ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

রাজশাহীর আম বাজারে বিক্রি করতে পারছেনা,খোঁজ নেই পাইকারদের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুন ২০২১
  • ২৩৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনা ও সর্বাত্মক লকডাউনের প্রভাবে রাজশাহীতে আমের দাম ও ক্রেতা কমেছে। এছাড়াও থেমে থেমে চলছে মৌসুমি বৃষ্টি। এতে করে ক্রেতা সংকটে পড়েছে রাজশাহীর আম ব্যবসায়ীরা।

শনিবার ( ১২ জুন) রাজশাহী মহানগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গুটি (আটি), গোপালভোগ, হিমসাগর (খিরসাপাত) ছাড়াও বাজারে উঠেছে ল্যাংড়া জাতের আম। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমের ভরা মৌসুমে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের প্রভাবে আমের বাজারে শুধু ক্রেতা কমই নয়, কমেছে আমের দামও।

প্রতি মণ আম গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। ক্রেতার উপস্থিতি না বাড়লে আমের দাম আরও কমার আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা। উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের হাট রাজশাহীর বানেশ্বর, নগরীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ড, সাহেব বাজার, শালবাগান ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা যায়।

বিক্রেতারা বলছেন, করোনার মধ্যেও হাটে প্রচুর আম উঠছে। সেই তুলনায় আমের ক্রেতা কম। তাই আম বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে। ফড়িয়া ও আড়তদাররা কম দামে আম কেনার সুযোগ নিচ্ছেন। কিন্তু যেসব ক্রেতা নিজেদের খাওয়ার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য আম কিনতে চান, তারা হাটে আম কেনার সুযোগ পান না। এতে আমচাষী ও বাগান ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

পুঠিয়ার ঝলমলিয়ার আম ব্যবসায়ী মিনহাজ সাকিল বলেন, লকডাউন ঘোষণার আগে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বর্তমানে বানেশ্বর হাটে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। তিনি লকডাউনের আগে প্রতি মণ ল্যাংড়া আম বিক্রি করেছিলেন ১৪০০ থেকে ১৭০০ টাকা মণ দামে। এছাড়া খিরসাপাত ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ ও গোপালভোগ ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকা মণ দারে বিক্রি করেন। বর্তমানে বিভিন্ন জাতের আম প্রতিমণ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, লকডাউনের আগে ২০-৩০ মণ আম বিক্রি করতাম। বর্তমানে ১০-১২ মণ আম বিক্রি হচ্ছে। আগের চেয়ে আমের দাম মণ প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। তারপরও ক্রেতা কম থাকায় সব আম বিক্রি হচ্ছে না।

জানতে চাইলে বানেশ্বর হাটের ইজারাদার ওসমান আলী বলেন, করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমচাষী ও ব্যবসায়ীদের। এবার হাটে আমের ক্রেতা কম, কিন্তু উৎপাদন অনেক বেশি। তাই আমচাষিদের এবার খরচও উঠছে না। দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসায়ী ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারতেন ব্যবসায়ীরা।’

 আম সংরক্ষণের বিষয়ে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জি এম মোরশেদুল বারি বলেন, আপাতত কুল হাউস বা ফ্রিজআপে আম সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে বারোমাসি জাতের আম চাষ করলে বছরজুড়ে বাজারে আম সরবরাহ করা সম্ভব। ফল গবেষণা কেন্দ্রে এধরণের বাগান রয়েছে। এসব উচ্চ ফলনশীল বারোমাসি আমের জাত চাষি পর্যায়ে অবমুক্ত হলে চাষিরা লাভবান হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

রাজশাহীর আম বাজারে বিক্রি করতে পারছেনা,খোঁজ নেই পাইকারদের

আপডেট টাইম : ১১:০১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুন ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনা ও সর্বাত্মক লকডাউনের প্রভাবে রাজশাহীতে আমের দাম ও ক্রেতা কমেছে। এছাড়াও থেমে থেমে চলছে মৌসুমি বৃষ্টি। এতে করে ক্রেতা সংকটে পড়েছে রাজশাহীর আম ব্যবসায়ীরা।

শনিবার ( ১২ জুন) রাজশাহী মহানগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গুটি (আটি), গোপালভোগ, হিমসাগর (খিরসাপাত) ছাড়াও বাজারে উঠেছে ল্যাংড়া জাতের আম। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমের ভরা মৌসুমে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের প্রভাবে আমের বাজারে শুধু ক্রেতা কমই নয়, কমেছে আমের দামও।

প্রতি মণ আম গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। ক্রেতার উপস্থিতি না বাড়লে আমের দাম আরও কমার আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা। উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের হাট রাজশাহীর বানেশ্বর, নগরীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ড, সাহেব বাজার, শালবাগান ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা যায়।

বিক্রেতারা বলছেন, করোনার মধ্যেও হাটে প্রচুর আম উঠছে। সেই তুলনায় আমের ক্রেতা কম। তাই আম বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে। ফড়িয়া ও আড়তদাররা কম দামে আম কেনার সুযোগ নিচ্ছেন। কিন্তু যেসব ক্রেতা নিজেদের খাওয়ার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য আম কিনতে চান, তারা হাটে আম কেনার সুযোগ পান না। এতে আমচাষী ও বাগান ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

পুঠিয়ার ঝলমলিয়ার আম ব্যবসায়ী মিনহাজ সাকিল বলেন, লকডাউন ঘোষণার আগে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বর্তমানে বানেশ্বর হাটে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। তিনি লকডাউনের আগে প্রতি মণ ল্যাংড়া আম বিক্রি করেছিলেন ১৪০০ থেকে ১৭০০ টাকা মণ দামে। এছাড়া খিরসাপাত ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ ও গোপালভোগ ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকা মণ দারে বিক্রি করেন। বর্তমানে বিভিন্ন জাতের আম প্রতিমণ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, লকডাউনের আগে ২০-৩০ মণ আম বিক্রি করতাম। বর্তমানে ১০-১২ মণ আম বিক্রি হচ্ছে। আগের চেয়ে আমের দাম মণ প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। তারপরও ক্রেতা কম থাকায় সব আম বিক্রি হচ্ছে না।

জানতে চাইলে বানেশ্বর হাটের ইজারাদার ওসমান আলী বলেন, করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমচাষী ও ব্যবসায়ীদের। এবার হাটে আমের ক্রেতা কম, কিন্তু উৎপাদন অনেক বেশি। তাই আমচাষিদের এবার খরচও উঠছে না। দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসায়ী ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারতেন ব্যবসায়ীরা।’

 আম সংরক্ষণের বিষয়ে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জি এম মোরশেদুল বারি বলেন, আপাতত কুল হাউস বা ফ্রিজআপে আম সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে বারোমাসি জাতের আম চাষ করলে বছরজুড়ে বাজারে আম সরবরাহ করা সম্ভব। ফল গবেষণা কেন্দ্রে এধরণের বাগান রয়েছে। এসব উচ্চ ফলনশীল বারোমাসি আমের জাত চাষি পর্যায়ে অবমুক্ত হলে চাষিরা লাভবান হবে।