ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাঁড়িভাঙার ২০০ কোটি টাকার বাজার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪
  • ১৪ বার
উত্তরের জেলা রংপুরের অর্থনীতিতে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে আঁশবিহীন সুস্বাদু আম হাঁড়িভাঙা। প্রতিনিয়তই বাড়ছে এই আমের বাজার। চলতি মৌসুমে আমটির বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। গত মৌসুমেও এই আমের বাজার ছিল ১৫০ কোটি টাকার বেশি।

রংপুর কৃষি বিপণনের তথ্য বলছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ মৌসুমে হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন কিছুটা কমতে পারে। কারণ আমের আকার ছোট।

হাঁড়িভাঙা আমের বৈশিষ্ট্য হলো এটি আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু। এর আঁটিও খুব ছোট।

খোসা পাতলা। প্রতিটি আমের ওজন ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।

জেলা কৃষি বিপণন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, এ মৌসুমে গোটা জেলায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে।

ক্রবার পর্যন্ত কম বৃষ্টি ও ভাপসা গরম থাকতে পারে 

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা কৃষি বিপণন কার্যালয়ের সহকারী কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহীন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বছর আমের ফলন কিছুটা কম। এর অন্যতম প্রধান কারণ বৈরী আবহাওয়া। তবু আমাদের ২০০ কোটি টাকার আম বিক্রির প্রত্যাশা রয়েছে। আমের হারভেস্ট শেষ হলে চূড়ান্ত হিসাব দিতে পারব।’

গত সোমবার রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে ক্যারেট ভর্তি আম নিয়ে হাটে আসছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

কেউ কেউ সাইকেলে করেও আম নিয়ে এসেছেন। তবে বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতা কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আসা আম অনুপাতে দাম নেই। আম বাগানি ফুয়াদ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার বাগানত খরচা বেশি গেছে। কিন্তু কাস্টমার সে হিসাবত দাম কয় না।’

গত সোমবার পদাগঞ্জ বাজারে পাইকারিতে বড় পাকা আম গড়ে প্রতি মণ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় কাঁচা আম বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। পাকা মাঝারি আম বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। আর ছোট আম বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই নাখোশ এই দামে। ক্রেতারা বলছেন দাম বেশি আর বিক্রেতারা বলছেন দাম কম।

রংপুরের রানীগঞ্জ থেকে শাহীন নামের এক বাগানি বিক্রির জন্য পদাগঞ্জ হাটে নিয়ে এসেছেন ২০ ক্যারেট আম। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘দুই-তিন দিন ধরি আমের দাম কম। আগত বাজারত এত আম ছিল না, ওই জন্য দাম একনা বেশি পাইছিলং। এলা বাজারত আম বেশি, সবার আম একসাথে পাকছে। আর সবাই এক সাথত আনছে, ওই জন্যে হাটত আম বেশি আর দাম কম।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছর রংপুর জেলায় তিন হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের আবাদ হয়েছে এক হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ রিয়াজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ মৌসুমে যখন হাঁড়িভাঙা আমের মুকুল আসে, ঠিক সে সময় বৃষ্টির কারণে আমের মুকুলের ক্ষতি হয়। আবার পরে একটা দীর্ঘ খরা ছিল। এ জন্য এই অঞ্চলে হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন কিছুটা কম হতে পারে। তবে মৌসুম শেষ হলে আমরা পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে পারব।’

প্রতিদিন বিক্রি প্রায় ২ কোটি টাকার আম

পদাগঞ্জের এই হাট চলে ভোর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। হাটে যেমন খুচরা আম বিক্রি হয়, তেমনি বিক্রি হয় পাইকারিও। এখানে খুচরার চেয়ে পাইকারি বিক্রি বেশি। এই আম চলে যায় দেশের নানা প্রান্তে। সরকারি নির্দেশনামতো হাটে হাঁড়িভাঙা ২০ জুন থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে কমপক্ষে আরো ২০ দিন। প্রতিদিন এই হাটে বিক্রি হচ্ছে প্রায় দুই কোটি টাকার আ

হাটের ইজারাদারদের একজন ফেরদৌস আলী ফদ্দু মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, এই হাটে দোকানভেদে ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকার পাইকারি আম বিক্রি হয়। সেই হিসাব করলে এখানে পাইকারি বড় দোকান আছে ২০টিরও বেশি। আর তারা গড়ে দুই কোটি টাকারও বেশি আম বিক্রি করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হাঁড়িভাঙার ২০০ কোটি টাকার বাজার

