ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

সফল সে, যে আত্মা পরিশুদ্ধ করেছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • ১০৭ বার

মানুষ শুধু শারীরিক কাঠামো নয়; বরং আত্মা ও নৈতিকতা দ্বারা পরিপূর্ণ একটি সত্তা। আত্মার পরিচর্যা ও পরিশুদ্ধিই মানুষের চরিত্রকে করে তোলে মহৎ, আত্মাকে করে আলোকিত। আত্মশুদ্ধি এমন এক গুণ, যা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছায়, মানবিক গুণাবলিতে পরিপূর্ণ করে, পার্থিব ও পারলৌকিক সফলতার পথ খুলে দেয়। কোরআন ও হাদিসে তাই আত্মশুদ্ধির ওপর এসেছে বারবার জোর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সে সফলকাম হয়েছে যে আত্মাকে শুদ্ধ করেছে এবং সে ব্যর্থ হয়েছে যে তা কলুষিত করেছে।’ (সুরা শামস: ৯-১০)

আত্মশুদ্ধির পুরস্কারের বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। আর এটা হলো তাদের পুরস্কার, যারা তাদের মন পরিশুদ্ধ করে।’ (সুরা তোহা: ৭৬)। কেউ যদি মনের শুদ্ধতা অর্জন করে, তবে সে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি পরিশুদ্ধি অর্জন করে, সে নিজের জন্যই পরিশুদ্ধি অর্জন করে।’ (সুরা ফাতির: ১৮)। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আত্মশুদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। আত্মশুদ্ধির মধ্যেই সফলতা নিহিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অবশ্যই সে সফলতা লাভ করবে, যে আত্মশুদ্ধির পথ অবলম্বন করবে।’ (সুরা আলা: ১৪)

হাদিসে আত্মার শুদ্ধতার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কেননা, আত্মশুদ্ধির সঙ্গে শারীরিক সুস্থতার সম্পর্ক খুবই নিবিড়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘সাবধান! শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে—তা যখন সুস্থ থাকে তখন পুরো শরীর সুস্থ থাকে। আর তা যখন অসুস্থ হয়ে যায় তখন পুরো শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। সাবধান! তা হলো তোমাদের অন্তর বা হৃৎপিণ্ড।’ (সহিহ্ বুখারি)

আত্মশুদ্ধি কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়; বরং এটি একটি নিরন্তর সাধনা—নিজেকে মন্দ চিন্তা, কলুষতা ও পাপপ্রবণতা থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টার নাম। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মানুষ অর্জন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি, আখিরাতের শান্তি এবং দুনিয়ার ভারসাম্যপূর্ণ জীবন। ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে সমষ্টিগত উন্নয়নের জন্য আত্মশুদ্ধির বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেক ইমানদারের উচিত আত্মশুদ্ধিকে জীবনের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

সফল সে, যে আত্মা পরিশুদ্ধ করেছে

আপডেট টাইম : ১১:২১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

মানুষ শুধু শারীরিক কাঠামো নয়; বরং আত্মা ও নৈতিকতা দ্বারা পরিপূর্ণ একটি সত্তা। আত্মার পরিচর্যা ও পরিশুদ্ধিই মানুষের চরিত্রকে করে তোলে মহৎ, আত্মাকে করে আলোকিত। আত্মশুদ্ধি এমন এক গুণ, যা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছায়, মানবিক গুণাবলিতে পরিপূর্ণ করে, পার্থিব ও পারলৌকিক সফলতার পথ খুলে দেয়। কোরআন ও হাদিসে তাই আত্মশুদ্ধির ওপর এসেছে বারবার জোর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সে সফলকাম হয়েছে যে আত্মাকে শুদ্ধ করেছে এবং সে ব্যর্থ হয়েছে যে তা কলুষিত করেছে।’ (সুরা শামস: ৯-১০)

আত্মশুদ্ধির পুরস্কারের বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। আর এটা হলো তাদের পুরস্কার, যারা তাদের মন পরিশুদ্ধ করে।’ (সুরা তোহা: ৭৬)। কেউ যদি মনের শুদ্ধতা অর্জন করে, তবে সে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি পরিশুদ্ধি অর্জন করে, সে নিজের জন্যই পরিশুদ্ধি অর্জন করে।’ (সুরা ফাতির: ১৮)। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আত্মশুদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। আত্মশুদ্ধির মধ্যেই সফলতা নিহিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অবশ্যই সে সফলতা লাভ করবে, যে আত্মশুদ্ধির পথ অবলম্বন করবে।’ (সুরা আলা: ১৪)

হাদিসে আত্মার শুদ্ধতার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কেননা, আত্মশুদ্ধির সঙ্গে শারীরিক সুস্থতার সম্পর্ক খুবই নিবিড়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘সাবধান! শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে—তা যখন সুস্থ থাকে তখন পুরো শরীর সুস্থ থাকে। আর তা যখন অসুস্থ হয়ে যায় তখন পুরো শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। সাবধান! তা হলো তোমাদের অন্তর বা হৃৎপিণ্ড।’ (সহিহ্ বুখারি)

আত্মশুদ্ধি কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়; বরং এটি একটি নিরন্তর সাধনা—নিজেকে মন্দ চিন্তা, কলুষতা ও পাপপ্রবণতা থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টার নাম। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মানুষ অর্জন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি, আখিরাতের শান্তি এবং দুনিয়ার ভারসাম্যপূর্ণ জীবন। ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে সমষ্টিগত উন্নয়নের জন্য আত্মশুদ্ধির বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেক ইমানদারের উচিত আত্মশুদ্ধিকে জীবনের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা।