ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ওবামার কিউবা সফর কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ মার্চ ২০১৬
  • ৩২৬ বার

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক ঐতিহাসিক সফরে কিউবা পৌঁঁছেছেন। তার এই তিনদিনের সফরে মিঃ ওবামা দেশটির কমিউনিস্ট নেতার সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন।

১৯৫৯-এর বিপ্লবের পর এই প্রথম ক্ষমতায় আসীন কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট কিউবা সফরে গেলেন। ওই বিপ্লব দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা বৈরিতার জন্ম দেয়।

কি ধরনের দেশ এই কিউবা? এক কোটি দশ লাখ মানুষের দেশ কিউবা। স্প্যানিশ ভাষাভাষী এই দেশের মানুষ মূলত খ্রিস্টান।

কিউবার প্রবীণ নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তা দেশটির কমিউনিস্ট সরকার সামাল দিয়েছে ৫০ বছরের ওপর।

একটা সময় পূর্বাভাস ছিল দেশটির একসময়ের সমর্থক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ধাক্কা সামলে দেশটি

আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।

মিঃ ওবামার এই সফরের মধ্যে দিয়ে দুদেশের সম্পর্ক পুরোপুরি যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে তা নয়। কিউবার ওপর আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে ৫৪ বছর ধরে এবং তা শুধুমাত্র তুলে নেয়া সম্ভব কংগ্রেস এর পক্ষে ভোট দিলে।

ইতিমধ্যে গুয়ান্তানামো বে-তে মার্কিন নৌ-ঘাঁটি নিয়ে কিউবার এখনো অনেক অভিযোগ রয়েছে।

১৯৫৯ সালে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট একনায়ক ফুলজেনসিও বাতিস্তা ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকে কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে একদলীয় শাসন বিরাজ করেছে। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটি শাসন করেছে তার নির্বাচিত উত্তরসূরী – তার ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রো।

ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় বিপ্লব আসে এবং পশ্চিমা দুনিয়ায় কিউবাই প্রথম কমিউনিস্ট দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

কিউবার গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। দেশটিতে সরকার বিরোধী প্রচারণার বিরুদ্ধে এবং কর্মকর্তাদের অবমাননা করলে তার সাজা হিসাবে যেসব আইনকানুন রয়েছে তাতে তিন বছর পর্যন্ত কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।

মার্কিন নাগরিকদের পর্যটক হিসাবে কিউবায় যাওয়া নিষেধ। তবে শিক্ষাবিদ হিসাবে, ধর্মীয় কারণে, সাংবাদিকতার কাজে বা সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে সেখানে যাওয়ার অনুমতি মিলতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ওবামা আমেরিকার টিভি চ্যানেল এবিসি নিউজকে বলেছেন কিউবায় ওয়াইফাই এবং ব্রডব্যান্ড সুবিধা চালু করার ব্যাপারে একটি চুক্তি সফরে সম্পাদিত হবে। তিনি বলেছেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি তিনি মিঃ কাস্ত্রোর সঙ্গে আলোচনায় উত্থাপন করবেন।-বিবিসি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসচেতনতা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ওবামার কিউবা সফর কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আপডেট টাইম : ১০:১১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ মার্চ ২০১৬

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক ঐতিহাসিক সফরে কিউবা পৌঁঁছেছেন। তার এই তিনদিনের সফরে মিঃ ওবামা দেশটির কমিউনিস্ট নেতার সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন।

১৯৫৯-এর বিপ্লবের পর এই প্রথম ক্ষমতায় আসীন কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট কিউবা সফরে গেলেন। ওই বিপ্লব দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা বৈরিতার জন্ম দেয়।

কি ধরনের দেশ এই কিউবা? এক কোটি দশ লাখ মানুষের দেশ কিউবা। স্প্যানিশ ভাষাভাষী এই দেশের মানুষ মূলত খ্রিস্টান।

কিউবার প্রবীণ নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তা দেশটির কমিউনিস্ট সরকার সামাল দিয়েছে ৫০ বছরের ওপর।

একটা সময় পূর্বাভাস ছিল দেশটির একসময়ের সমর্থক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ধাক্কা সামলে দেশটি

আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।

মিঃ ওবামার এই সফরের মধ্যে দিয়ে দুদেশের সম্পর্ক পুরোপুরি যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে তা নয়। কিউবার ওপর আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে ৫৪ বছর ধরে এবং তা শুধুমাত্র তুলে নেয়া সম্ভব কংগ্রেস এর পক্ষে ভোট দিলে।

ইতিমধ্যে গুয়ান্তানামো বে-তে মার্কিন নৌ-ঘাঁটি নিয়ে কিউবার এখনো অনেক অভিযোগ রয়েছে।

১৯৫৯ সালে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট একনায়ক ফুলজেনসিও বাতিস্তা ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকে কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে একদলীয় শাসন বিরাজ করেছে। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটি শাসন করেছে তার নির্বাচিত উত্তরসূরী – তার ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রো।

ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় বিপ্লব আসে এবং পশ্চিমা দুনিয়ায় কিউবাই প্রথম কমিউনিস্ট দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

কিউবার গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। দেশটিতে সরকার বিরোধী প্রচারণার বিরুদ্ধে এবং কর্মকর্তাদের অবমাননা করলে তার সাজা হিসাবে যেসব আইনকানুন রয়েছে তাতে তিন বছর পর্যন্ত কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।

মার্কিন নাগরিকদের পর্যটক হিসাবে কিউবায় যাওয়া নিষেধ। তবে শিক্ষাবিদ হিসাবে, ধর্মীয় কারণে, সাংবাদিকতার কাজে বা সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে সেখানে যাওয়ার অনুমতি মিলতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ওবামা আমেরিকার টিভি চ্যানেল এবিসি নিউজকে বলেছেন কিউবায় ওয়াইফাই এবং ব্রডব্যান্ড সুবিধা চালু করার ব্যাপারে একটি চুক্তি সফরে সম্পাদিত হবে। তিনি বলেছেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি তিনি মিঃ কাস্ত্রোর সঙ্গে আলোচনায় উত্থাপন করবেন।-বিবিসি