মুহিব খান আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি কবি। বিপুল জননন্দিত সঙ্গীতজ্ঞ ও শিল্পী। লেখক, কলামিস্ট, সাংবাদিক। আবৃত্তিকার, সুবক্তা ও উপস্থাপক। বরেণ্য আলেমে দ্বীন, দার্শনিক ও রাষ্ট্রচিন্তক।
মুহিব খান ১৯৭৯ সালের ১৪ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নূর মনযিলে জন্মগ্রহণ করেন। বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ, মুফাসসিরে কুরআন ও সীরাত গবেষক, জনপ্রিয় জননেতা, সুবক্তা ও রাজনীতিক, প্রাজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, মাওলানা আতাউর রহমান খান রহঃ তার সম্মানিত পিতা।
তিনি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ইসলামিক স্টাডিজে (তাকমিল) স্নাতকোত্তর ও ২০০৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
বর্তমানে তিনি ইসলামিক কালচারাল ইনস্টটিউিট (আইসিআই)-এর মহাপরিচালক, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হলি মিডিয়া’র চেয়ারম্যান, জাতীয় সাংস্কৃতিক পরিষদ- এর সভাপতি এবং সেন্টার ফর বাংলাদেশ এনালাইসিস (সিবিএ)- এর সভাপতি হিসেবে কর্মরত আছেন।
তিনি বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইসলামী স্যাটেলাইট চ্যানেল ইসলামিক টিভির অনুষ্ঠান প্রধান, সাপ্তাহিক লিখনী-সহ বিভিন্ন পত্রিকা ম্যাগাজিন ও অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিল্পী আলোচক ও বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুহিব খান বাংলা, হিন্দি, উর্দু, আরবি ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় কবিতা ও সংগীতের রচয়িতা। সাহিত্য, দর্শন, ভ্রমণ, ধর্মতত্ত্ব, রাষ্ট্রচিন্তা ও গবেষণাধর্মী অনেক বইয়ের লেখক।
তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে পবিত্র কুরআনের পূর্ণাঙ্গ ও বিশুদ্ধ কাব্যানুবাদ- ‘ আল কুরআনের কাব্যানুবাদ’ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী সাহিত্য এবং বাংলা সাহিত্যের এক অনবদ্য বিস্ময়।
তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে- লাল সাগরের ঢেউ’ প্রাণের আওয়াজ, অচিনকাব্য, মুরাকাবা, আগুনের ফুল, নতুন ঝড়, প্রেম বিরহের মাঝে, তৃষ্ণা মেটে না মোর, সুন্দর গল্প, আমার গান, কওমি কাহিনী, হেফাজত সমাচার, নারী নাস্তিক মিডিয়া ও সংস্কৃতি, ভিন্ন চোখে, পৃথিবীর পথে, মেঘে ঢাকা সুন্নত ও কোন পথে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য।
তার রচনা সুর ও কন্ঠে প্রিয়নবী সাঃ এর জীবন-ভিত্তিক ঐতিহাসিক গীতিকাব্য ‘দাস্তানে মুহাম্মাদ’ বাংলাভাষায় পৃথীবীর অনন্য সাধারণ এক সীরাতকর্ম।
তার রচিত বিপুল জননন্দিত দেশাত্মবোধক উদ্দীপনা সংগীত ‘ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি’ কে বিভিন্ন সময়ে দেশপ্রেমিক সর্বস্তরের নাগরিকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিকল্প জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করার দাবী ও প্রস্তাবনা উঠেছে।
তার লেখা সংগীত দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় সংগীতশিল্পীদের কন্ঠে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ সকল টেলিভিশনে এক যুগে প্রচারিত হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি’র বিশেষ দলীযয় সংগীত এবং বাংলাদেশ সেনা নৌ বিমানবাহিনী ও সীমান্তপ্রহরীদের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ‘সামরিক সংগীত’ এরও রচয়িতা তিনি।
তার লেখা দেশাত্মবোধক সংগীত- ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি/সোনার চাইতে খাঁটি। ইচ্ছে হলেই দেখতে এসো বাংলাদেশ।জেগেছে বাংলাদেশ/এখনই সময় তার। এ মাটির পরতে পরতে। এটা বাংলাদেশ। আবার যুদ্ধ হবে। জাগো জাগো- বাঁচাও বাংলাদেশ / তোমার আমার প্রাণের বাংলাদেশ। মুক্তি মিছিল-সহ আরও অনেক জাতি জাগানিয়া গণসংগীত দীর্ঘদিন যাবত তরুণদের ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত করে আসছে। দেশ ও জাতির নানা ক্রান্তিলগ্নে দেয়াল লিখনে, মিছিলে স্লোগানে, আন্দোলন-সংগ্রামে, বিপ্লব-অভ্যুত্থানে গত দু‘ দশক ধরে ও সাম্প্রতিক সময়ে তার লেখা কবিতা ও গান উদ্দীপ্ত করেছে গোটা জাতিকে।
