ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ভাসানচরে জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্তি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১
  • ২৭৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের দেখভালের দায়িত্ব গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের আগে থেকেই জাতিসংঘ এ বিষয়ে বিরোধিতা করে আসছিল। এ ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু রোহিঙ্গা পরিবারকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরও জাতিসংঘ এখানকার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়নি। তবে বৈশ্বিক এই সংস্থাটির নেতিবাচক মনোভাব সত্ত্বেও সরকার নিজ দায়িত্বে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে থাকার অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বস্তুত সরকারের সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ সঠিক থাকার স্বীকৃতি পাওয়া গেছে ভাসানচর কার্যক্রমের সঙ্গে জাতিসংঘের যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে, যা সবার প্রত্যাশিত ছিল।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকার নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে ভাসানচরে যে আশ্রয় শিবির তৈরি করেছে, তা আধুনিক ও বিশ্বমানের। দুঃখজনক হলো, অতীতে সরকারের এ কার্যক্রম সম্পর্কে নানারকম নেতিবাচক মন্তব্য করে এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে ভাসানচর প্রশ্নে সরকার তার অবস্থানে অনড় ছিল। অবশেষে জাতিসংঘও অনুধাবন করেছে, ভাসানচরে আধুনিক মানের যে আশ্রয় শিবির তৈরি করা হয়েছে, সেটা কোনোদিক দিয়েই মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী নয়। এর ফলে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাসানচরে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ভিত্তিতে বেসামরিক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো কক্সবাজারের মতো ভাসানচরেও মানবিক সহায়তা পরিচালনা করবে।

চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত চার হাজার ৭২৪টি পরিবারের ১৮ হাজার ৮৪৬ জন মিয়ানমার নাগরিককে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে আরও প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, ভাসানচর অথবা কক্সবাজারে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের থাকার যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা সাময়িক। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, মিয়ানমারের এসব বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। সন্দেহ নেই, প্রত্যাবাসন একটি জটিল প্রক্রিয়া। তবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার, বিশেষ করে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান অবশ্যই সম্ভব। এক্ষেত্রে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুশাসন ও আইনি পদক্ষেপ। মূলত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে মিয়ানমার যাতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, সে লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাপ অব্যাহত রাখবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

ভাসানচরে জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্তি

আপডেট টাইম : ১২:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের দেখভালের দায়িত্ব গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের আগে থেকেই জাতিসংঘ এ বিষয়ে বিরোধিতা করে আসছিল। এ ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু রোহিঙ্গা পরিবারকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরও জাতিসংঘ এখানকার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়নি। তবে বৈশ্বিক এই সংস্থাটির নেতিবাচক মনোভাব সত্ত্বেও সরকার নিজ দায়িত্বে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে থাকার অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বস্তুত সরকারের সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ সঠিক থাকার স্বীকৃতি পাওয়া গেছে ভাসানচর কার্যক্রমের সঙ্গে জাতিসংঘের যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে, যা সবার প্রত্যাশিত ছিল।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকার নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে ভাসানচরে যে আশ্রয় শিবির তৈরি করেছে, তা আধুনিক ও বিশ্বমানের। দুঃখজনক হলো, অতীতে সরকারের এ কার্যক্রম সম্পর্কে নানারকম নেতিবাচক মন্তব্য করে এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে ভাসানচর প্রশ্নে সরকার তার অবস্থানে অনড় ছিল। অবশেষে জাতিসংঘও অনুধাবন করেছে, ভাসানচরে আধুনিক মানের যে আশ্রয় শিবির তৈরি করা হয়েছে, সেটা কোনোদিক দিয়েই মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী নয়। এর ফলে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাসানচরে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ভিত্তিতে বেসামরিক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো কক্সবাজারের মতো ভাসানচরেও মানবিক সহায়তা পরিচালনা করবে।

চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত চার হাজার ৭২৪টি পরিবারের ১৮ হাজার ৮৪৬ জন মিয়ানমার নাগরিককে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে আরও প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, ভাসানচর অথবা কক্সবাজারে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের থাকার যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা সাময়িক। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, মিয়ানমারের এসব বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। সন্দেহ নেই, প্রত্যাবাসন একটি জটিল প্রক্রিয়া। তবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার, বিশেষ করে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান অবশ্যই সম্ভব। এক্ষেত্রে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুশাসন ও আইনি পদক্ষেপ। মূলত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে মিয়ানমার যাতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, সে লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাপ অব্যাহত রাখবে, এটাই প্রত্যাশা।