ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩৪৫০২ কোটি টাকা স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা জরুরি : সংস্কৃতি মন্ত্রী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের সৎ মায়ের নির্যাতন, মা’র কবরের পাশে শিশুর কান্না ভাইরাল নতুন সিদ্ধান্ত, ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ডে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে প্রায় ১১ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী ৭ দিনের অভিযান আসাদগেট-শ্যামলীতে সব ক্লিনিক পরিদর্শন, অনিয়মে ছাড় নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন জামায়াত আমির নতুন সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা ১১ জুন

কুরবানির গোশত জমিয়ে রাখা কি জায়েজ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪
  • ১৩৪ বার

কুরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরতের পর প্রতি বছর কুরবানি করেছেন। তিনি কখনও কুরবানি পরিত্যাগ করেননি; বরং কুরবানি পরিত্যাগকারীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।

প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী মুকিম ব্যক্তি, যে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব হবে।

নেসাব হলো: স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি। আর রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন  ভরি। আর অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ।

মদীনার প্রথম যুগে খাদ্যের সংকট ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে কুরবানির গোশত তিন দিনের বেশি জমিয়ে রাখতে নিষেধ করেছিলেন। পরে যখন অভাব কমে গেল তখন আবার সংরক্ষণ করে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, জাবির রা. বলেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিনের পর কুরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর (অবকাশ দিয়ে) বললেন, খাও, পাথেও হিসেবে সঙ্গে নাও এবং সংরক্ষণ করে রাখ।  (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৯৭২)

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তোমাদেরকে তিন দিনের পর কুরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, যেন স্বচ্ছল ব্যক্তিরা অসামর্থ্যদের তা উদারভাবে দিতে পারে। এখন তোমরা যা ইচ্ছা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখতে পার।  (জামে তিরমিযী, হাদিস ১৫১০)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সামর্থ্য অনুযায়ী কুরবানি করার তাওফিক দান করুন। ভুল-ত্রুটি থেকে রক্ষা করুন। এবং কেবল তার সন্তুষ্টির জন্যই কুরবানি করার তাওফিক দান করুন।

পরিশেষে আমাদেরকে আল্লাহ তাআলার সেই বাণী স্মরণে রাখতে হবে, তিনি ইরশাদ করেন- আল্লাহর কাছে না পৌঁছে তাদের গোশত আর না তাদের রক্ত, বরং তার কাছে তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা একারণে আল্লাহর তাকবীর বল যে, তিনি তোমাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন। যারা সুচারুরূপে সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দিন।  (সুরা হজ্ব (২২): ৩৫)
 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩৪৫০২ কোটি টাকা

কুরবানির গোশত জমিয়ে রাখা কি জায়েজ

আপডেট টাইম : ১০:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪

কুরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরতের পর প্রতি বছর কুরবানি করেছেন। তিনি কখনও কুরবানি পরিত্যাগ করেননি; বরং কুরবানি পরিত্যাগকারীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।

প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী মুকিম ব্যক্তি, যে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব হবে।

নেসাব হলো: স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি। আর রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন  ভরি। আর অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ।

মদীনার প্রথম যুগে খাদ্যের সংকট ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে কুরবানির গোশত তিন দিনের বেশি জমিয়ে রাখতে নিষেধ করেছিলেন। পরে যখন অভাব কমে গেল তখন আবার সংরক্ষণ করে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, জাবির রা. বলেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিনের পর কুরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর (অবকাশ দিয়ে) বললেন, খাও, পাথেও হিসেবে সঙ্গে নাও এবং সংরক্ষণ করে রাখ।  (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৯৭২)

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তোমাদেরকে তিন দিনের পর কুরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, যেন স্বচ্ছল ব্যক্তিরা অসামর্থ্যদের তা উদারভাবে দিতে পারে। এখন তোমরা যা ইচ্ছা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখতে পার।  (জামে তিরমিযী, হাদিস ১৫১০)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সামর্থ্য অনুযায়ী কুরবানি করার তাওফিক দান করুন। ভুল-ত্রুটি থেকে রক্ষা করুন। এবং কেবল তার সন্তুষ্টির জন্যই কুরবানি করার তাওফিক দান করুন।

পরিশেষে আমাদেরকে আল্লাহ তাআলার সেই বাণী স্মরণে রাখতে হবে, তিনি ইরশাদ করেন- আল্লাহর কাছে না পৌঁছে তাদের গোশত আর না তাদের রক্ত, বরং তার কাছে তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা একারণে আল্লাহর তাকবীর বল যে, তিনি তোমাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন। যারা সুচারুরূপে সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দিন।  (সুরা হজ্ব (২২): ৩৫)