ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

মাটি হারাচ্ছে স্বাভাবিক প্রাণশক্তি, বিলুপ্তির পথে সবুজ সার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১
  • ২৮৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এইদেশের জমির অন্যতম সাধারণ ফসল হিসেবে ধৈঞ্চা পাতার চাষ হতো। জমির প্রাণ ফেরাতে কৃষকরা নিয়মিত সবুজ (জৈব) সার হিসাবে ব্যবহার করতেন ধৈঞ্চা। কিন্তু এখনকার সময়ের বিবর্তনে জমিতে হাইব্রিড ফসল আর রাসায়নিক সারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ধৈঞ্চার চাষ এখন বিলুপ্তির পথে।

এতে ক্রমশ মাটি হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক প্রাণশক্তি। এভাবে চলতে থাকলে মাটি হারিয়ে ফেলবে তার স্বাভাবিক উর্বর শক্তি। সাথে বাড়বে রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহার। সেই সাথে বৃদ্ধি পাবে চাষাবাদের খরচ।

ধৈঞ্চা চাষের অতীতের স্মৃতি হাতড়ে খুলনার কয়রা সদরের ৬ নম্বর কয়রার প্রান্তিক কৃষক মোস্তফা শেখ বলেন, আগের আমলে বাপ-দাদারা প্রতিবছর একবার ধৈঞ্চার চাষ করতেনই। মোটামুটি এক মাসের মধ্যেই সবুজ চারায় ছেয়ে যেত ফসলের মাঠ। কি সুন্দর ছিল নরম ও সবুজ ধৈঞ্চার খেত।

তিনি জানান, জমি থেকে ধৈঞ্চা কেটে পুরো জমিতেই ছিটিয়ে লাঙল চালিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হতো। সপ্তাহের মধ্যেই জমিতে ধৈঞ্চা পচে মাটির সাথে মিশে যেত। মিটে যেত জৈব সারের চাহিদা। এরপর ওই জমিতে ফসল ফলতো প্রচুর। কিন্তু এখন কি যে দিনকাল পড়ল, জমিতে সবুজ সার ও গোবর সারের পাউশ দেওয়া (ব্যবহার) বন্ধ হয়ে গেল।

এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুতাপ সরকার দৈনিক অধিকারকে বলেন, ধৈঞ্চার ব্যবহার এখন কমে গেলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রান্তিক এ অঞ্চলের কৃষকেরা ধৈঞ্চা চাষে অনীহা, বাজারে বিনা পরিশ্রমে সার পায় এ জন্য।

তিনি বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ধৈঞ্চার মতো প্রাকৃতিক সবুজ সারের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকদের নিয়মিত রাসায়নিক সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে বুঝানো হচ্ছে।

গবেষণা করে দেখা গেছে, কৃষক পর্যায়ে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো গেলে মাটিতে ফসলের জন্য উপকারী পোকা-মাকড়, কেঁচো প্রভৃতির বংশ বিস্তার হবে। এর ফলে জমিতে উৎপন্ন বিভিন্ন ফল ও ফসলের উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে। আর কৃষকদের সাথে সাথে উপকৃত হবেন ভোক্তারাও।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

মাটি হারাচ্ছে স্বাভাবিক প্রাণশক্তি, বিলুপ্তির পথে সবুজ সার

আপডেট টাইম : ০৬:৪২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এইদেশের জমির অন্যতম সাধারণ ফসল হিসেবে ধৈঞ্চা পাতার চাষ হতো। জমির প্রাণ ফেরাতে কৃষকরা নিয়মিত সবুজ (জৈব) সার হিসাবে ব্যবহার করতেন ধৈঞ্চা। কিন্তু এখনকার সময়ের বিবর্তনে জমিতে হাইব্রিড ফসল আর রাসায়নিক সারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ধৈঞ্চার চাষ এখন বিলুপ্তির পথে।

এতে ক্রমশ মাটি হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক প্রাণশক্তি। এভাবে চলতে থাকলে মাটি হারিয়ে ফেলবে তার স্বাভাবিক উর্বর শক্তি। সাথে বাড়বে রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহার। সেই সাথে বৃদ্ধি পাবে চাষাবাদের খরচ।

ধৈঞ্চা চাষের অতীতের স্মৃতি হাতড়ে খুলনার কয়রা সদরের ৬ নম্বর কয়রার প্রান্তিক কৃষক মোস্তফা শেখ বলেন, আগের আমলে বাপ-দাদারা প্রতিবছর একবার ধৈঞ্চার চাষ করতেনই। মোটামুটি এক মাসের মধ্যেই সবুজ চারায় ছেয়ে যেত ফসলের মাঠ। কি সুন্দর ছিল নরম ও সবুজ ধৈঞ্চার খেত।

তিনি জানান, জমি থেকে ধৈঞ্চা কেটে পুরো জমিতেই ছিটিয়ে লাঙল চালিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হতো। সপ্তাহের মধ্যেই জমিতে ধৈঞ্চা পচে মাটির সাথে মিশে যেত। মিটে যেত জৈব সারের চাহিদা। এরপর ওই জমিতে ফসল ফলতো প্রচুর। কিন্তু এখন কি যে দিনকাল পড়ল, জমিতে সবুজ সার ও গোবর সারের পাউশ দেওয়া (ব্যবহার) বন্ধ হয়ে গেল।

এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুতাপ সরকার দৈনিক অধিকারকে বলেন, ধৈঞ্চার ব্যবহার এখন কমে গেলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রান্তিক এ অঞ্চলের কৃষকেরা ধৈঞ্চা চাষে অনীহা, বাজারে বিনা পরিশ্রমে সার পায় এ জন্য।

তিনি বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ধৈঞ্চার মতো প্রাকৃতিক সবুজ সারের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকদের নিয়মিত রাসায়নিক সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে বুঝানো হচ্ছে।

গবেষণা করে দেখা গেছে, কৃষক পর্যায়ে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো গেলে মাটিতে ফসলের জন্য উপকারী পোকা-মাকড়, কেঁচো প্রভৃতির বংশ বিস্তার হবে। এর ফলে জমিতে উৎপন্ন বিভিন্ন ফল ও ফসলের উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে। আর কৃষকদের সাথে সাথে উপকৃত হবেন ভোক্তারাও।