,

IMG_20210719_092129

আমাদের দেশের সবাই টিকা পাবে: প্রধানমন্ত্রী

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যায়ক্রমে সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন দিতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেছেন, কোন মানুষ যেন ভ্যাকসিন থেকে বাদ না যায়, সেভাবে কিন্তু আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা ভ্যাকসিন দেয়া শুরু করেছি। ভ্যাকসিন আসছে। আমাদের দেশের সকলেই যেন ভ্যাকসিনটা নিতে পারে তার জন্য যত দরকার আমরা তা ক্রয় করব এবং আমরা সেই ভ্যাকসিনটা দিব। আমরা চাচ্ছি যে দেশের মানুষ যেন কোন রকম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

পুরনো নেতিবাচক মনোভাব বদলে আরও বেশি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করায় সরকারী কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যে জিনিসটা এখন লক্ষ্য করি যে, প্রত্যেকটা সরকারী অফিসারদের ভেতরে আগে যেমন ছিল ‘সরকারী মাল দরিয়া মে ঢাল’- সেটা এখন নেই। আজকে প্রত্যেকে কিন্তু নিজে নিজের কাজটাকে নিজের বলে গ্রহণ করছে, আপনার দায়িত্ব আপনি নিজে গ্রহণ করছেন এবং বাস্তবায়ন করবার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। আসলে এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কাজ বলে আমি মনে করি।’

গণভবন থেকে রবিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহের ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং ‘এপিএ ও শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ২০২১-এ অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মহামারীর মধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে সাহসী ভূমিকা রাখায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সিনিয়র সচিবগণ ২০২১-২২ সালের এপিএ স্বাক্ষর করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরকৃত ডকুমেন্ট গ্রহণ করেন। ৮ম বারের মতো রবিবার এপিএ স্বাক্ষরিত হলো। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এপিএ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং স্বাগত বক্তব্যে রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রাপ্ত ১০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগকে এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারও প্রদান করেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এনএম জিয়াউল আলম শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসেবে এপিএ সম্মাননা পাওয়ায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। কর্মসম্পাদন চুক্তির সামগ্রিক বিষয়বলী নিয়ে অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করে পবিত্র ঈদ-উল-আজহায় দেশের বাড়ি গমনেচ্ছু যাত্রীদের মাক্স ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে, ইনশাআল্লাহ কেউ বাদ যাবে না। তবে করোনা পরিস্থিতিতে সকলে যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। আমি জানি আমাদের মানুষগুলো একটু গ্রামের উদ্দেশে ছুটতে পছন্দ করে, মাস্ক পরতে চায় না। কিন্তু প্রশাসনের যারা যেখানে দায়িত্বরত আছেন, তারা একটু চেষ্টা করবেন মানুষকে বোঝাতে এবং তারা যেন মাস্কটা অন্তত পরে আর যেন সাবধানে থাকে।

টানা তিনবারের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত আমি যেটা লক্ষ্য করেছি, সর্বক্ষেত্রে যারা প্রশাসনে আছেন, আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে আছেন সকলের ভেতরে কিন্তু এই পরিবর্তনটা এসেছে। সকলে কিন্তু আমাদের দেশের কাজগুলো, যেগুলো জাতির মঙ্গলের জন্য, জনগণের জন্য- সেই কাজগুলো উনি করেছেন। অর্থাৎ আপন বলে গ্রহণ বা দায়িত্ব বলে গ্রহণ করে আপনারা তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন বলেই এত স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। ২০০৯ থেকে ২০২০/২১-এর ভেতরে যে উন্নতিটা, এর ভেতরেই কিন্তু আমাদের অর্জনগুলো হয়েছে। আজকে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ একটা সম্মানজনক অবস্থায় এসেছে।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে সকলে যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেদিক দৃষ্টি দিতে হবে। নিজের সুরক্ষা নিজেকেই করতে হবে। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির মাধ্যমে সরকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননাপ্রাপ্ত ১০টি মন্ত্রণালয়/ বিভাগকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি অভিনন্দন জানাই সার্বিক মূল্যায়নে প্রথম স্থান অর্জনকারী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে। আমি আশা করি, মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহ বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোনার বাংলা বিনির্মাণে শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২০১৫ সাল হতে শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। শুদ্ধাচার চর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে শুদ্ধাচার চর্চাকারী কর্মচারীদের ২০১৭ সাল হতে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রথম স্থান অর্জন করায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারকেও আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

জনগণের সেবা করা সরকারের দায়িত্ব সে কথা স্মরণ করিয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কে? সরকার হচ্ছে জনগণের সেবা করবে। আমাদের সব সময় একটা লক্ষ্য ছিল সরকার জনগণের সেবা করবে। কাজেই যারা সেবা করবে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা, তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অর্থাৎ জনগণের সেবামূলক প্রশাসন গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, সরকারে থেকে শুধু সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করবো তা নয়, এখানে আমাদের একটা দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের প্রতি। জনগণের কল্যাণে, স্বার্থে এবং ভাগ্য পরিবর্তনে। সেই কথা চিন্তা করেই আমরা সকল কর্মকান্ড-বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী গ্রহণ করি। তিনি বলেন, যখন বাজেট দেই এবং প্রশাসনে নানা কর্মকান্ড আমরা পরিচালনা করি সেগুলো যেন গতিশীলতা পায়, সেগুলো যেন জনকল্যাণমুখী হয় এবং জনগণ যেন এর সুফল ভোগ করতে পারে- সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন সরকারে এসেছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য সেবক হিসেবে কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার জন্য কোন কিছু নয়, শুধু একটা সুযোগ মানুষের জন্য কাজ করার, তাঁদের ভাগ্যের পরিবর্তন করার এবং যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তা বাস্তবায়ন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪/১৫ সালে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, আমরা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীসহ যেই কাজগুলো করব, সেটার একটা জবাবহিহিতা নিশ্চিত করা এবং কাজগুলোর যাতে সঠিকভাবে হচ্ছে সেটা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি করেছি। যেখানে সকল মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিবগণ এবং আমাদের মন্ত্রণালয়য়ের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্বাক্ষর করবেন। এর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের নানা দফতর এবং বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্বাক্ষর করে কাজগুলো যথাযথভাবে হচ্ছে কি-না দেখবেন।

ধারাবাহিকভাবে সরকারে থাকায় দেশের উন্নতি এমনটাই হয়, অভিমত ব্যক্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, তাঁর সরকার পরিচালনায় আজকে করোনা নামের এমন একটা বাধা এসেছে যেটি সমগ্র বিশ্বেই সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে। তবে, এই সঙ্কটের সময় কীভাবে আমাদের চলতে হবে সব সময় সেই কর্মপন্থা সুনির্দিষ্ট করেছি। কারণ, করোনার ফলে সব থেকে বেশি আঘাত এসেছে আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে। আমাদের দুঃখ হলো বাংলাদেশকে আমরা যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম সেখানে করোনা নামক একটা অদৃশ্য শত্রুর বিরাট ধাক্কা লেগেছে।

করোনার দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী থেকে জনপ্রতিনিধি সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সাহসী ভূমিকা রেখেছে এবং এত বাধার মধ্যেও, অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেও সকলে নিজ নিজ কাজ চালিয়ে গেছেন। কারণ এটুকু কাজ যদি আমরা করতে না পারতাম তাহলে হয়তো বাংলাদেশের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে দাঁড়াতো। বিশ্বব্যাপী এই সমস্যাটি হলেও করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে এবং জনগণের সুুরক্ষা নিশ্চিত করা তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থা গতিশীল রেখে জনগণের জন্য কাজ করে যাওয়াটাই তার সরকারের লক্ষ্য।

ওয়ান ইলাভেনের প্রেক্ষাপটে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিনা বিচারে তার সাবজেলে অন্তরীণ থাকতে বাধ্য হওয়ার কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০৭ সালে আমাকে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গ্রেফতার করে, ১৬ জুলাই আমি বন্দী হই। কোন ওয়ারেন্ট ছিল না। তখনও কোন মামলা দিয়েছে কি না জানি না। কিন্তু পুলিশ মিলিটারি, সব মিলে যেতে আমাকে বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে এবং একটা সাব জেলে একদম একা রাখা হয়।

তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে একের এক মামলা। বিএনপির আমলে ছিল ১২টা মামলা। আমি কিন্তু ঘাবড়াইনি বরং আমি কারাগারে বন্দী হওয়ার পর সেখানে যে সময়টা পেয়েছিলাম, তখন বসে বসে কিছু নোট করেছিলাম। বাংলাদেশকে কীভাবে উন্নত করব এ রকম চিন্তা-ভাবনা নোট করেছিলাম। তখন এমন একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় যে, আওয়ামী লীগকে আর কখনও বোধ হয় ক্ষমতায় আসতে দিবে না। কিন্তু জনগণের ওপর আমার বিশ্বাস ছিল, তাই ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন শুরু করি।

তিনি বলেন, করোনাকালে তাঁর সরকারের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষ যাতে কোন রকম কষ্ট না পায়। তাদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা অর্থাৎ তাদের করোনা থেকেও যেমন মুক্তি দেয়া, তেমনি আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করা। যে কারণে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ সরকার ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের এ কাজে সহায়তা করায় সকল মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দকেও তিনি ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী হয়ে জনগণের সেবক হয়ে কাজ করছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব জনগণের সেবা করা- জাতির পিতার এমন নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়েই আমার পথ চলা এবং সেভাবেই আমাদের সংগঠন কাজ করেছে, আমরাও প্রচেষ্টা চালিয়েছি। যখন সরকারে এসেছি বাংলাদেশের মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করেছি। আমার দেশের কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করে। সেই ফসল খেয়েই তো আমাদের জীবন বাঁচে। আমার দেশের শ্রমিক, তার শ্রম দিয়ে ঘাম দিয়ে যে উৎপাদন করে সেটাই তো আমাদের আর্থিক সঙ্গতি। আমার দেশের সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ তাদের অবদানটা আমরা ছোট করে দেখতে পারি না। কোন কাজই ছোট না। তাই তাদের কল্যাণে কাজ করা, তাদের জীবনমান উন্নত করা, তাদের সেইভাবে সম্মান দেয়া, তাদের জন্য কাজ করা, সেটাই তো সব থেকে বড় শিক্ষা এবং দায়িত্ব।

মহামারীতে আছি ‘বড় জেলখানায়’ ॥ করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সরাসরি কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে আমি কিন্তু বলতে গেলে এক রকম বন্দী জীবনেই রয়েছি। তার আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়। এখন আছি বড় জেলখানায়। কারণ এই গণভবন থেকে আর বের হতে পারি নাই।’

জরুরী অবস্থার সময় ২০০৭ সালে গ্রেফতার হয়ে ১১ মাস বিশেষ কারাগারে অন্তরীণ সময়ের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখানে (গণভবন) একটু বড় জেলখানা, এটা হলো কথা। একটু লিবার্টি আছে, দোতলা থেকে নিচে নামতে পারি, মাঠে হাঁটতে পারি- এই পর্যন্তই। কিন্তু আগে ছিলাম একটা ঘরের মধ্যে বন্দী। ওখান থেকে আর নড়ার উপায় ছিল না। কলাপসিবল গেট দিয়ে বন্ধ করা ছিল। এখন অবশ্য ইলেকট্রনিক দরজা আছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সামনে থাকতে পারলাম না, এটাই একটা খুব দুঃখ। আজকে কর্মসম্পাদন চুক্তি হল, আমি নিজে হাতে দিতে পারলাম না বা থাকতে পারলাম না, সেই দুঃখটা আমার রয়ে গেল। পুরস্কারগুলো নিজের হাতে দিতে পারলে আমি আরও খুশি হতাম। এই করোনা মহামারীর কারণে সেটা সম্ভব হলো না।’

করোনাভাইরাস মহামারী পুরো বিশ্বকে সঙ্কটের মুখে ফেলেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে কোথায় কি ঘটছে এটা খুব দ্রুত জানা যাচ্ছে। ফলে এই মহামারীটা সর্বত্র যেমন ছড়িয়ে যাচ্ছে তার সংবাদগুলোও আমরা পাচ্ছি। এই অবস্থায় আমাদের কীভাবে চলতে হবে আমরা সেই কর্মপন্থা সুনির্দিষ্ট করেছি। এটা ঠিক যেহেতু এটা বিশ্বব্যাপী সমস্যা। এখানে আমাদের একার কিছু করার নাই। তারপরও আমাদের প্রত্যেকের চেষ্টা রয়েছে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করা, জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আর্থসামাজিক অবস্থা গতিশীল রাখা।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর