ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির কারণ হতে পারে যানজট

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঈদ যাত্রায় সড়কপথে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির কারণ হতে পারে তীব্র যানজট। এরই মধ্যে সারা দেশে ১৫৫টি তীব্র যানজটপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঈদের আগের তিন দিন ও পরের তিন দিন মহাসড়কগুলোতে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে অতি জরুরি পণ্যবাহী যান চলতে পারবে।

সব ফিলিং স্টেশন ঈদের আগে সাত দিন ও পরের পাঁচ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। ঈদের এই সময়ে পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।আজ বৃহস্পতিবার ‘ঈদুল ফিতর ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে সড়কপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা’য় বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত বিআরটিএর দপ্তরে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভা থেকে এসব সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে।সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ৪৮টি, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে ৫২টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ছয়টি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪১টি এবং ঢাকা-পাটুরিয়া-আরিচা মহাসড়কে আটটি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জায়গায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে, যেন মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ করা যায়। লক্কড়ঝক্কড় বাস সড়কে চলতে পারবে না।

অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ঈদের সময় যানজট নিয়ন্ত্রণে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নথি বলছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ৪৮টি যানজটপ্রবণ জায়গা হলো : কাঁচপুর ব্রিজের পূর্ব ঢাল, গ্রিন লাইন ইউ টার্ন, মদনপুর মোড়, কেওডালা ইউ টার্ন, কনকা ইউ টার্ন, মোগড়াপাড়া, মেঘনা টোল প্লাজা, সাইনবোর্ড বাসস্ট্যান্ড, সানারপাড় ইউ টার্ন, মৌচাক স্ট্যান্ড, দশতলা ভবন, শিমরাইল বাসস্ট্যান্ড, আদমজী রোড, পাখির মোড়, ওয়াটার পার্ক, ভবের চর বাসস্ট্যান্ড, কলেজ গেট, আনারপুরা, বাটেরচর নতুন রাস্তা, হাঁস পয়েন্ট, দাউদকান্দি টোল প্লাজা, বলদাখাল, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ড, ইলিয়টগঞ্জ, সুয়াগাজী বাজার (উভয়মুখী), সদর দক্ষিণ থানার সামনে কাটা, নুরজাহার হোটেলের সামনে কাটা, কোটবাড়ী ইউ টার্নের উভয় পাশে, জাগুরঝুলি কাটা, আলেখার চর কাটা, ক্যান্টনমেন্ট মোড় (উভয়মুখী), নাজিরাবাজার ইউ টার্ন, নিমসার বাজার ইউ টার্ন, চৌদ্দগ্রাম বাজার, বিসিক মোড়, লালপোল, বাড়বকুণ্ড বাজার, ছোট কুমিরা, কেডিএস মোড়, ভাটিয়ারী পয়েন্ট, ফুটলিং, ফৌজদারহাট, সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ড/বড় দারোগারহাট স্কেল, মীরসরাই থানাধীন মিঠাছড়া বাজার, নিজামপুর বাজার, বড়তাকিয়া বাজার ও জোরারগঞ্জ থানাধীন বারৈয়ারহাট বাজার।

ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের ৫২টি যানজটপ্রবণ স্থান হলো : বাইপাইল মোড়, চন্দ্রা মোড়, গোড়াই মিলগেট, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বর, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম গোল চত্বর, ফেন্সি গেটের পূর্ব অংশ, ফেন্সি গেট সার্ভিস লেন, মুলিবাড়ী আন্ডারপাসের পূর্বে, কড্ডা ফ্লাইওভারের পশ্চিমে, কোনাবাড়ী আন্ডারপাসের পূর্বে, হাটিকুমরুল পাঁচলিয়া বাসস্ট্যান্ড, হাটিকুমরুল ধোপাকান্দি ব্রিজ, হাটিকুমরুল গোল চত্বর, হাটিকুমরুল বাজার, ঘুরকা বেলতলা, ভূঁইয়াগাতী বাসস্ট্যান্ড, হোটেল হাইওয়ে অভিভিলা, ঘোলমাইল, সিরাজগঞ্জ বাইপাস, জমজম দইঘর, বগুড়া বাজার থেকে সীমাবাড়ী কলেজ, পেন্টাগন হোটেল, ফুড ভিলেজ হোটেল, হাটিকুমরুল গোল চত্বর থেকে হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদ, দাদপুর জামাই রোড, নিউ পাপিয়া হোটেল থেকে চাচা ভাতিজা হোটেল পর্যন্ত, জোড়া ব্রিজ, চান্দাইকোনো গরুর হাট, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক কাচিকাটা টোল প্লাজা, বনপাড়া বাইপাস, বনপাড়া বাজার, রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক বানেশ্বর বাজার, রাজশাহী, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক ঘোগা বটতলা থেকে মোনায়েম কনস্ট্রাকশন, ছনকা বাজার, শেরপুর মডেল মসজিদের সামনে, নয়ামাইল বাজার, মাঝিরা বাজার, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন বনানী বাসস্ট্যান্ড, শাকপালা, বগুড়া জেলার সদর থানাধীন জিয়া মেডিক্যাল কলেজ গেটের সামনে, তিন মাথা লেভেলক্রসিং, চার মাথা ফ্লাইওভার ব্রিজের নিচে, বারোপুর বাসস্ট্যান্ড, মাটিডালি বিমানবন্দর মোড়, টিএমএসএসের সামনে, শিবগঞ্জ থানাধীন মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড ফ্লাইওভারের নিচে, মোকামতলা বাসস্ট্যান্ড ফ্লাইওভারের নিচে, মায়ামনি চৌরাস্তা মোড় থেকে গোবিন্দগঞ্জ ব্র্যাক অফিস, গাইবান্ধা, পলাশবাড়ী উপজেলা পোস্ট অফিস এবং শিল্পী রেস্তোরাঁ থেকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর পর্যন্ত, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা, পীরগঞ্জ উপজেলা বাসস্টপেজ থেকে সাসেক প্রকল্পের নির্মাণাধীন আন্ডারপাসের উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত, বিশ মাইল, পীরগঞ্জ, রংপুর, বড়দরগাহ আন্ডারপাস, পীরগঞ্জ, রংপুর, শঠিবাড়ী আন্ডারপাস ও শঠিবাড়ী বাজার এবং বাসস্টপেজ এলাকা, মিঠাপুকুর ও রংপুর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলগামী সড়কগুলোতে বেশ কয়েক বছর ধরেই টানা দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

এবারের অবস্থা আশা করি তুলনামূলকভাবে ভালো হবে। কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে, আমরা সেগুলো উতরে ওঠার চেষ্টা করছি।’

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ছয়টি যানজটপ্রবণ স্থান হলো : ভবানীপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড, হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ড, বাঘের বাজার বাসস্ট্যান্ড, মাস্টারবাড়ী বাজার, সিড স্টোর বাজার, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর মোড় ও পশ্চিম ঢাল, যাত্রামুড়া ব্রিজ, তারাব বাসস্ট্যান্ড, বরাব বাসস্ট্যান্ড, সুলতানা কামাল ব্রিজ, রূপসী বাসস্ট্যান্ড, বরপা বাসস্ট্যান্ড, পাকিস্তানি (এসিএস) গার্মেন্টস, রবিন টেক্স গার্মেন্টস, ভুলতা মোড়, গোলাকান্দাইল মোড়, বান্টি বাজার, পাঁচরুখি, হুনপাড়া, পুরিন্দা বাজার, মাধবদী বাসস্ট্যান্ড, শেখের চর (বাবুরহাট), পাঁচদোনা, সাহেপ্রতাব ও ভেলানগর, ইটাখোলা মোড়, (১) মরজাল বাজার, (২) বারৈচা বাজার, (৩) নারায়ণপুর বাজার, (৪) দুর্জয় মোড় বাসস্ট্যান্ড (পৌরসভা এলাকা), আশুগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, সোহাগপুর বাসস্ট্যান্ড, বগইর বাসস্ট্যান্ড, বেড়তলা বাসস্ট্যান্ড, বিশ্বরোড গোল চত্বর, নন্দনপুর বাসস্ট্যান্ড, সুহিলপুর বাসস্ট্যান্ড, বাড়িউরা বাসস্ট্যান্ড, শাহবাজপুর বাসস্ট্যান্ড, চান্দুরা বাসস্ট্যান্ড, ইসলামপুর বাসস্ট্যান্ড, সাতবর্গ বাসস্ট্যান্ড, মাধবপুর বাজার, অলিপুর বাজার, শায়েস্তাগঞ্জ গোল চত্বর, রুস্তমপুর টোল প্লাজা, শেরপুর টোল প্লাজা ও গোয়ালাবাজার।

এ ছাড়া ঢাকা-পাটুরিয়া-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, উলাইল বাসস্ট্যান্ড, সাভার থানা স্ট্যান্ড, সাভার বাসস্ট্যান্ড, সিঅ্যান্ডবি মোড়, নবীনগর বাসস্ট্যান্ড, নয়ারহাট বাসস্ট্যান্ড ও কালামপুর এলাকাকে যানজটপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর