ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

আমনের বাম্পার ফলন, কৃষক যেন ন্যায্য দাম পান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২
  • ২৭২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সুসংবাদ হলো, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে; আর দুঃসংবাদ হলো, এবারও ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন কৃষক।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর দেশে ৫৯ লাখ হেক্টর জমিতে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও উৎপাদন হয়েছে ৫৯ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে; অর্থাৎ প্রায় ৫৬ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আমনের চাষাবাদ হয়েছে। গড় ফলন হেক্টরে ৩ দশমিক ১১৯ টন। তবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকের তেমন লাভ হবে না বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আমন কাটা ও মাড়াই শুরুর পর মূলত চালকল মালিকরাই ধানের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন। বাজারে নতুন ধান ওঠার পর তারা সিন্ডিকেট করে অন্তত দুই সপ্তাহ কোনো ধান কেনেন না। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে ধানের দাম পড়ে যায় আর তখন ধান কিনে গুদামজাত করা হয় এবং ওই ধান দিয়ে সারা বছর চাল তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

কৃষক কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করলেও দামের বেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত ও প্রতারিত হচ্ছেন। আমনের পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। বস্তুত বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম মূল্যে ধানসহ বিভিন্ন ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। এ অবস্থার পরিবর্তনে তথা কৃষককে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারি নীতিমালা থাকা জরুরি।

প্রতিবেশী ভারতে সরকারিভাবে দেশটির মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ ধান ও চাল সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। আমাদের দেশে এ হার অনেক কম; মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। সরকার মূলত চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল কিনে থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিবছর বড় বড় চালকল মালিক ও ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো চালের বাজার অস্থির করার অপপ্রয়াস চালায়, যা রোধ করা জরুরি।

সরকারিভাবে ২০-২৫ শতাংশ মুনাফা দিয়ে ধানের মূল্য নির্ধারণের পর কৃষকের কাছ থেকে অন্তত ১৫ শতাংশ ধান সংগ্রহ করা উচিত। আশা করা যায়, এর ফলে কৃষক লাভবান হবেন। তাদের মুখে হাসি ফুটবে। এজন্য দেশে কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ নীতিমালার আওতায় একটি ‘প্রাইজ কমিশন’ গড়ে তোলা দরকার। দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে কৃষক বারবার লোকসানের আশঙ্কায় ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেললে তা ভোক্তার জন্য তো বটেই, দেশের জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

আমনের বাম্পার ফলন, কৃষক যেন ন্যায্য দাম পান

আপডেট টাইম : ১২:৩৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সুসংবাদ হলো, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে; আর দুঃসংবাদ হলো, এবারও ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন কৃষক।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর দেশে ৫৯ লাখ হেক্টর জমিতে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও উৎপাদন হয়েছে ৫৯ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে; অর্থাৎ প্রায় ৫৬ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আমনের চাষাবাদ হয়েছে। গড় ফলন হেক্টরে ৩ দশমিক ১১৯ টন। তবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকের তেমন লাভ হবে না বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আমন কাটা ও মাড়াই শুরুর পর মূলত চালকল মালিকরাই ধানের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন। বাজারে নতুন ধান ওঠার পর তারা সিন্ডিকেট করে অন্তত দুই সপ্তাহ কোনো ধান কেনেন না। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে ধানের দাম পড়ে যায় আর তখন ধান কিনে গুদামজাত করা হয় এবং ওই ধান দিয়ে সারা বছর চাল তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

কৃষক কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করলেও দামের বেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত ও প্রতারিত হচ্ছেন। আমনের পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। বস্তুত বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম মূল্যে ধানসহ বিভিন্ন ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। এ অবস্থার পরিবর্তনে তথা কৃষককে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারি নীতিমালা থাকা জরুরি।

প্রতিবেশী ভারতে সরকারিভাবে দেশটির মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ ধান ও চাল সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। আমাদের দেশে এ হার অনেক কম; মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। সরকার মূলত চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল কিনে থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিবছর বড় বড় চালকল মালিক ও ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো চালের বাজার অস্থির করার অপপ্রয়াস চালায়, যা রোধ করা জরুরি।

সরকারিভাবে ২০-২৫ শতাংশ মুনাফা দিয়ে ধানের মূল্য নির্ধারণের পর কৃষকের কাছ থেকে অন্তত ১৫ শতাংশ ধান সংগ্রহ করা উচিত। আশা করা যায়, এর ফলে কৃষক লাভবান হবেন। তাদের মুখে হাসি ফুটবে। এজন্য দেশে কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ নীতিমালার আওতায় একটি ‘প্রাইজ কমিশন’ গড়ে তোলা দরকার। দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে কৃষক বারবার লোকসানের আশঙ্কায় ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেললে তা ভোক্তার জন্য তো বটেই, দেশের জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।