,

image-507953-1641973153

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শীত মৌসুমেও কয়রায় দেখা নেই অতিথি পাখির

হাওর বার্তা ডেস্কঃ উপকূলীয় জনপদ কয়রা অঞ্চলে শীত মৌসুমেও এ বছর অতিথি পাখির দেখা নেই। এ সময় ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির বিচরণ দেখা গেলেও এ বছর তা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসছে। স্থানীয় পাখিপ্রেমীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে শীত মৌসুমে অবাধ অতিথি পাখি বিচরণ করে থাকে। অথচ এ বছর দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের সূত্র জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় কয়রা এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশে লবণাক্ততার প্রভাব ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার কারণে অতিথি পাখি কম আসছে। কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি, উত্তর বেদকাশি, কয়রা সদর, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর বাগালী ও আমাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বছর হাজার হাজার অতিথি পাখি আসে শীত মৌসুমে।

৫নং কয়রা গ্রামের আ. জব্বার হাওলাদার বলেন, এ বছর তার এলাকায় গুটিকয়েক পাখি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তর বেদকাশি ইউপি সদস্য রেজাউল করিম কারিম বলেন, এখন শীত পড়ছে কম। আগে শীতের তীব্রতা বেশি ছিল। সাইবেরীয় অঞ্চল থেকে যেসব পাখি আমাদের দেশে আসে তারা গরম সহিষ্ণু নয়। যে কারণে পাখি কম আসতে পারে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে গেছে। যার প্রভাব ইতিমধ্যে পরিবেশের ওপর পড়তে শুরু করেছে। এসব কারণে অতিথি পাখি কম আসছে। তাছাড়া নদী বেষ্ঠিত এলাকায় লবণ পানির মৎস্য ঘের হওয়ায় পাখির বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পাখিপ্রেমী শওকাত মোড়ল বলেন, বিগত কয়েক বছরের ব্যবধানে উপকূলীয় এলাকায় আইলা, সিডর ও নার্গিস ও বুলবুলের মতো দুর্যোগ আঘাত হানার পর উপকূলীয় এলাকার পাখির আবাসস্থল বলে পরিচিতি গাছগুলো মরে যাচ্ছে। বেশির ভাগ গাছপালা লবণাক্ততার কারণে মড়ক রোগ দেখা দিয়েছে। কোথাও আগের মতো তেমন কোনো ঝোপ-ঝাড় নেই। অতিথি পাখি টিকিয়ে রাখতে গাছে মাটির পাত্র বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর