ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নাসুমকে চড় মারা’ প্রসঙ্গে যা বললেন হাথুরুসিংহে ও তার দুই সহকারী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
  • ১১২ বার

২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল বিবর্ণ। তবে সেসব ছাপিয়ে আরও একটি ব্যাপার নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। চাউর হয়েছিল, বিশ্বকাপ চলাকালে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসুম আহমেদকে চড় মেরেছেন তখনকার প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

‘নাসুমকে চড় মারা’ প্রসঙ্গটি নিয়ে তখনকার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কখনো স্পষ্ট উত্তর দেননি বা অস্বীকার করেছেন। প্রকাশ্যে নাসুম আহমেদও এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি। তবে বিশ্বকাপের পর করা তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার উল্লেখ আছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। এবার ঘটনা অস্বীকার করলেন হাথুরুসিংহে নিজে।

গতকাল রবিবার কোড স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপে হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন, পুরো ব্যাপারটি সম্পর্কে বিসিবি কখনো তার কাছে কিছু জানতে চায়নি। মাঠে ব্যাটারদের হ্যান্ডগ্লাভস পাঠানোর জন্য ডাগআউটে পেছনে বসে নাসুমের পিঠে টোকা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন শ্রীলংকান এই কোচ।

হাথুরুসিংহে বলেন, ‘আমি কখনো কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ঝগড়া করিনি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আবেগ দেখাই না আমি। হয়তো হতাশা থেকে আমি একটি ডাস্টবিনে লাথি দিয়েছি, যে কোনো কোচের ক্ষেত্রেই এমনটা হয়। কিন্তু যা হয়েছে, তার থেকে এটা একেবারেই আলাদা। এটা আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আমি জানি না অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত কত সুযোগ আমি হারিয়েছি। তারা কেবল আমার চুক্তি বাতিল করার চেষ্টা করেছে। নতুন সভাপতির পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ছিল এটা।’

বিসিবির বিরুদ্ধে ক্যারিয়ার ধ্বংসের অভিযোগও আনেন হাথুরুসিংহে, ‘এটাই (ক্রিকেট) সবকিছু, কারণ এটাই আমার ক্যারিয়ার। তারা আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অভিযোগ এনে আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে।’

নাসুমকে চড় মারার মতো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন হাথুরুসিংহে আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ ও সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার নিক পোথাস। তিনি বলেছেন, ‘তিনি খুব অভিজ্ঞ ও পেশাদার একজন কোচ। যদি তিনি এরকম হতেন, তাহলে এই পর্যায়ে টিকে থাকতে পারতেন না। আমি মনে করি, যারাই এমন অভিযোগ করেছেন তাদের (তার প্রতি) কিছুটা ক্ষোভ থাকতে পারে। আর যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছে সে হয়তো ভাবেনি যে, বিষয়টি এভাবে বিস্ফোরিত হবে। আর এখন যা কিছু ঘটেছে, তাতে আমার মনে হয় না সে অনুধাবন করতে পেরেছে যে, সে কতটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং বাংলাদেশ অধ্যায়ের পর হাথুরুর জীবনকে কতটা কঠিন করে তুলেছে। (খেলোয়াড়দের পিঠে চাপড় দেওয়ার ঘটনা) সব সময় ঘটে। ভাষার সমস্যার কারণে, হাতের ইশারায় অনেক সময় যোগাযোগ করতে হয়।’

হাথুরুসিংহের কোচিং স্টাফে ছিলেন সাবেক লঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথও। নাসুমকে চড় মারার অভিযোগটি বানোয়াট ছিল বলে দাবি তারও, ‘আমি সরাসরি বলতে পারি যে, কিছুই ঘটেনি। বিশ্বকাপ চলাকালীন তার ওপর অনেক ক্যামেরা ছিল। মানুষ বলতে পারে যে, একটি ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু প্রমাণ তো থাকতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বলছি যে, এরকম কিছুই ঘটেনি, কারণ আমি সেখানে ছিলাম। চড় মারা ও (পিঠে) ধাক্কার মতো দেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

