ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী ওএসডি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তিন যুগ পর ভোটগ্রহণ অধিবেশন ডাকা হবে না: চিফ হুইপ ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রদল সভাপতি বললেন ‘গুজব’ ঢাকায় ‘র’ প্রধানের রহস্যজনক সফর আদালতে আসেননি পরীমনি, মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার, আচরণবিধি চূড়ান্ত করল ইসি

বঙ্গোপসাগর ব্যবহার করে ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুন ২০২২
  • ১৯৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরের জলপথকে ব্যবহার করে প্রতিবছর বাংলাদেশে ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনার মাত্র ১০ ভাগ আমরা কাজে লাগাতে পারছি। বর্তমানে আমাদের জ্বালানী তেলের ৩২% থেকে ৩৩% ভাগ আসে সাগর থেকে। এছাড়া সাগরকে কেন্দ্র করে ট্যুরিজম ও ফিশিং এর এক বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষেত্র গড়ে ওঠেছে।

নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সাগরের তলদেশে থাকা বিশাল খনিজ সম্পদের ভান্ডারকে কেন্দ্র করে।

গতকাল বুধবার (৮ জুন) বিশ্ব সমুদ্র দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের পেঁচারদ্বীপস্থ বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিচার্স ইন্সটিটিউটে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু, বঙ্গোপসাগর ও ব্লু-ইকনোমি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেমিনারেে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরের সম্পদ যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে সম্ভাবনার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। আর সম্ভাবনার এই নতুন ক্ষেত্রগুলোও তৈরি করে দিয়েছেন শেখ হাসিনার সরকার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সচিব ড. মো. কাউসার আহাম্মদ, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী কদর, বাংলাদেশ নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর (অব:) আবু জাফর মো. জালালউদ্দিন ও জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়াল এডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম।

এডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম বলেন, অর্থনীতি ও উন্নয়নের একটি খোলাক্ষেত্র হলো আমাদের বঙ্গোপসাগর। এ সাগরকে ঘিরে রয়েছে আমাদের অপার সম্ভাবনা। আমাদের তটরেখা থেকে ৬৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উপকুল রয়েছে। অথচ এই উপকূলের মাত্র ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অংশ আমরা এখন ব্যবহার করতে পারছি। অবশিষ্ট সাগরে আমরা মাছ ধরতে পারছি না। এ কারণে বায়োটেক বা জৈব প্রযুক্তিতেও আমরা অবদান রাখতে পারছি না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ৬ হাজার বর্গ কি.মি. ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বাগান রয়েছে। এর সুবিধা হল ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদগুলোর শেকড় কার্বন শোষণ করে এবং তা প্রায় দুই হাজার বছর পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে। এই ম্যানগ্রোভ সাগরের অধিকাংশ প্রাণীকুলের প্রজননক্ষেত্র। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ না থাকলে বঙ্গোপসাগরে মাছ থাকবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খোরশেদ আলম আরো বলেন, যে জাতি সমুদ্রসম্পদের যত ব্যবহার করতে পেরেছে সেই জাতি ততই উন্নত হয়েছে। সমুদ্রসম্পদের উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদেরকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

দিবসটি উপলক্ষে কক্সবাজারে গতকাল সকালে সৈকত পরিচ্ছন্নতা, সার্ফিং ও বীচ ফুটবল সহ অন্যান্য আয়োজন ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

বঙ্গোপসাগর ব্যবহার করে ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

আপডেট টাইম : ১০:৪১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুন ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরের জলপথকে ব্যবহার করে প্রতিবছর বাংলাদেশে ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনার মাত্র ১০ ভাগ আমরা কাজে লাগাতে পারছি। বর্তমানে আমাদের জ্বালানী তেলের ৩২% থেকে ৩৩% ভাগ আসে সাগর থেকে। এছাড়া সাগরকে কেন্দ্র করে ট্যুরিজম ও ফিশিং এর এক বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষেত্র গড়ে ওঠেছে।

নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সাগরের তলদেশে থাকা বিশাল খনিজ সম্পদের ভান্ডারকে কেন্দ্র করে।

গতকাল বুধবার (৮ জুন) বিশ্ব সমুদ্র দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের পেঁচারদ্বীপস্থ বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিচার্স ইন্সটিটিউটে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু, বঙ্গোপসাগর ও ব্লু-ইকনোমি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেমিনারেে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরের সম্পদ যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে সম্ভাবনার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। আর সম্ভাবনার এই নতুন ক্ষেত্রগুলোও তৈরি করে দিয়েছেন শেখ হাসিনার সরকার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সচিব ড. মো. কাউসার আহাম্মদ, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী কদর, বাংলাদেশ নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর (অব:) আবু জাফর মো. জালালউদ্দিন ও জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়াল এডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম।

এডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম বলেন, অর্থনীতি ও উন্নয়নের একটি খোলাক্ষেত্র হলো আমাদের বঙ্গোপসাগর। এ সাগরকে ঘিরে রয়েছে আমাদের অপার সম্ভাবনা। আমাদের তটরেখা থেকে ৬৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উপকুল রয়েছে। অথচ এই উপকূলের মাত্র ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অংশ আমরা এখন ব্যবহার করতে পারছি। অবশিষ্ট সাগরে আমরা মাছ ধরতে পারছি না। এ কারণে বায়োটেক বা জৈব প্রযুক্তিতেও আমরা অবদান রাখতে পারছি না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ৬ হাজার বর্গ কি.মি. ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বাগান রয়েছে। এর সুবিধা হল ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদগুলোর শেকড় কার্বন শোষণ করে এবং তা প্রায় দুই হাজার বছর পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে। এই ম্যানগ্রোভ সাগরের অধিকাংশ প্রাণীকুলের প্রজননক্ষেত্র। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ না থাকলে বঙ্গোপসাগরে মাছ থাকবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খোরশেদ আলম আরো বলেন, যে জাতি সমুদ্রসম্পদের যত ব্যবহার করতে পেরেছে সেই জাতি ততই উন্নত হয়েছে। সমুদ্রসম্পদের উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদেরকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

দিবসটি উপলক্ষে কক্সবাজারে গতকাল সকালে সৈকত পরিচ্ছন্নতা, সার্ফিং ও বীচ ফুটবল সহ অন্যান্য আয়োজন ছিল।