,

f6356f6c41787bc8705221cc30e59a3d-6127b7c90723b

ধানের শীষবিহীন নির্বাচনে ভিন্ন কৌশলে বিএনপি নেতারা

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একদিকে নিজ দলের শক্তিশালী বিদ্রোহী আর অন্যদিকে স্বতন্ত্র শিরোনামে বিএনপির প্রার্থী, এই দুয়ে মিলে সত্যিকার অর্থেই চাপের মুখে পড়েছে বরিশালের বিভিন্ন ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থীরা। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি এমন যে বিদ্রোহীদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন তারা। এদিকে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক না থাকলেও স্বতন্ত্র মোড়কে ভোটযুদ্ধে নামা বিএনপির নেতারা নির্বাচনে জয়ী হতে নিচ্ছেন নানা কৌশল।

এক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিপুল অর্থের বিনিময়ে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করে ভোটের দিনের পরিবেশ নিজেদের পক্ষে রাখার চেষ্টা। প্রশাসনসহ নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সেক্টরে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। এসব অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিচ্ছেন সিভিল প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন একশ ভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যা যা করা দরকার সব প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আজ ভোটগ্রহণ হবে বরিশাল বিভাগের ৫ জেলার ৪৭টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ভোট হচ্ছে ১২ ইউনিয়নে। আগৈলঝাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। সেখানে ভোট হবে কেবল সংরক্ষিত এবং সাধারণ সদস্য পদে। জেলার ১২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ৫৭৫ জন প্রার্থী।

পিরোজপুরের ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ইন্দুরকানীতে জেপি (মঞ্জু)’র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইন্তেকাল করায় স্থগিত হয়েছে নির্বাচন। বাকি যে ৮ ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে তার প্রায় প্রতিটিতেই রয়েছে স্বতন্ত্র মোড়কে বিএনপি সমর্থিত ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। পটুয়াখালীর ১৯ ইউনিয়নেও মোটামুটি একই পরিস্থিতি। এছাড়া বরগুনার ১টি এবং ভোলার ৭টি ইউনিয়নে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিদ্রোহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুললেও এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই ছিল খানিকটা ভিন্ন পরিস্থিতি। অধিকাংশ ইউনিয়নে এবার দেখা গেছে উল্টো নৌকার প্রার্থীরা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ করছেন স্বতন্ত্রসহ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপটে বেশ অসহায় অবস্থাও দেখা গেছে নৌকার প্রার্থীদের।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, মাঠপর্যায়ের জনসমর্থন আর ভোটের মাঠের শক্তি বিবেচনায় না এনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কারণেই মূলত সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতির।

পিরোজপুরের একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে  বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে যদি ভোটের শক্তি হিসাব করা হয় তাহলে বিএনপি এবং জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের ভোট কোনো অংশে কম নয়। যেহেতু ইসলামি আন্দোলন প্রায় সবকটি ইউনিয়নেই প্রার্থী দিয়েছে তাই হাতপাখা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে তাদের ভোট যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বাকি ভোটে সমান অবস্থানে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াত। এখানে যদি বিদ্রোহী প্রার্থী প্রশ্নে আওয়ামী লীগের ভোট ভাগ হয় তাহলে তার পুরো সুবিধাটা পাবে বিএনপি।’

তিনি বলেন, এছাড়া কৌশলী প্রক্রিয়ায় ধানের শীষ বাদ দিয়ে নির্বাচনে নামা বিএনপি প্রার্থীরাও মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে ভোটের মাঠের পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নিতে। এজন্য গোপনে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সিভিল প্রশাসন আর পুলিশ বিভাগের সদস্যদের ম্যানেজের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যয় করা হচ্ছে বিপুল অর্থ।’

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে ভোটযুদ্ধে নামা আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন বাবুল মুন্সি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে একই কৌশল ব্যবহার করে নৌকার নিশ্চিত জয় প্রায় ছিনিয়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল তখনকার বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।

গলাচিপার চরবিশ্বাস ছাড়াও বরিশালের রায়পাশা-কড়াপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে একইভাবে পুলিশ এবং প্রশাসন ম্যানেজ করে নির্বাচনি পরিবেশ নিজেদের পক্ষে নেওয়ার কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে।

তবে এ বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আকতারুজ্জামান বলেন, ‘আগাম কোনো মন্তব্য নয়, আমি বলব ভোট শুরু আর শেষ হওয়া পর্যন্ত দেখুন। এবার নির্বাচনে অন্যরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করব আমরা। ভোটের শেষে কোনো প্রার্থীই বলতে পারবেন না যে, নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা।’

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল আহসান বাদল বলেন, ‘কেবল স্থানীয় পর্যায় নয়, ঢাকা থেকেও বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এমন ইউনিয়নও রয়েছে যেখানে একসঙ্গে ৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার টার্গেটে সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা।’

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর