ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

দান করার পর ফিরিয়ে নেওয়া যাবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৩২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১
  • ২৩০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কোনো মুসলমান অন্য কোনো মুসলমানকে কোনো বিনিময় ছাড়া কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তাকে হেবা বলা হয়। হেবা সম্পন্ন করার জন্য তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—হেবার প্রস্তাব, গ্রহীতার সম্মতি ও দখল হস্তান্তর। স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হেবা করা যায়। একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাঁর সমুদয় সম্পত্তি বা সম্পত্তির যেকোনো অংশ যে কাউকে হেবা করতে পারে। কেউ যদি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বিনিময় গ্রহণ ছাড়া কোনো সম্পদ হেবা করে থাকে এবং তা হস্তান্তরিত হয়ে থাকে তাহলে তা ফেরত নেওয়া বৈধ নয়। বিশেষ করে হেবাকারীর মৃত্যুর পর হেবাকৃত সম্পদ ফেরত নেওয়া দেশীয় আইনেও আইনবহির্ভূত।

অবশ্য ইসলামী আইনে একমাত্র পিতা তার সন্তানকে কোনো সম্পদ হেবা করে থাকলে তা ফেরত নিতে পারে। এ ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে তা বৈধ নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘দান করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ওই ব্যক্তির মতো, যে বমি করে তা আবার খায়।’ (বুখারি, হাদিস : ২৬২১)

ইমাম মুসলিম (রহ.) সহিহ মুসলিমে ‘হেবা’ অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এভাবে : ‘দান-সদকা ও হেবা হস্তান্তরের পরে ফিরিয়ে নেওয়া হারাম।’ সেখানে তিনি এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস এনেছেন। একটি হাদিসের মূল ভাব হলো, হেবাকৃত বস্তু ক্রয় করাও ইসলাম পছন্দ করে না। ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি একটি উত্তম ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করি। কিন্তু ওই ব্যক্তি (যাকে দেওয়া হয়েছিল) ঘোড়াটির সঠিক দেখাশোনা না করে ঘোড়াটিকে দুর্বল করে ফেলে। আমার ধারণা হলো, সে তা সস্তা দামে বিক্রি করে দেবে। আমি এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তুমি তা খরিদ করবে না এবং তোমার দান ফিরিয়ে আনবে না। কেননা যে ব্যক্তি নিজ দান ফিরিয়ে নেয়, সে ওই কুকুরের মতো, যেটি বমি করে আবার তা খায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪০৫৫)

তবে ইসলামী আইনে এই সুযোগ আছে যে পিতা তাঁর সন্তান থেকে হেবাকৃত বস্তু ফিরিয়ে নিতে পারে। যেমন—হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘কোনো মুসলিম কোনো দান করার পর ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ নয়। তবে পিতা তার সন্তানের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিতে পারে।’ (মুসনাদে আহমদ,  হাদিস : ৫৪৬৯; তিরমিজি, হাদিস : ২১৩২)

উল্লেখ্য, কোনো কিছু দান, হেবা বা ওয়াকফ করার মৌখিক ওয়াদা করার পরও তা বাতিল করার সুযোগ নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

দান করার পর ফিরিয়ে নেওয়া যাবে

আপডেট টাইম : ০২:৩২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কোনো মুসলমান অন্য কোনো মুসলমানকে কোনো বিনিময় ছাড়া কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তাকে হেবা বলা হয়। হেবা সম্পন্ন করার জন্য তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—হেবার প্রস্তাব, গ্রহীতার সম্মতি ও দখল হস্তান্তর। স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হেবা করা যায়। একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাঁর সমুদয় সম্পত্তি বা সম্পত্তির যেকোনো অংশ যে কাউকে হেবা করতে পারে। কেউ যদি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বিনিময় গ্রহণ ছাড়া কোনো সম্পদ হেবা করে থাকে এবং তা হস্তান্তরিত হয়ে থাকে তাহলে তা ফেরত নেওয়া বৈধ নয়। বিশেষ করে হেবাকারীর মৃত্যুর পর হেবাকৃত সম্পদ ফেরত নেওয়া দেশীয় আইনেও আইনবহির্ভূত।

অবশ্য ইসলামী আইনে একমাত্র পিতা তার সন্তানকে কোনো সম্পদ হেবা করে থাকলে তা ফেরত নিতে পারে। এ ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে তা বৈধ নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘দান করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ওই ব্যক্তির মতো, যে বমি করে তা আবার খায়।’ (বুখারি, হাদিস : ২৬২১)

ইমাম মুসলিম (রহ.) সহিহ মুসলিমে ‘হেবা’ অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এভাবে : ‘দান-সদকা ও হেবা হস্তান্তরের পরে ফিরিয়ে নেওয়া হারাম।’ সেখানে তিনি এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস এনেছেন। একটি হাদিসের মূল ভাব হলো, হেবাকৃত বস্তু ক্রয় করাও ইসলাম পছন্দ করে না। ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি একটি উত্তম ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করি। কিন্তু ওই ব্যক্তি (যাকে দেওয়া হয়েছিল) ঘোড়াটির সঠিক দেখাশোনা না করে ঘোড়াটিকে দুর্বল করে ফেলে। আমার ধারণা হলো, সে তা সস্তা দামে বিক্রি করে দেবে। আমি এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তুমি তা খরিদ করবে না এবং তোমার দান ফিরিয়ে আনবে না। কেননা যে ব্যক্তি নিজ দান ফিরিয়ে নেয়, সে ওই কুকুরের মতো, যেটি বমি করে আবার তা খায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪০৫৫)

তবে ইসলামী আইনে এই সুযোগ আছে যে পিতা তাঁর সন্তান থেকে হেবাকৃত বস্তু ফিরিয়ে নিতে পারে। যেমন—হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘কোনো মুসলিম কোনো দান করার পর ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ নয়। তবে পিতা তার সন্তানের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিতে পারে।’ (মুসনাদে আহমদ,  হাদিস : ৫৪৬৯; তিরমিজি, হাদিস : ২১৩২)

উল্লেখ্য, কোনো কিছু দান, হেবা বা ওয়াকফ করার মৌখিক ওয়াদা করার পরও তা বাতিল করার সুযোগ নেই।