প্রবাসীদের জন্য তার গান বাংলাদেশের সন্তান তুমি, বাংলা তোমার ঘর/তোমার দূর পরবাসী বুকজুড়ে বাংলাদেশি অন্তর। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছে এবং দেশের অর্থনীতি সচল করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
সর্বোপরি ইসলামী চেতনা, নির্যাতিত মুসলিম বিশ্ব, মুসলিম উম্মার ঐক্য, জন্মভূমির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সংহতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বিশ্ব মানবতা ও সত্য-ন্যায়ের পক্ষে এবং সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, স্বৈরাচার, দুঃশাসন, অন্যায় অনিয়ম ও জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে তার লেখা জাতি জাগানিয়া কবিতা ও সংগীতের সংখ্যা অনেক। যা দিয়ে তিনি দীর্ঘ দুই যুগ ধরে দেশে ও বহিঃর্বিশ্বে লক্ষ লক্ষ শ্রোতা ও ভক্তদের ভীষণভাবে আন্দোলিত ও অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
এছাড়া কৃষক শ্রমিক মাঝি-মাল্লা গরিব-কাঙ্গাল কারাবন্দী ও প্রবাসীসহ বিভিন্ন অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্যও তার কলম ও কণ্ঠ সদা জাগ্রত।
একবিংশ শতাব্দীর ঊষালগ্ন থেকে একটি দেশ-প্রেমিক সাহসী সচেতন প্রজন্ম বিনির্মাণের পথ ধরে ২০২৪ সালের যুগান্তকারী ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি রচনায় তার জ্বালাময়ী সঙ্গীত কবিতা বক্তৃতা ও নির্দেশনার সুদীর্ঘ অবদান অনস্বীকার্য।
উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালের ২৪ জুলাই মঙ্গলবার পূর্ব-লন্ডনের এক জনাকীর্ণ সংবর্ধনায় তাকে মুসলিম উম্মাহর জাতীয় কবি উপাধীতে ভূষিত করা হয়।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন বই বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ‘রকমারি‘র বইমেলা ২০২২ এর বেস্ট সেলার বই ও বেস্ট সেলার লেখক এর দু‘টো সম্মাননা ই তিনি অর্জন করেন।
এ ছাড়াও ‘প্রিন্সিপ্যাল ইব্রাহীম খাঁ সম্মাননা পদক‘ ও ‘আনজুমানে ইত্তেহাদ স্বর্ণ পদক‘-সহ দেশের বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ধর্মীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।
তার সাহিত্যকর্ম ও রচনাবলীতে বিশ্বখ্যাত সুফি কবি মাওলানা রুমি, শেখ সাদী, ওমর খৈয়াম, কবি হাফিজ, মির্জা গালিব, মহাকবি ইকবাল এবং কবি নজরুলের ভাব চিন্তা ও দর্শনের সমন্বিত উপস্থিতি পাঠকের হৃদয় মনকে আলোড়িত করে।
বলা বাহুল্য যে, বাংলাদেশে আধ্যাত্মিক সাধক কবি ফকির লালন শাহ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং অন্যতম বিশেষ ক’জনের পর কবি মুহিব খানের অজস্র বহুমাত্রিক কবিতা ও সংগীতকে অবলম্বন করে দিনমান উৎসব আয়োজন করা হয়ে থাকে।
ইতিমধ্যে তাকে ও তার শিল্প-সাহিত্যকর্মকে ঘিরে ঢাকার ‘বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র-সহ আরো কিছু মিলনায়তনে বিভিন্ন সাহিত্য সংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ আয়োজনে অসংখ্য শ্রোতার সরব সমাগম পরিলক্ষিত হয়। যা তার সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর বহন করে।
তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। বিশ্বভ্রমণ তার অন্যতম পছন্দনীয় বিষয়। ব্যক্তিজীবনে সৎ, সুন্দর, উদার, আধুনিক ও ন্যায়পরায়ণ।
এ যাবত তার অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননার পরিমাণ কম নয়। দেশে ও বহির্বিশ্বে তিনি ‘জাগ্রত কবি’ ও ‘মহাকবি’ উপাধিতে বিপুল সমাদৃত।
আমরা তার সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করি।
Reporter Name 
























