ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

বঙ্গোপসাগর ব্যবহার করে ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুন ২০২২
  • ১৮৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরের জলপথকে ব্যবহার করে প্রতিবছর বাংলাদেশে ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনার মাত্র ১০ ভাগ আমরা কাজে লাগাতে পারছি। বর্তমানে আমাদের জ্বালানী তেলের ৩২% থেকে ৩৩% ভাগ আসে সাগর থেকে। এছাড়া সাগরকে কেন্দ্র করে ট্যুরিজম ও ফিশিং এর এক বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষেত্র গড়ে ওঠেছে।

নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সাগরের তলদেশে থাকা বিশাল খনিজ সম্পদের ভান্ডারকে কেন্দ্র করে।

গতকাল বুধবার (৮ জুন) বিশ্ব সমুদ্র দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের পেঁচারদ্বীপস্থ বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিচার্স ইন্সটিটিউটে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু, বঙ্গোপসাগর ও ব্লু-ইকনোমি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেমিনারেে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরের সম্পদ যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে সম্ভাবনার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। আর সম্ভাবনার এই নতুন ক্ষেত্রগুলোও তৈরি করে দিয়েছেন শেখ হাসিনার সরকার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সচিব ড. মো. কাউসার আহাম্মদ, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী কদর, বাংলাদেশ নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর (অব:) আবু জাফর মো. জালালউদ্দিন ও জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়াল এডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম।

এডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম বলেন, অর্থনীতি ও উন্নয়নের একটি খোলাক্ষেত্র হলো আমাদের বঙ্গোপসাগর। এ সাগরকে ঘিরে রয়েছে আমাদের অপার সম্ভাবনা। আমাদের তটরেখা থেকে ৬৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উপকুল রয়েছে। অথচ এই উপকূলের মাত্র ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অংশ আমরা এখন ব্যবহার করতে পারছি। অবশিষ্ট সাগরে আমরা মাছ ধরতে পারছি না। এ কারণে বায়োটেক বা জৈব প্রযুক্তিতেও আমরা অবদান রাখতে পারছি না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ৬ হাজার বর্গ কি.মি. ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বাগান রয়েছে। এর সুবিধা হল ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদগুলোর শেকড় কার্বন শোষণ করে এবং তা প্রায় দুই হাজার বছর পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে। এই ম্যানগ্রোভ সাগরের অধিকাংশ প্রাণীকুলের প্রজননক্ষেত্র। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ না থাকলে বঙ্গোপসাগরে মাছ থাকবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খোরশেদ আলম আরো বলেন, যে জাতি সমুদ্রসম্পদের যত ব্যবহার করতে পেরেছে সেই জাতি ততই উন্নত হয়েছে। সমুদ্রসম্পদের উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদেরকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

দিবসটি উপলক্ষে কক্সবাজারে গতকাল সকালে সৈকত পরিচ্ছন্নতা, সার্ফিং ও বীচ ফুটবল সহ অন্যান্য আয়োজন ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

বঙ্গোপসাগর ব্যবহার করে ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

আপডেট টাইম : ১০:৪১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুন ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরের জলপথকে ব্যবহার করে প্রতিবছর বাংলাদেশে ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনার মাত্র ১০ ভাগ আমরা কাজে লাগাতে পারছি। বর্তমানে আমাদের জ্বালানী তেলের ৩২% থেকে ৩৩% ভাগ আসে সাগর থেকে। এছাড়া সাগরকে কেন্দ্র করে ট্যুরিজম ও ফিশিং এর এক বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষেত্র গড়ে ওঠেছে।

নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সাগরের তলদেশে থাকা বিশাল খনিজ সম্পদের ভান্ডারকে কেন্দ্র করে।

গতকাল বুধবার (৮ জুন) বিশ্ব সমুদ্র দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের পেঁচারদ্বীপস্থ বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিচার্স ইন্সটিটিউটে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু, বঙ্গোপসাগর ও ব্লু-ইকনোমি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেমিনারেে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরের সম্পদ যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে সম্ভাবনার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। আর সম্ভাবনার এই নতুন ক্ষেত্রগুলোও তৈরি করে দিয়েছেন শেখ হাসিনার সরকার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সচিব ড. মো. কাউসার আহাম্মদ, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী কদর, বাংলাদেশ নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর (অব:) আবু জাফর মো. জালালউদ্দিন ও জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়াল এডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম।

এডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম বলেন, অর্থনীতি ও উন্নয়নের একটি খোলাক্ষেত্র হলো আমাদের বঙ্গোপসাগর। এ সাগরকে ঘিরে রয়েছে আমাদের অপার সম্ভাবনা। আমাদের তটরেখা থেকে ৬৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উপকুল রয়েছে। অথচ এই উপকূলের মাত্র ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অংশ আমরা এখন ব্যবহার করতে পারছি। অবশিষ্ট সাগরে আমরা মাছ ধরতে পারছি না। এ কারণে বায়োটেক বা জৈব প্রযুক্তিতেও আমরা অবদান রাখতে পারছি না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ৬ হাজার বর্গ কি.মি. ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বাগান রয়েছে। এর সুবিধা হল ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদগুলোর শেকড় কার্বন শোষণ করে এবং তা প্রায় দুই হাজার বছর পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে। এই ম্যানগ্রোভ সাগরের অধিকাংশ প্রাণীকুলের প্রজননক্ষেত্র। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ না থাকলে বঙ্গোপসাগরে মাছ থাকবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খোরশেদ আলম আরো বলেন, যে জাতি সমুদ্রসম্পদের যত ব্যবহার করতে পেরেছে সেই জাতি ততই উন্নত হয়েছে। সমুদ্রসম্পদের উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদেরকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

দিবসটি উপলক্ষে কক্সবাজারে গতকাল সকালে সৈকত পরিচ্ছন্নতা, সার্ফিং ও বীচ ফুটবল সহ অন্যান্য আয়োজন ছিল।