ও তো মাইলস্টোনে পড়তে পারত। সেদিন ওখানে থাকতে পারত উমাইজাও! কিভাবে নিজেকে সামলাতেন তখন? পূর্ণিমা বলেন, ‘কোমলমতি প্রাণগুলো কিভাবে চোখের সামনে ঝরে গেল। একেকটা পোড়া শরীরের ফুল দৌড়াদৌড়ি করছে আর মানুষ ভিডিও করছে।
এদের আমি মানুষ বলতে নারাজ। ধিক্কার জানাই এদের। দুঃসময়ে যারা পানির দাম বাড়িয়ে দিল, রিকশার ভাড়া বাড়িয়ে দিল, তারা কেউ মানুষের কাতারে পড়ে না।’

এই স্কুলের পারমিশন পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। বলেন, ‘কিভাবে রানওয়ের এত কাছে এমন একটা স্কুল তৈরির অনুমতি পায়? এই মৃত্যুকে কি শুধু দুর্ঘটনা বলা যাবে? এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা যেন আর না ঘটে সেদিকে সরকারকে লক্ষ রাখতে হবে। গত তিন দিন ফেসবুক খুলিনি। এসব ভিডিও দেখলে আমার অন্তর কেঁপে ওঠে।’

সেরা রাঁধুনীর গ্র্যান্ড ফিনালে

কাল [শুক্রবার] মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ‘সেরা রাঁধুনী সিজন-৮’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। শেষ চারটি সিজনেরই বিচারক পূর্ণিমা। গত দুই মাস এই রিয়ালিটি শোর শুটিং করেছেন। নিজেও রান্না করতে পছন্দ করেন। ফলে বেশ উপভোগও করেন এই শো।

পূর্ণিমা বলেন, ‘মাছরাঙা ও স্কয়ারকে নিজের পরিবারই মনে হয়। তারা আমাকে প্রতি সিজনেই ডাকে। আর প্রতিবারই মনে হয় হয়তো অনুষ্ঠানটি করতে পারব না। কারণ উমাইজার স্কুল থাকে, পড়াশোনার চাপ থাকে। তবে শেষ মুহূর্তে আর না করতে পারি না। জানি না, পরের সিজনে থাকতে পারব কি না। মাছরাঙাও আমাকে ডাকবে কি না তা-ও জানি না। যদি ব্যাটে-বলে মেলে, তাহলে বিচারক হিসেবে পুনরায় আমাকে দেখাও যেতে পারে।’

বড় পর্দা, ওটিটি—প্রস্তাব এলে করবেন

গত বছর রোজার ঈদে ছট্কু আহমেদের ‘আহা রে জীবন’-এ শেষবার পূর্ণিমাকে দেখা গেছে বড় পর্দায়। এরপর নতুন কোনো ছবির প্রস্তাব পাননি অভিনেত্রী। এমনকি ওটিটি প্ল্যাটফরমের ডাকও পাননি।

পূর্ণিমা বলেন, ‘হয়তো এখনকার নির্মাতাদের ধারণা, আমি সময় দেব না। বা অনেকে ধরেই নিয়েছেন, আমি কাজ করতে আগ্রহী নই। এসব নিছক ভুল ধারণা। একজন শিল্পী সারা জীবন ক্যামেরার সামনে কাজ করতে চায়। এটা সহজাত স্বভাব। আমি বরাবরই মুখিয়ে থাকি ভালো কাজের। তবে একটা শর্ত আছে, আমাকে আমার মতো চরিত্রেই নিতে হবে।’

জয়া আহসানের উদাহরণ টেনে পূর্ণিমা আরো বলেন, “জয়া আপাকে দেখেন, তিনি যে বয়সী সেই বয়সের চরিত্রেই হাজির হচ্ছেন পর্দায়। আফসানা মিনি আপুকেও দেখেন, ‘উৎসব’ করলেন। কী মিষ্টি লেগেছে! এখন কেউ যদি আমাকে নাচা-গানার ছবিতে নিতে চান, তাহলে কিভাবে হবে? জয়া আপার ‘অর্ধাঙ্গিনী’র কী সুন্দর গল্প! এমন গল্প নিয়ে কেউ আমার কাছে এলে অবশ্যই আমি করতাম।”

নিয়মিত ছবি দেখেন

চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। স্বভাবতই ছবি দেখার পোকা তাঁর মাথায় থাকার কথা। পূর্ণিমারও আছে সেটা। ‘জংলি’, ‘দাগি’সহ ঈদের কয়েকটি ছবি দেখেছেন। অপেক্ষায় আছেন ‘তাণ্ডব’, ‘ইনসাফ’সহ বাকি ছবিগুলো দেখার। চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে দারুণ খুশি ‘হৃদয়ের কথা’ অভিনেত্রী। বলেন, ‘গত দুই-তিন বছরে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অনেক বদলেছে। বড় বড় ছবি হচ্ছে, বাজারও বেড়েছে। এসব দেখে খুব ভালো লাগে। এই যে জোয়ার শুরু হয়েছে, এটা কাজে লাগাতে হবে। নতুন নতুন নির্মাতা, অভিনেতাদের কাজের সুযোগ করে দিতে হবে। গত শতাব্দীর সত্তর ও আশির দশকের যে গল্প আমরা শুনে এসেছি, সেটা এখন ফিরিয়ে আনার সময়।’