,

image-370203-1606860653

২৮টি ফসলের প্রকৃত চাহিদা ও নিরূপণ করবে সরকার।

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে ভিন্নতা থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ২৮টি ফসলের প্রকৃত চাহিদা ও জোগান নিরূপণ করবে সরকার। ফসলগুলোর চাহিদা স্ট্যাডি করে একটি পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরি করতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলকে (বিএআরসি) দায়িত্ব দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

বিশেষজ্ঞ টিমের তত্ত্বাবধানে ২৮টি ফসলের মাঠ পর্যায়ের ও গবেষণালব্ধ তথ্য সংগ্রহের পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফসলগুলোর চাহিদা নিরূপণ করা হবে। ২০৫০ সাল পর্যন্ত এসব ফসলের চাহিদার পূর্বাভাস দেওয়া হবে। ফসলের চাহিদা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামীতে উৎপাদনসহ এসব ফসলের বিষয়ে অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ৪৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তহবিল পাওয়া সাপেক্ষে আগামী বছরের জুনের মধ্যে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বিএআরসি।

 

ধান, গম, ভুট্টা, আলু, মিষ্টি আলু, পাট, শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজি, সরিষা, চীনাবাদাম, তিসি, তিল, সয়াবিন, সূর্যমুখী, মসুর, ছোলা, মুগ, মাসকলাই, খেসারি, মটর, অড়হর, ফেলন, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া, মরিচ, আদা, হলুদ ও কালোজিরা- এই ২৮টি ফসলের চাহিদা ও সরবরাহ নির্ধারণ করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মো. আবদুর রৌফ   বলেন, বিভিন্ন ফসলের চাহিদার সঠিক তথ্য আমাদের কাছে নেই। বিভিন্ন সংস্থার চাহিদার যে তথ্য রয়েছে, তাতে ভিন্নতা রয়েছে। চাহিদার সঠিক তথ্য না থাকলে উৎপাদন পরিকল্পনা সঠিকভাবে হয় না। তাই চাহিদার সঠিক তথ্যের জন্য বিএআরসির মাধ্যমে স্ট্যাডিটা করা হচ্ছে। এটা ফসলের উৎপাদন, মূল্য নির্ধারণসহ এই ২৮টি ফসলের বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার  বলেন, ২৮টি ফসলের সরবরাহ ও চাহিদা স্ট্যাডি করা হবে। এজন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রয়োজনীয় অর্থ চাওয়া হয়েছে। এটা পেলে তখন হয়তো ছয় মাসের মধ্যে আমরা কাজটা করে ফেলতে পারবো।

 

তিনি বলেন, আমরা অনেক রকম কথাবার্তা বলি কিন্তু আমাদের কোনো সিস্টেমেটিক স্ট্যাডি নেই। ২০৫০ সাল নাগাদ এসব ফসলের ক্ষেত্রে আমাদের সাপ্লাই ও ডিমান্ডটা কেমন হবে, অনেকগুলো প্যারামিটারের ভিত্তিতে আমরা সেটা ঠিক করতে পারবো।

‘এজন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সফটওয়্যার আছে, সেই সফটওয়্যারের সহায়তায় আমরা কাজটি করবো। তাহলে সেটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রিকগনাইজড হবে। বিজ্ঞানভিত্তিক ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত নেওয়ার পর আমরা এই কাজটি করবো।’

নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এটা বাংলাদেশের জন্য একটা ডকুমেন্ট হয়ে যাবে। এর ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কৃষিনীতি প্রণয়ন করা যাবে। এই ডকুমেন্ট থেকে ২৮টি ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্দেশনা পাওয়া যাবে। এটাকেই সবাই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করবে। গবেষণার ক্ষেত্রেও এটা সহায়ক হবে।

শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার বলেন, এটা হবে পুরোপুরি বিজ্ঞানভিত্তিক। এটা নিয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করতে পারবে না। এটা হবে এসব ফসলের তথ্যের শক্ত ভিত্তি।

 

‘বিদেশি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হায়ার করে কাজটা করা হবে। এটা হয়ে গেলে আমাদের আলুর প্রকৃত চাহিদা কত, কতটুকু আমরা রপ্তানি করতে পারবো, কতটুকু আমাদের উৎপাদন করতে হবে- সব জানতে পারবো। কৃষককে আর ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। আগামী জুনের মধ্যে আমরা এটি কাজটি শেষ করতে চাই।’

