ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

আল্লাহর সাহায্য লাভের সহজ উপায়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • ১৯৯ বার
আল্লাহ তায়ালার সাহায্য ছাড়া মানুষ অসহায়। প্রতিটি মুহূর্তে আমরা তাঁর সাহায্যের মুখাপেক্ষী। তাই তো নামাজের প্রতিটি রাকাতে বলি,

اِیَّاكَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاكَ نَسْتَعِیْنُ

‘আমরা তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই।’ (সুরা ফাতিহা, আয়াত : ৪)

এই সাহায্য লাভের একটি সহজ ও বাস্তব উপায় হলো “অন্যকে সাহায্য করা”।

হাদিসে এসেছে:

وَاللهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ

‘বান্দা যখন তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহও তার সাহায্যে থাকেন ‘ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

মানুষকে সাহায্য মানে কেবল দান নয়; কাজের সহযোগিতা, পরামর্শ, কিংবা উপযুক্ত পথ দেখিয়ে দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لِأَخْرَقَ

‘কারিগরকে সাহায্য করো, অথবা কোনো অক্ষমের হয়ে কাজ করো।’ (বুখারি, হাদিস ২৫১৮; মুসলিম, হাদিস: ৮৪)

বিখ্যাত সাহাবি সালমান ফারসি (রা.)-এর ঘটনা তার উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে ৩০০ খেজুর গাছ ও ৪০ উকিয়া স্বর্ণের শর্তে চুক্তিবদ্ধ হন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সাহায্যে আহ্বান জানান, আর সাহাবায়ে কেরাম নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী চারা দেন। নবীজি (সা.) নিজ হাতে সেগুলো রোপণ করেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৭৩৭)আমাদের পূর্বসূরি অনেক আলেমগণের এমন অনেক ঘটনা রয়েছে। দেওবন্দের প্রধান মুফতি ছিলেন মুফতী আযীযুর রহমান রাহ.।

তিনি এশরাক নামাযের পরে প্রতিবেশী বিধবা মহিলাদের ঘরের সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, কার কী বাজার লাগবে? তালিকা নিয়ে সবার বাজার করে দিতেন। কখনো কারও কিছু আনতে ভুল হলে আবার যেতেন। (দ্র. আকাবিরে দেওবন্দ কিয়া থে, পৃষ্ঠা ১০১)মানুষকে সহযোগিতা করতে গিয়ে সাহাবায়ে কেরাম ও আমাদের আকাবির-আসলাফ নাম যশ খ্যাতির কথা ভাবেননি। নিজের সুনাম প্রচার করার জন্য এসব করেননি। সুখ্যাতি পাওয়ার আশায় করেননি।

কারণ সাহায্যের এ চর্চা শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজ ও জাতিকেও আলোকিত করে। আর এ কাজের সর্বোচ্চ পুরস্কার হচ্ছে আল্লাহর সাহায্য।মহানবী (সা.) বলেছেন-

مَن نَفَّسَ عَن مُؤمِنٍ كُربَةً مِن كُرَبِ الدُّنيا، نَفَّسَ اللَّهُ عَنهُ كُربَةً مِن كُرَبِ يَومِ القِيام

‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলমানের কষ্ট লাঘব করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তার কষ্ট দূর করবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

আসুন! নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসি। হয়তো একটি ছোট্ট সাহায্যই দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আমীন।

লেখক: শিক্ষার্থী, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা, টঙ্গি, গাজিপুর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

আল্লাহর সাহায্য লাভের সহজ উপায়

আপডেট টাইম : ০৭:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
আল্লাহ তায়ালার সাহায্য ছাড়া মানুষ অসহায়। প্রতিটি মুহূর্তে আমরা তাঁর সাহায্যের মুখাপেক্ষী। তাই তো নামাজের প্রতিটি রাকাতে বলি,

اِیَّاكَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاكَ نَسْتَعِیْنُ

‘আমরা তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই।’ (সুরা ফাতিহা, আয়াত : ৪)

এই সাহায্য লাভের একটি সহজ ও বাস্তব উপায় হলো “অন্যকে সাহায্য করা”।

হাদিসে এসেছে:

وَاللهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ

‘বান্দা যখন তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহও তার সাহায্যে থাকেন ‘ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

মানুষকে সাহায্য মানে কেবল দান নয়; কাজের সহযোগিতা, পরামর্শ, কিংবা উপযুক্ত পথ দেখিয়ে দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لِأَخْرَقَ

‘কারিগরকে সাহায্য করো, অথবা কোনো অক্ষমের হয়ে কাজ করো।’ (বুখারি, হাদিস ২৫১৮; মুসলিম, হাদিস: ৮৪)

বিখ্যাত সাহাবি সালমান ফারসি (রা.)-এর ঘটনা তার উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে ৩০০ খেজুর গাছ ও ৪০ উকিয়া স্বর্ণের শর্তে চুক্তিবদ্ধ হন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সাহায্যে আহ্বান জানান, আর সাহাবায়ে কেরাম নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী চারা দেন। নবীজি (সা.) নিজ হাতে সেগুলো রোপণ করেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৭৩৭)আমাদের পূর্বসূরি অনেক আলেমগণের এমন অনেক ঘটনা রয়েছে। দেওবন্দের প্রধান মুফতি ছিলেন মুফতী আযীযুর রহমান রাহ.।

তিনি এশরাক নামাযের পরে প্রতিবেশী বিধবা মহিলাদের ঘরের সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, কার কী বাজার লাগবে? তালিকা নিয়ে সবার বাজার করে দিতেন। কখনো কারও কিছু আনতে ভুল হলে আবার যেতেন। (দ্র. আকাবিরে দেওবন্দ কিয়া থে, পৃষ্ঠা ১০১)মানুষকে সহযোগিতা করতে গিয়ে সাহাবায়ে কেরাম ও আমাদের আকাবির-আসলাফ নাম যশ খ্যাতির কথা ভাবেননি। নিজের সুনাম প্রচার করার জন্য এসব করেননি। সুখ্যাতি পাওয়ার আশায় করেননি।

কারণ সাহায্যের এ চর্চা শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজ ও জাতিকেও আলোকিত করে। আর এ কাজের সর্বোচ্চ পুরস্কার হচ্ছে আল্লাহর সাহায্য।মহানবী (সা.) বলেছেন-

مَن نَفَّسَ عَن مُؤمِنٍ كُربَةً مِن كُرَبِ الدُّنيا، نَفَّسَ اللَّهُ عَنهُ كُربَةً مِن كُرَبِ يَومِ القِيام

‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলমানের কষ্ট লাঘব করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তার কষ্ট দূর করবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

আসুন! নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসি। হয়তো একটি ছোট্ট সাহায্যই দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আমীন।

লেখক: শিক্ষার্থী, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা, টঙ্গি, গাজিপুর।