নাসুমকে চড় মারা’ প্রসঙ্গে যা বললেন হাথুরুসিংহে ও তার দুই সহকারী

আপডেট টাইম : ১১:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল বিবর্ণ। তবে সেসব ছাপিয়ে আরও একটি ব্যাপার নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। চাউর হয়েছিল, বিশ্বকাপ চলাকালে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসুম আহমেদকে চড় মেরেছেন তখনকার প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

‘নাসুমকে চড় মারা’ প্রসঙ্গটি নিয়ে তখনকার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কখনো স্পষ্ট উত্তর দেননি বা অস্বীকার করেছেন। প্রকাশ্যে নাসুম আহমেদও এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি। তবে বিশ্বকাপের পর করা তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার উল্লেখ আছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। এবার ঘটনা অস্বীকার করলেন হাথুরুসিংহে নিজে।

গতকাল রবিবার কোড স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপে হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন, পুরো ব্যাপারটি সম্পর্কে বিসিবি কখনো তার কাছে কিছু জানতে চায়নি। মাঠে ব্যাটারদের হ্যান্ডগ্লাভস পাঠানোর জন্য ডাগআউটে পেছনে বসে নাসুমের পিঠে টোকা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন শ্রীলংকান এই কোচ।

হাথুরুসিংহে বলেন, ‘আমি কখনো কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ঝগড়া করিনি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আবেগ দেখাই না আমি। হয়তো হতাশা থেকে আমি একটি ডাস্টবিনে লাথি দিয়েছি, যে কোনো কোচের ক্ষেত্রেই এমনটা হয়। কিন্তু যা হয়েছে, তার থেকে এটা একেবারেই আলাদা। এটা আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আমি জানি না অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত কত সুযোগ আমি হারিয়েছি। তারা কেবল আমার চুক্তি বাতিল করার চেষ্টা করেছে। নতুন সভাপতির পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ছিল এটা।’

বিসিবির বিরুদ্ধে ক্যারিয়ার ধ্বংসের অভিযোগও আনেন হাথুরুসিংহে, ‘এটাই (ক্রিকেট) সবকিছু, কারণ এটাই আমার ক্যারিয়ার। তারা আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অভিযোগ এনে আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে।’

নাসুমকে চড় মারার মতো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন হাথুরুসিংহে আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ ও সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার নিক পোথাস। তিনি বলেছেন, ‘তিনি খুব অভিজ্ঞ ও পেশাদার একজন কোচ। যদি তিনি এরকম হতেন, তাহলে এই পর্যায়ে টিকে থাকতে পারতেন না। আমি মনে করি, যারাই এমন অভিযোগ করেছেন তাদের (তার প্রতি) কিছুটা ক্ষোভ থাকতে পারে। আর যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছে সে হয়তো ভাবেনি যে, বিষয়টি এভাবে বিস্ফোরিত হবে। আর এখন যা কিছু ঘটেছে, তাতে আমার মনে হয় না সে অনুধাবন করতে পেরেছে যে, সে কতটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং বাংলাদেশ অধ্যায়ের পর হাথুরুর জীবনকে কতটা কঠিন করে তুলেছে। (খেলোয়াড়দের পিঠে চাপড় দেওয়ার ঘটনা) সব সময় ঘটে। ভাষার সমস্যার কারণে, হাতের ইশারায় অনেক সময় যোগাযোগ করতে হয়।’

হাথুরুসিংহের কোচিং স্টাফে ছিলেন সাবেক লঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথও। নাসুমকে চড় মারার অভিযোগটি বানোয়াট ছিল বলে দাবি তারও, ‘আমি সরাসরি বলতে পারি যে, কিছুই ঘটেনি। বিশ্বকাপ চলাকালীন তার ওপর অনেক ক্যামেরা ছিল। মানুষ বলতে পারে যে, একটি ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু প্রমাণ তো থাকতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বলছি যে, এরকম কিছুই ঘটেনি, কারণ আমি সেখানে ছিলাম। চড় মারা ও (পিঠে) ধাক্কার মতো দেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার।’