আপডেট টাইম : ১০:৫০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪
উত্তরের জেলা রংপুরের অর্থনীতিতে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে আঁশবিহীন সুস্বাদু আম হাঁড়িভাঙা। প্রতিনিয়তই বাড়ছে এই আমের বাজার। চলতি মৌসুমে আমটির বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। গত মৌসুমেও এই আমের বাজার ছিল ১৫০ কোটি টাকার বেশি।

রংপুর কৃষি বিপণনের তথ্য বলছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ মৌসুমে হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন কিছুটা কমতে পারে। কারণ আমের আকার ছোট।

হাঁড়িভাঙা আমের বৈশিষ্ট্য হলো এটি আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু। এর আঁটিও খুব ছোট।

খোসা পাতলা। প্রতিটি আমের ওজন ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।

জেলা কৃষি বিপণন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, এ মৌসুমে গোটা জেলায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে।

ক্রবার পর্যন্ত কম বৃষ্টি ও ভাপসা গরম থাকতে পারে 

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা কৃষি বিপণন কার্যালয়ের সহকারী কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহীন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বছর আমের ফলন কিছুটা কম। এর অন্যতম প্রধান কারণ বৈরী আবহাওয়া। তবু আমাদের ২০০ কোটি টাকার আম বিক্রির প্রত্যাশা রয়েছে। আমের হারভেস্ট শেষ হলে চূড়ান্ত হিসাব দিতে পারব।’

গত সোমবার রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে ক্যারেট ভর্তি আম নিয়ে হাটে আসছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

কেউ কেউ সাইকেলে করেও আম নিয়ে এসেছেন। তবে বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতা কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আসা আম অনুপাতে দাম নেই। আম বাগানি ফুয়াদ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার বাগানত খরচা বেশি গেছে। কিন্তু কাস্টমার সে হিসাবত দাম কয় না।’

গত সোমবার পদাগঞ্জ বাজারে পাইকারিতে বড় পাকা আম গড়ে প্রতি মণ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় কাঁচা আম বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। পাকা মাঝারি আম বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। আর ছোট আম বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই নাখোশ এই দামে। ক্রেতারা বলছেন দাম বেশি আর বিক্রেতারা বলছেন দাম কম।

রংপুরের রানীগঞ্জ থেকে শাহীন নামের এক বাগানি বিক্রির জন্য পদাগঞ্জ হাটে নিয়ে এসেছেন ২০ ক্যারেট আম। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘দুই-তিন দিন ধরি আমের দাম কম। আগত বাজারত এত আম ছিল না, ওই জন্য দাম একনা বেশি পাইছিলং। এলা বাজারত আম বেশি, সবার আম একসাথে পাকছে। আর সবাই এক সাথত আনছে, ওই জন্যে হাটত আম বেশি আর দাম কম।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছর রংপুর জেলায় তিন হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের আবাদ হয়েছে এক হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ রিয়াজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ মৌসুমে যখন হাঁড়িভাঙা আমের মুকুল আসে, ঠিক সে সময় বৃষ্টির কারণে আমের মুকুলের ক্ষতি হয়। আবার পরে একটা দীর্ঘ খরা ছিল। এ জন্য এই অঞ্চলে হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন কিছুটা কম হতে পারে। তবে মৌসুম শেষ হলে আমরা পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে পারব।’

প্রতিদিন বিক্রি প্রায় ২ কোটি টাকার আম

পদাগঞ্জের এই হাট চলে ভোর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। হাটে যেমন খুচরা আম বিক্রি হয়, তেমনি বিক্রি হয় পাইকারিও। এখানে খুচরার চেয়ে পাইকারি বিক্রি বেশি। এই আম চলে যায় দেশের নানা প্রান্তে। সরকারি নির্দেশনামতো হাটে হাঁড়িভাঙা ২০ জুন থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে কমপক্ষে আরো ২০ দিন। প্রতিদিন এই হাটে বিক্রি হচ্ছে প্রায় দুই কোটি টাকার আ

হাটের ইজারাদারদের একজন ফেরদৌস আলী ফদ্দু মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, এই হাটে দোকানভেদে ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকার পাইকারি আম বিক্রি হয়। সেই হিসাব করলে এখানে পাইকারি বড় দোকান আছে ২০টিরও বেশি। আর তারা গড়ে দুই কোটি টাকারও বেশি আম বিক্রি করে।