বিএআরসির কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সদস্য পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোশাররফ উদ্দিন মোল্লা  বলেন, উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্বাচিত যে ফসলগুলো আছে, সেগুলোর চাহিদা ও জোগান নিরূপণের জন্য একটি স্ট্যাডি করা হবে। সাপ্লাই ও ডিমান্ড নির্ধারণের কিছু পদ্ধতি রয়েছে। সেগুলো ফলো করে আমরা এটা করবো। ২৮টি ফসলেরই পারবো কি না জানি না। প্রত্যেকটি ফসলের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি বিপুল তথ্যের প্রয়োজন হবে। প্রাইমারি পর্যায়ের তথ্য সার্ভে করে নেওয়া যাবে, কিন্তু সব ফসলেই সেকেন্ডারি তথ্যগুলো আমরা পাবো কি না জানি না। মেজর ও মাইনর ফসল আছে। মাইনর ফসলের সেকেন্ডারি তথ্য সেভাবে নেই। তবে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ২৮টি ফসলই।

‘সরবরাহ ও চাহিদা হিসাব করার ক্ষেত্রে অনেকগুলো ইন্ডিকেটর নিতে হয়। মাঠ পর্যায় থেকে সরেজমিনে যে তথ্য নেওয়া হয় সেটাকে প্রাইমারি ডাটা বলা হয়। সারাদেশকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে এটা করা হবে। সেকেন্ডারি ডাটা হচ্ছে বিবিএসের ডাটা, বাংলাদেশ ব্যাংকের যে ডাটাগুলো আছে, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিসার্চ ফাইন্ডিং আকারে যে প্রকাশনাগুলো আছে- এগুলো থেকে যখন তথ্য নেবো, সেটা হবে সেকেন্ডারি ডাটা।’

‘দেশে এই ২৮টি ফসলের কী পরিমাণ চাহিদা আছে, উৎপাদনের ভিত্তিতে কী পরিমাণ জোগান দেওয়া হচ্ছে, ঘাটতি বা উদ্বৃত্ত কতটুকু- স্ট্যাডিতে সেটা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হবে। এরপর এটার ভিত্তিতে ফোরকাস্টিং (পূর্বাভাস) করবো- আগামী ২০৫০ সাল পর্যন্ত কী পরিমাণ উৎপাদনের দরকার হবে, কী পরিমাণ চাহিদা তৈরি হবে। ম্যাথমেটিক্যাল ফোরকাস্টিং মডেল ব্যবহার করে ফোরকাস্টিং করা যায়, আমরও সেটা করবো। এর ভিত্তিতে কৃষি মন্ত্রণালয় ফসলগুলোর উৎপাদনের পরিকল্পনা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ফসলের উৎপাদন, চাহিদা, জোগান বের করে মডেলের মাধ্যমে আমরা ফোরকাস্ট করবো। ২০৩০, ২০৩৫, ২০৪০, ২০৪৫ সালে কী পরিমাণ উৎপাদন করতে হবে সেই বিষয়ে পূর্বাভাস দিতে পারবো।

পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে সরকার কোন ফসলের ওপর গুরুত্ব দেবে সেটা ঠিক করে নিতে পারবে জানিয়ে মোশাররফ উদ্দিন মোল্লা বলেন, উৎপাদনের তথ্য মোটামুটি একটা আছে। কিন্তু সাপ্লাই ও ডিমান্ড কী পরিমাণ আছে, সে বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য নেই।

‘কৃষি অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ টিমের সমন্বয়ে এই স্ট্যাডি করা হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ডাটা সংগ্রহের পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফোরকাস্টিংটা করা হবে। বিদেশ থেকে এই সফটওয়্যার কিনতে হবে।’

তহবিল পাওয়ার পর গবেষণাটা শেষ করতে ছয় মাসের মতো সময় পাবেন জানিয়ে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশাররফ উদ্দিন বলেন, যদিও এটা খুবই অল্প সময়। মিনিমাম এক বছর দরকার। যেহেতু ক্রাইসিস আছে, তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের কাজটি করতে হবে।

গবেষণার জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন-৪) জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর