,

দেশের ঋণের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে: সাবেক গভর্নর আতিউর

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের মতে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় নিরাপদ ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আর তাই শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘অদম্য বাংলাদেশ-অর্জন, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ইআরডিএফবি)’ এ সেমিনার আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ও ইআরডিএফবি সভাপতি অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে অধ্যাপক আতিউর রহমান বলেন, শ্রীলঙ্কার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় ঋণের হার ১০৯ শতাংশের বেশি। আর বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় ঋণের হার মাত্র ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ তুলনামূলক কম।

দেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনাকারীদের সমালোচনা করে বিশিষ্ট এ অর্থনীতিবিদ বলেন, জ্যোতিষীদের মতো বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে এমন মন্তব্য না করে, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরুন।

সরকারকে অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবহিকতা বজায় রাখা, আমদানি-রপ্তানি ব্যয়ের ব্যবধান কমানো এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিটান্স প্রবাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে নতুন করে আঞ্চলিকতাবাদ ও অর্থনৈতিক সংরক্ষণবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে। নয়া এ মেরুকরণের সুফল পেতে পারে বাংলাদেশ।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, সরকারের অর্জন টেকসই করতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও গুরুত্ব দিতে হবে এবং সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এছাড়া তিনি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগানো এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে উপযোগী করে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিক্ষক সমাজকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিস্তৃতি, রাষ্ট্রের কল্যাণে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা এবং ৪র্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য সচেতনতা তৈরিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ইআরডিএফবি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান-এর সঞ্চালনায় সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর