ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মদনে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ব্লক নির্মাণ, হেলে গেছে গাইডওয়াল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪
  • ৭ বার

নিজাম (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মদনে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ব্লক নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের পাথর, বালি বেশী, সিমেন্ট কম দিয়ে তৈরী হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা ব্লক। কাজের শুরুতেই দায়সারা গুছের এমন কাজ করায় সড়কের স্থায়িত্বকাল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মদন উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মদন সদর ইউনিয়নের বৃবড়িকান্দি গ্রামের ৪ হাজার ২০৯ মিটার সড়ক ব্লকসহ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মের্সাস অনিশা এন্টারপ্রাইজ নামীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৫১ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৫ জুন কাজটি শুরু করে চলতি বছরে ১১ নভেম্বর কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু কাজ শুরু করার সাথে সাথেই ঠিকাদার ব্যাপক অনিয়ম করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার পানিতে সড়কের এক পাশ পানিতে ডুবে যাচ্ছে। ডুবে যাওয়া অংশে কিছু দিন আগে নির্মাণ করা গাইডওয়াল হেলে গেছে। এবার হাওরের ঢেউয়ে সড়কটির মাটি সরে যাবে। এতে সড়ক রক্ষার জন্য নিম্নমানের ব্লকগুলো সড়কের পূর্বপাশে আপাদত বসানোর নির্দেশ দিয়েছে এলজিইডি। এ নিয়ে সড়কের কাজের স্থায়িত্বকাল নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা সংশয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ডালিম মিয়া, রুবেলসহ অনেকেই জানান, কাজ শুরু করার সময় যে গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে তা পানি আসার আগেই হেলে পড়েছে। যেনতেন ভাবে মাটি ফেলে সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। ঠিকাদার ইচ্ছা মতো ব্লক নির্মাণ করেছে। হাওরবাসীর এই রাস্তাটি খুবই প্রয়োজন। তাই নির্মাণ কাজ যেনো ভাল হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অলিউল্লাহ জানান, নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজে কোন ধরণের অনিয়ম করা হচ্ছে না।

মদন উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল জানান, বর্ষায় হাওরে প্রচন্ড ঢেউ এসে এই রাস্তায় ধাক্কা দেয়। নতুন মাটি যাতে সরে না যায় তাই সাময়িক ভাবে ব্লকগুলো স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ষার পর পুনরায় ব্লকগুলো স্থাপন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

মদনে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ব্লক নির্মাণ, হেলে গেছে গাইডওয়াল

আপডেট টাইম : ০৬:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪

নিজাম (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মদনে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ব্লক নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের পাথর, বালি বেশী, সিমেন্ট কম দিয়ে তৈরী হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা ব্লক। কাজের শুরুতেই দায়সারা গুছের এমন কাজ করায় সড়কের স্থায়িত্বকাল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মদন উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মদন সদর ইউনিয়নের বৃবড়িকান্দি গ্রামের ৪ হাজার ২০৯ মিটার সড়ক ব্লকসহ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মের্সাস অনিশা এন্টারপ্রাইজ নামীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৫১ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৫ জুন কাজটি শুরু করে চলতি বছরে ১১ নভেম্বর কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু কাজ শুরু করার সাথে সাথেই ঠিকাদার ব্যাপক অনিয়ম করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার পানিতে সড়কের এক পাশ পানিতে ডুবে যাচ্ছে। ডুবে যাওয়া অংশে কিছু দিন আগে নির্মাণ করা গাইডওয়াল হেলে গেছে। এবার হাওরের ঢেউয়ে সড়কটির মাটি সরে যাবে। এতে সড়ক রক্ষার জন্য নিম্নমানের ব্লকগুলো সড়কের পূর্বপাশে আপাদত বসানোর নির্দেশ দিয়েছে এলজিইডি। এ নিয়ে সড়কের কাজের স্থায়িত্বকাল নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা সংশয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ডালিম মিয়া, রুবেলসহ অনেকেই জানান, কাজ শুরু করার সময় যে গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে তা পানি আসার আগেই হেলে পড়েছে। যেনতেন ভাবে মাটি ফেলে সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। ঠিকাদার ইচ্ছা মতো ব্লক নির্মাণ করেছে। হাওরবাসীর এই রাস্তাটি খুবই প্রয়োজন। তাই নির্মাণ কাজ যেনো ভাল হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অলিউল্লাহ জানান, নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজে কোন ধরণের অনিয়ম করা হচ্ছে না।

মদন উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল জানান, বর্ষায় হাওরে প্রচন্ড ঢেউ এসে এই রাস্তায় ধাক্কা দেয়। নতুন মাটি যাতে সরে না যায় তাই সাময়িক ভাবে ব্লকগুলো স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ষার পর পুনরায় ব্লকগুলো স্থাপন করা হবে।