ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

কোয়েল পাখির গ্রাম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:০১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০১৫
  • ১৮১৩ বার

গোড়ল গ্রামের মনিরুজ্জামানের স্বপ্ন ছিল কোয়েল পাখির গ্রাম বানাবেন। সেই গ্রামে পাখির পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি করবেন। মনিরুজ্জামানের সে স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। তিনি সত্যিই কোয়েল পাখির গ্রাম করেছেন।

লালমনিরহাট শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা কালিগঞ্জ। সেখানেই গোড়ল গ্রাম। এখানকারই বাসিন্দা মনিরুজ্জামান। বেকার জীবনে যখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছিলেন, ঠিক তখনই (২০১১ সালে) ৩০০  কোয়েল পাখি নিয়ে একটি খামার তৈরি করেন। স্ত্রী আনজুয়ারার নামে নাম রাখেন ‘এ এগ্রো ফার্ম’। ৩০০ কোয়েল পাখি নিয়ে শুরু করলেও এখন তার খামারে ১৫ হাজার পাখি। প্রতিদিন ডিম আর বাচ্চা বিক্রি করে তাদের বেশ আয় হচ্ছে। পাখির মাংস লালমনিরহাট ছাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এতেও প্রতিদিন গড়ে আয় হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। পাখি, ডিম আর বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা কোয়েল পাখির এই খামার থেকে মনিরুজ্জামান এখন সফল খামারি হিসাবে পরিচিত। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কোয়েল পাখি আর ডিমের ব্যবসায় ব্যস্ত সময় কাটে তাদের। মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রথম দুই বছর তাকে বেশ লোকসান দিতে হয়েছে। তবুও প্রতিজ্ঞা করেন, গ্রামের বেকার মানুষের স্বার্থে হলেও এই কোয়েল পাখি পালন করতে হবে। গ্রামের মানুষের ডিমের চাহিদা মেটাতেও এটা করতে হবে। তিনি নতুন চিন্তায় নতুন করে খামার করার পরিকল্পনা করেন। নিজের জমিতে গড়ে তোলেন খামার। খনন করেন পুকুর। তাতে করেন মাছের চাষ। আর তারই চারপাশে বিশাল চালায় গড়ে তোলেন কোয়েল পাখির খামার। তারপর এক বছরের মাথায় পাখির সংখ্যা যেমন বাড়তে থাকে, তেমনি বাড়তে থাকে ডিম। মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এটি ১৫ হাজার পাখির খামারে পরিণত হয়। এই কোয়েল পাখির ব্যবসা করে সংসার চলছে গ্রামের অন্তত ৩৫ জন বেকার মানুষের। ফেরি করে পাখি ও ডিম বিক্রি করে ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা ও সংসার খরচ জোগাচ্ছেন তারা। লালমনিরহাট জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা আবু হোসেন সরকার জানান, মনিরুজ্জামান একজন সফল উদ্যোক্তা।তাকে মডেল হিসেবে ধরেই আমরা এখন কোয়েল পাখির ছোট ছোট খামার গড়ার কথা ভাবছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

কোয়েল পাখির গ্রাম

আপডেট টাইম : ০৪:০১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০১৫

গোড়ল গ্রামের মনিরুজ্জামানের স্বপ্ন ছিল কোয়েল পাখির গ্রাম বানাবেন। সেই গ্রামে পাখির পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি করবেন। মনিরুজ্জামানের সে স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। তিনি সত্যিই কোয়েল পাখির গ্রাম করেছেন।

লালমনিরহাট শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা কালিগঞ্জ। সেখানেই গোড়ল গ্রাম। এখানকারই বাসিন্দা মনিরুজ্জামান। বেকার জীবনে যখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছিলেন, ঠিক তখনই (২০১১ সালে) ৩০০  কোয়েল পাখি নিয়ে একটি খামার তৈরি করেন। স্ত্রী আনজুয়ারার নামে নাম রাখেন ‘এ এগ্রো ফার্ম’। ৩০০ কোয়েল পাখি নিয়ে শুরু করলেও এখন তার খামারে ১৫ হাজার পাখি। প্রতিদিন ডিম আর বাচ্চা বিক্রি করে তাদের বেশ আয় হচ্ছে। পাখির মাংস লালমনিরহাট ছাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এতেও প্রতিদিন গড়ে আয় হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। পাখি, ডিম আর বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা কোয়েল পাখির এই খামার থেকে মনিরুজ্জামান এখন সফল খামারি হিসাবে পরিচিত। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কোয়েল পাখি আর ডিমের ব্যবসায় ব্যস্ত সময় কাটে তাদের। মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রথম দুই বছর তাকে বেশ লোকসান দিতে হয়েছে। তবুও প্রতিজ্ঞা করেন, গ্রামের বেকার মানুষের স্বার্থে হলেও এই কোয়েল পাখি পালন করতে হবে। গ্রামের মানুষের ডিমের চাহিদা মেটাতেও এটা করতে হবে। তিনি নতুন চিন্তায় নতুন করে খামার করার পরিকল্পনা করেন। নিজের জমিতে গড়ে তোলেন খামার। খনন করেন পুকুর। তাতে করেন মাছের চাষ। আর তারই চারপাশে বিশাল চালায় গড়ে তোলেন কোয়েল পাখির খামার। তারপর এক বছরের মাথায় পাখির সংখ্যা যেমন বাড়তে থাকে, তেমনি বাড়তে থাকে ডিম। মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এটি ১৫ হাজার পাখির খামারে পরিণত হয়। এই কোয়েল পাখির ব্যবসা করে সংসার চলছে গ্রামের অন্তত ৩৫ জন বেকার মানুষের। ফেরি করে পাখি ও ডিম বিক্রি করে ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা ও সংসার খরচ জোগাচ্ছেন তারা। লালমনিরহাট জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা আবু হোসেন সরকার জানান, মনিরুজ্জামান একজন সফল উদ্যোক্তা।তাকে মডেল হিসেবে ধরেই আমরা এখন কোয়েল পাখির ছোট ছোট খামার গড়ার কথা ভাবছি।