ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তবুও এসেছে খুশির ঈদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:২৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১
  • ২২১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ গত বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল আজহা এসেছে করোনাকালে। ফলে এ ঈদ কতটা আনন্দদায়ক হবে তা অনিশ্চিত। অর্থনীতিতে স্থবিরতার কারণে দেশে বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। কঠিন এ অবস্থায় বেড়েছে দারিদ্র্যের হার।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, করোনার কারণে বেড়েছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা, কমেছে আয়। ফলে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। সেই সঙ্গে সবার মনে করোনা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আগে ঈদের নামাজ শেষে আমরা একে অপরের বুকের সঙ্গে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করতাম। কিন্তু সেটা সম্ভব হবে না এবার।যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ঈদ উপলক্ষ্যে নতুন জামা-কাপড় পড়বে। কুরবানির পশু ক্রয় করেছে। কিন্তু যাদের সামর্থ্য নেই, তারা কী করবে? তাদেরও তো সাধ আছে। তাদেরও মন চায় একটু আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করতে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বহু মানুষের আগের মতো আয়-উপার্জনের পথ নেই। অনেকেই কুরবানি করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কেমন করে চলছে তাদের জীবন? এসব বিষয় কি আমরা ভেবেছি কখনো?

আমরা চাই, ঈদের আনন্দ আসুক সবার জীবনে। সবার মুখে হাসি ফুটে উঠুক। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানি করা পশুর মাংস ভাগ করার একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যেখানে সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন হাদিসে আছে, রাসূল (সা.) কুরবানির মাংস একভাগ নিজের পরিবারকে খাওয়াতেন, একভাগ গরিব প্রতিবেশীদের দিতেন এবং একভাগ গরিব মিসকিনদের দিতেন। আমাদেরও উচিত গরিব-দুঃখীদের মাঝে কুরবানির মাংস বিলিয়ে দেওয়া। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সচেষ্ট থাকা। সরকারের উচিত গরিবদের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে সুষ্ঠু বণ্টন করা। পাশাপাশি বিত্তবানদের উচিত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও (এনজিও) অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একইভাবে এগিয়ে আসতে হবে সব নাগরিকের। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সে অনুযায়ী দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

কারণ অতীতের মতো ঈদ আনন্দ উপভোগ করা যাচ্ছে না এবার। তারপরও কামনা করি, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবার জীবনে ঈদ বয়ে আনুক সুখ-সমৃদ্ধি ও খুশির বার্তা। ঈদ হোক কল্যাণ, আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও ভালাবাসার। পৃথিবী আবার আগের রূপ ফিরে পাক। মানুষ বাঁচতে শিখুক নতুনভাবে। আবার নতুন সূর্যোদয়ের আলোয় ভরে যাক পৃথিবী-এ প্রত্যাশা রেখে সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারক জানাই।

মুহাম্মদ সায়েম আহমাদ : গবেষক

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তবুও এসেছে খুশির ঈদ

আপডেট টাইম : ০৬:২৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ গত বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল আজহা এসেছে করোনাকালে। ফলে এ ঈদ কতটা আনন্দদায়ক হবে তা অনিশ্চিত। অর্থনীতিতে স্থবিরতার কারণে দেশে বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। কঠিন এ অবস্থায় বেড়েছে দারিদ্র্যের হার।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, করোনার কারণে বেড়েছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা, কমেছে আয়। ফলে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। সেই সঙ্গে সবার মনে করোনা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আগে ঈদের নামাজ শেষে আমরা একে অপরের বুকের সঙ্গে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করতাম। কিন্তু সেটা সম্ভব হবে না এবার।যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ঈদ উপলক্ষ্যে নতুন জামা-কাপড় পড়বে। কুরবানির পশু ক্রয় করেছে। কিন্তু যাদের সামর্থ্য নেই, তারা কী করবে? তাদেরও তো সাধ আছে। তাদেরও মন চায় একটু আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করতে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বহু মানুষের আগের মতো আয়-উপার্জনের পথ নেই। অনেকেই কুরবানি করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কেমন করে চলছে তাদের জীবন? এসব বিষয় কি আমরা ভেবেছি কখনো?

আমরা চাই, ঈদের আনন্দ আসুক সবার জীবনে। সবার মুখে হাসি ফুটে উঠুক। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানি করা পশুর মাংস ভাগ করার একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যেখানে সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন হাদিসে আছে, রাসূল (সা.) কুরবানির মাংস একভাগ নিজের পরিবারকে খাওয়াতেন, একভাগ গরিব প্রতিবেশীদের দিতেন এবং একভাগ গরিব মিসকিনদের দিতেন। আমাদেরও উচিত গরিব-দুঃখীদের মাঝে কুরবানির মাংস বিলিয়ে দেওয়া। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সচেষ্ট থাকা। সরকারের উচিত গরিবদের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে সুষ্ঠু বণ্টন করা। পাশাপাশি বিত্তবানদের উচিত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও (এনজিও) অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একইভাবে এগিয়ে আসতে হবে সব নাগরিকের। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সে অনুযায়ী দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

কারণ অতীতের মতো ঈদ আনন্দ উপভোগ করা যাচ্ছে না এবার। তারপরও কামনা করি, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবার জীবনে ঈদ বয়ে আনুক সুখ-সমৃদ্ধি ও খুশির বার্তা। ঈদ হোক কল্যাণ, আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও ভালাবাসার। পৃথিবী আবার আগের রূপ ফিরে পাক। মানুষ বাঁচতে শিখুক নতুনভাবে। আবার নতুন সূর্যোদয়ের আলোয় ভরে যাক পৃথিবী-এ প্রত্যাশা রেখে সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারক জানাই।

মুহাম্মদ সায়েম আহমাদ : গবেষক