ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপনে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আল-শারা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • ৮১ বার

সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা আজারবাইজানে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও দামেস্ক এই বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্সির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, অন্তত একটি বৈঠকে আল-শারার উপস্থিতি নিশ্চিত।

রোববার (১৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে সামা টিভি।

বৈঠকগুলোতে ইসরাইল-সিরিয়ার সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তি, ইরানের প্রভাব, হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার, লেবানন থেকে পরিচালিত ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর ভবিষ্যৎ এবং গাজা থেকে বিতাড়িত ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এই আলোচনায় সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসআদ আল-শিবানী এবং ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা সংলাপ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আহমেদ আল-দালাতি উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ইসরাইলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিশেষ দূত এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক-গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ছিলেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকগুলো আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই স্থান নির্ধারণ করেছে, যাতে ইরানকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া যায়। বাকু এর আগেও ইসরাইল-তুরস্ক এবং আঞ্চলিক নানা মধ্যস্থতায় ভূমিকা রেখেছে।

আলোচনায় দামাস্কাসে ইসরাইলের একটি সমন্বয় অফিস খোলার বিষয়েও কথা হয়েছে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি নয়, তবে ইসরাইল-সিরিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সম্প্রতি আল-শারা আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে দেখা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরের ফাঁকেই সিরিয়ান ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাদা বৈঠক হয়েছে। তবে সিরিয়ার সরকারি সূত্র দাবি করছে, এই আলোচনায় আল-শারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না।

বেশ কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আবুধাবিতে আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে পরে জানা যায়, ওই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন, ফলে এই খবরের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আসাদের শাসনের শেষ দিকে ইসরাইল সিরিয়ার কিছু অঞ্চলে সামরিক অবস্থান নেয়, সেই উপস্থিতির ভবিষ্যতও এই আলোচনার মূল এজেন্ডায় রয়েছে।

যদিও এই বৈঠকগুলোর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়, তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইসরাইল এবং সিরিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সরাসরি গোপন আলোচনায় বসা মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাকু এই আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে।

ইসরাইল এবং সিরিয়ার কোনো পক্ষই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপনে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আল-শারা

আপডেট টাইম : ০৬:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা আজারবাইজানে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও দামেস্ক এই বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্সির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, অন্তত একটি বৈঠকে আল-শারার উপস্থিতি নিশ্চিত।

রোববার (১৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে সামা টিভি।

বৈঠকগুলোতে ইসরাইল-সিরিয়ার সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তি, ইরানের প্রভাব, হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার, লেবানন থেকে পরিচালিত ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর ভবিষ্যৎ এবং গাজা থেকে বিতাড়িত ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এই আলোচনায় সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসআদ আল-শিবানী এবং ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা সংলাপ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আহমেদ আল-দালাতি উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ইসরাইলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিশেষ দূত এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক-গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ছিলেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকগুলো আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই স্থান নির্ধারণ করেছে, যাতে ইরানকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া যায়। বাকু এর আগেও ইসরাইল-তুরস্ক এবং আঞ্চলিক নানা মধ্যস্থতায় ভূমিকা রেখেছে।

আলোচনায় দামাস্কাসে ইসরাইলের একটি সমন্বয় অফিস খোলার বিষয়েও কথা হয়েছে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি নয়, তবে ইসরাইল-সিরিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সম্প্রতি আল-শারা আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে দেখা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরের ফাঁকেই সিরিয়ান ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাদা বৈঠক হয়েছে। তবে সিরিয়ার সরকারি সূত্র দাবি করছে, এই আলোচনায় আল-শারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না।

বেশ কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আবুধাবিতে আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে পরে জানা যায়, ওই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন, ফলে এই খবরের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আসাদের শাসনের শেষ দিকে ইসরাইল সিরিয়ার কিছু অঞ্চলে সামরিক অবস্থান নেয়, সেই উপস্থিতির ভবিষ্যতও এই আলোচনার মূল এজেন্ডায় রয়েছে।

যদিও এই বৈঠকগুলোর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়, তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইসরাইল এবং সিরিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সরাসরি গোপন আলোচনায় বসা মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাকু এই আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে।

ইসরাইল এবং সিরিয়ার কোনো পক্ষই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।