বিএনপির ৬ষ্ঠ কাউন্সিলের আর মাত্র ১৫ দিন বাকি। ইতোমধ্যেই দুই শীর্ষ পদ (চেয়ারম্যান ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান) খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের জন্য নিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন নজর সবার দলের অপর গুরুত্বপূর্ণ মহসচিব পদের দিকে। আর কাউন্সিলকে ঘিরে এ পদ নিয়েই চলছে নানা আলোচনা।
কে হচ্ছেন মহাসচিব? আসছে কি নতুন কোনো মুখ, নাকি ভারহীন হয়ে নতুন করে দায়িত্ব নিচ্ছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব- বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয় এবং দেশব্যাপী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এটিই এখন প্রধান প্রশ্ন।
যদিও দলের একটি বড় অংশ মনে করে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
বিএনপি চেয়ারপারসনের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুলই মহাসচিবের দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও চান ফখরুল এ পদে আসীন থাকুক।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, মির্জা ফখরুলসহ দলের জ্যেষ্ঠ প্রায় অর্ধডজন নেতা মহাসচিব হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন। তারা বিভিন্নভাবে দলীয় চেয়ারপারসন ও তারেক রহমানের কাছে লবিং করছেন।
এই দৌঁড়ে আরও রয়েছেন সদ্য কারামুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এক এগারোর সময় সংস্কারবাদীর তালিকায় নাম লেখানোর কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত প্রয়াত মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুইয়ার পরই মোশাররফ হোসেন এই পদটি চেয়েছিলেন। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির কারনে তিনি ওই পদটি পাননি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চাইলে দলের জেষ্ঠ্য নেতা তরিকুল ইসলাম মহাসচিবের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানা গেছে। দলের সিনিয়র নেতারা মনে করেন, বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সময়ে তার মতো প্রতিশ্রুতিশীল ও অভিজ্ঞ নেতাকেই মহাসচিব করা উচিত। তবে তরিকুল ইসলাম নিজে থেকে এই পদে মনোনয়ন চাইবেন না। তিনি খালেদার দিকে তাকিয়ে আছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও মহাসচিব হতে চান। চেয়ারপারসন দায়িত্ব দিলে তা পালনে প্রস্তুত গয়েশ্বরও।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নেত্রী (খালেদা) যাকে উপযুক্ত মনে করবেন তাকেই দায়িত্ব দেবেন। বর্তমানে আমি স্থায়ী কমিটির সদস্য। এটাও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ পদ। নেত্রী মহাসচিবের দায়িত্ব দিলে অবশ্যই তা পালন করতে পারবো।
২০১১ সালে দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর থেকেই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর বেশিরভাগ সিনিয়র নেতাই এর বিরোধীতা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, কাউন্সিলেই ঘোষণা হবে দলীয় মহাসচিবের নাম। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। অনেক সিনিয়র ও যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছেন। অনেকেই এ পদের প্রার্থী হতে পারেন। দলীয় ফোরামে যিনি বেশি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য তিনিই হবে মহাসচিব।
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল। বিএনপির গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল করার বিধান রয়েছে। তবে এবার প্রায় ৭ বছর পর ১৯ মার্চ কাউন্সিল হতে যাচ্ছে।
Reporter Name 























