ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী ওএসডি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তিন যুগ পর ভোটগ্রহণ অধিবেশন ডাকা হবে না: চিফ হুইপ ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রদল সভাপতি বললেন ‘গুজব’ ঢাকায় ‘র’ প্রধানের রহস্যজনক সফর আদালতে আসেননি পরীমনি, মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার, আচরণবিধি চূড়ান্ত করল ইসি

খুলনায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মে ২০২২
  • ২১০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ খুলনার দাকোপ, বটিয়াঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে তরমুজ আর তরমুজ। নতুন স্বপ্নে বিভোর তরমুজ চাষিরা।

যেখানে চোখ যাবে, সেখানেই তরমুজ। ভরা মৌসুমজুড়ে চলছে পরিচর্যা, কাটা, পরিবহন ও বাজারজাত করা নিয়ে চাষিদের ব্যস্ততা। যথা সময়ে ভোক্তার হাতে তুলে দিতেই চলছে তরমুজ নিয়ে ব্যস্ততা। ক্ষেত, পথ-ঘাট, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান, ট্রলার যত্রযত্র তরমুজের দেখা মিলছে।

বর্তমানে প্রচণ্ড তাপদাহ ও রমজানে তরমুজের চাহিদা বেড়েছে। সে সঙ্গে পরিবহন সঙ্কট না থাকায় ভালো দামে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে স্বল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। গত বছর তরমুজে ব্যাপক লাভ হওয়ায় এবার বেড়েছে তরমুজ চাষ। দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় এবার পতিত জমিতেও তরমুজ চাষ করেছেন অনেকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলায় এবার সাড়ে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এর বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় ১৩ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাকোপে ৭ হাজার ৬২৫ হেক্টরে। এছাড়া বটিয়াঘাটায় ৩ হাজার ৬০০, পাইকগাছায় ১ হাজার ৫১০, কয়রায় ৮৯৫, ডুমুরিয়ায় ৩৫০, রূপসায় ৫, তেরখাদায় ৩ ও ফুলতলা উপজেলায় ১ ও মেট্রো থানায় আরও ১ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

দাকোপের উড়াবুনিয়া তরমুজ চাষি সাধান জোয়ারদার বলেন, ১০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথম দিকে প্রতি বিঘা ১ লাখ টাকা করে বিক্রি করতে পেরেছি। এখন একটু কমে গেছে।

সিটিবুনিয়ায় তরমুজ চাষি দ্বীপক রায় বলেন, ৪ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। আমি এখনও বিক্রি করিনি। তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়েছে। ব্যাপারীদেরও বেশ আনা গোনা রয়েছে। ঈদের পর বিক্রি করবো।

বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদ রানা বলেন, বটিয়াঘাটায় তরমুজ চাষ এখন অন্যতম প্রধান ফসলে পরিণত হয়েছে। গজালীয়া, গরিয়ারডাঙ্গা, বগার বিল, রাজা খার বিলে লবণ পানি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। এ বছর তরমুজ চাষ ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে ১ থেকে দেড় লাখ টাকায় বিঘা বিক্রি করেছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দাকোপ, পাইকগাছা, কয়রা, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়ায় তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এবার খুলনায় প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। ১ হেক্টরে ৭.৫ বিঘা। সে হিসেবে ১ লাখ ৫ হাজার বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১ লাখ টাকার তরমুজ রয়েছে। সে হিসেবে মোট ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার তরমুজ চাষ হয়েছে এবার। গত বছর প্রায় ৬০০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হয়েছিল খুলনায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

খুলনায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন

আপডেট টাইম : ১১:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মে ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ খুলনার দাকোপ, বটিয়াঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে তরমুজ আর তরমুজ। নতুন স্বপ্নে বিভোর তরমুজ চাষিরা।

যেখানে চোখ যাবে, সেখানেই তরমুজ। ভরা মৌসুমজুড়ে চলছে পরিচর্যা, কাটা, পরিবহন ও বাজারজাত করা নিয়ে চাষিদের ব্যস্ততা। যথা সময়ে ভোক্তার হাতে তুলে দিতেই চলছে তরমুজ নিয়ে ব্যস্ততা। ক্ষেত, পথ-ঘাট, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান, ট্রলার যত্রযত্র তরমুজের দেখা মিলছে।

বর্তমানে প্রচণ্ড তাপদাহ ও রমজানে তরমুজের চাহিদা বেড়েছে। সে সঙ্গে পরিবহন সঙ্কট না থাকায় ভালো দামে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে স্বল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। গত বছর তরমুজে ব্যাপক লাভ হওয়ায় এবার বেড়েছে তরমুজ চাষ। দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় এবার পতিত জমিতেও তরমুজ চাষ করেছেন অনেকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলায় এবার সাড়ে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এর বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় ১৩ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাকোপে ৭ হাজার ৬২৫ হেক্টরে। এছাড়া বটিয়াঘাটায় ৩ হাজার ৬০০, পাইকগাছায় ১ হাজার ৫১০, কয়রায় ৮৯৫, ডুমুরিয়ায় ৩৫০, রূপসায় ৫, তেরখাদায় ৩ ও ফুলতলা উপজেলায় ১ ও মেট্রো থানায় আরও ১ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

দাকোপের উড়াবুনিয়া তরমুজ চাষি সাধান জোয়ারদার বলেন, ১০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথম দিকে প্রতি বিঘা ১ লাখ টাকা করে বিক্রি করতে পেরেছি। এখন একটু কমে গেছে।

সিটিবুনিয়ায় তরমুজ চাষি দ্বীপক রায় বলেন, ৪ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। আমি এখনও বিক্রি করিনি। তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়েছে। ব্যাপারীদেরও বেশ আনা গোনা রয়েছে। ঈদের পর বিক্রি করবো।

বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদ রানা বলেন, বটিয়াঘাটায় তরমুজ চাষ এখন অন্যতম প্রধান ফসলে পরিণত হয়েছে। গজালীয়া, গরিয়ারডাঙ্গা, বগার বিল, রাজা খার বিলে লবণ পানি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। এ বছর তরমুজ চাষ ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে ১ থেকে দেড় লাখ টাকায় বিঘা বিক্রি করেছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দাকোপ, পাইকগাছা, কয়রা, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়ায় তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এবার খুলনায় প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। ১ হেক্টরে ৭.৫ বিঘা। সে হিসেবে ১ লাখ ৫ হাজার বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১ লাখ টাকার তরমুজ রয়েছে। সে হিসেবে মোট ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার তরমুজ চাষ হয়েছে এবার। গত বছর প্রায় ৬০০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হয়েছিল খুলনায়।