,

পাম তেলে ১২ ও চিনিতে ৪ টাকা কমানোর সুপারিশ

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৯টি পণ্যের মধ্যে দুটির দাম নির্ধারণের সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণে আরও সময় দরকার। অন্য ৫টি পণ্যের দাম নির্ধারণে সিদ্ধান্ত দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়।

সয়াবিন তেলের বাজার মূল্য যৌক্তিক। তবে পাম তেলের দাম লিটার প্রতি ১২ টাকা কমানোর সুযোগ আছে। এছাড়া চিনির দাম কেজিতে ৪ টাকা কমানো উচিত।

বাংলাদেশ ট্যারিফ অ্যান্ড ট্রেড কমিশন (বিটিটিসি) বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে এমন সুপারিশ তুলে ধরেছে।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৯টি পণ্যের দাম এককভাবে বেঁধে দেয়ার উদ্যোগ থেকে সরে আসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোজ্যতেল, চিনি, রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণ করে দেবে মন্ত্রণালয়। সেক্ষেত্রে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম নির্ধারণের সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। আর তথ্য-উপাত্ত না পাওয়ায় রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৯টি পণ্যের মধ্যে দুটির দাম নির্ধারণের সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণে আরও সময় দরকার। অন্য ৫টি পণ্যের দাম নির্ধারণে সিদ্ধান্ত দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কমবে পাম তেলের দাম

ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, পাম তেলের দাম ১৪৫ টাকা লিটার নির্ধারণ করা আছে। এই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে অন্তত ১২ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

বিশ্ব বাজারে সয়াবিন তেলের দামে তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে পাম তেলের দাম কমে এসেছে। তাই এই তেলের দাম স্থানীয় বাজারে কমানোর সুযোগ আছে। আর সয়াবিন তেল যে দামে বিক্রি হচ্ছে তা যৌক্তিক।

২৩ আগস্ট প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেঁধে দেয়া হয় ১৭৫ টাকা। ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম করা হয় ৯৪৫ টাকা। আর এক লিটার খোলা পাম তেলের দাম ধরা হয় ১৪৫ টাকা।

বিটিটিসির হিসাব অনুযায়ী সয়াবিন, পাম, রাইস ব্রান ও সরিষার তেল মিলিয়ে দেশে প্রায় ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদার বেশিরভাগই পাম তেল, ১৩ লাখ টন। এরপরই সয়াবিনের চাহিদা পাঁচ লাখ টন। বাকিটা সরিষা, রাইস ব্রানসহ অন্যান্য ভোজ্যতেল।

দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদার ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। সরাসরি আমদানি ও বীজ আমদানি করে এই চাহিদা পূরণ করা হয়।

কত হবে চিনির দাম

চিনির দাম সবশেষ গেল বছরের ৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তারপর নতুন করে দাম বেঁধে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, প্রতিকেজি খোলা চিনির খুচরা মূল্য ৮৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত ৮৮ টাকা হওয়া উচিত।

তবে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দরের তথ্য বলছে, খোলা বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। ব্র‍্যান্ড ভেদে দাম আরও বেশি।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা ২০ লাখ টনের কাছাকাছি। অন্যদিকে দেশের রিফাইনারিগুলোর পরিশোধন ক্ষমতা বার্ষিক ৩০ লাখ টন। সরকারিভাবেও কিছু পরিমাণে চিনি উৎপাদন করা হয়। সব মিলিয়ে বাজারে চিনির সরবরাহ চাহিদার বেশি।

রড-সিমেন্টের দাম নির্ধারণ নিয়ে বিপত্তি

রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণ করে দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দাম বেঁধে দিতে খাত-সংশ্লিষ্টদের কাছে তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে ট্যারিফ কমিশন। তবে বিক্রেতা ও উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে পারেনি।

ট্যারিফ কমিশন বলছে, দুই পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে তা দিতে সময় চাওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর বৈঠক করে দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মিল মালিকদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে রডের বার্ষিক চাহিদা ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টন। এর মধ্যে সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্যবহার হয় ৬০ শতাংশ। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ বেসরকারি খাতে।

মিল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে রডের কাঁচামালের আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তার ওপর ডলার সংকটের কারণে নতুন ঋণপত্র বা এলসি খুলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া সিমেন্ট তৈরিতে পাঁচ ধরনের কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়, যার শতভাগই আমদানিনির্ভর।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে তিন কোটি ৩৫ লাখ টন সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানিতে খরচ পড়েছে ১৫৪ কোটি ডলার। দেশে সিমেন্ট উৎপাদনকারী ৪০টি প্রতিষ্ঠান এই কাঁচামাল আমদানি করেছে। কোম্পানিভেদে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানি বাড়লেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই আমদানি কমেছে। তবে কাঁচামাল আমদানি কমলেও খরচ বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

ডলারের দর নিয়ে বিভ্রান্তি

পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডলারের দাম নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করলেও ডলারের দর নিয়ে ট্যারিফ কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দর না আন্তঃব্যাংক দর- কোনটা ধরে বিশ্লেষণ করা হবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে রড ও সিমেন্টের দেশীয় বাজারের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে ট্যারিফ কমিশন।

সবশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রতি ডলার ৯৬ টাকায় বিক্রি করেছে। এটাকে আগে আন্তঃব্যাংক ডলার দর বলা হতো। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর কোনো ডলার বিক্রি করবে না বলে জানিয়েছে।

ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিরসনে বাজার পর্যালোচনা করে অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ডলারের দাম ঠিক করবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। এটাকেই এখন আন্তঃব্যাংক ডলার দর বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক দর অনুযায়ী প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০৮ টাকায় বিনিময় হয়েছে।

সরে এল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

শেষ পর্যন্ত ৫ পণ্যের দাম নির্ধারণ করা থেকে সরে এসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পণ্যগুলো হচ্ছে- চাল, আটা, ময়দা, মসুর ডাল ও ডিম।

৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৯টি পণ্যের দাম বেঁধে দেয়া হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ওই ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন- ভোজ্যতেল, চিনি, রড, সিমেন্ট, চাল, আটা, ময়দা, মসুর ডাল ও ডিমের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

সে অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণও শুরু করে ট্যারিফ কমিশন। তবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা বাধা-বিপত্তি সামনে চলে আসে।

ট্যারিফ কমিশন বলছে, অত্যাবশকীয় পণ্য বিপণন আইন অনুযায়ী কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে আসছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৫টি পণ্যের দাম নির্ধারণে সিদ্ধান্ত দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়।

 

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর