,

5

আমার মুখ বন্ধ করতে ওবায়দুল কাদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ছোট ভাই আব্দুল কাদের মির্জার (মির্জা কাদের) মুখ বন্ধ রাখতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করছেন বলে মির্জা কাদের নিজেই অভিযোগ তুলেছেন।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানিয়ে বলেন, ‘ঢাকায় রাসেল নামে একজন আছে, যাকে দিয়ে আমাকে ধমক দিয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা নিয়ে আমাকে ধমক দেওয়া হয়েছে। এই সাংবাদিক সম্মেলন যেন আমি না করি সেজন্য বিভিন্নভাবে আমাকে ধমক দেওয়া হয়েছে।’

গতকাল রবিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করার পরে আপনার ঘোষিত যে কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন, সেগুলো আবার দেবেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা কাদের বলেন, ‘আমি শুনেছি আওয়ামী লীগের একটা মিটিং হবে। আমি সেই মিটিং পর্যন্ত দেখব। যদি এগুলো সমাধান না হয়, তাহলে পরবর্তী সময় আপনারাই সব দেখবেন। আমি কখনো এখান থেকে সরব না। আমি কোনো পদ-পদবিকে হাজির-নাজির মানব না। এগুলো আমি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করব।’

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও পরিবারকে রাজাকার পরিবার বলার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, ফেনী নোয়াখালীর অপরাজনীতি বন্ধ, ভোটারবিহীন নির্বাচন বন্ধ, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মির্জা কাদের বলেন, ‘আমরা নাকি রাজাকার পরিবারের সন্তান! ১৯৭১ সালে ওবায়দুল কাদের সাহেব আমাদের এলাকার মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। আমি তখন ছোট ছিলাম, ক্লাস সেভেনের ছাত্র। আমি আমার স্কুল থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নার ছবি পানিতে ফেলে দিয়েছিলাম। বেত্রাঘাত করে আমাকে স্কুলছাড়া করেছিল। আর এখন বলে আমরা নাকি রাজাকার পরিবারের সদস্য! এতো বছর এই দলের পিছনে সময় দিয়েছি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আজ অনেক কষ্ট লাগে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ রাজাকার ছিল? আপনারা তদন্ত করে দেখেন। ওবায়দুল কাদের তার ক্ষমতার জন্য নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিতে পারে কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ করছি, তারা যদি প্রমাণ করতে পারে আমার পরিবার রাজাকার তাহলে আমি নিজের বুকে গুলি করে জীবন বিসর্জন দেব।’

তিনি বলেন, ‘আমি শপথ নেওয়ার জন্য সন্ধ্যা ৬টার দিকে যখন বসুরহাট থেকে রওনা দিয়েছি, নিজাম হাজারীর নির্দেশে দিদারের তত্ত্বাবধানে সোহেল ও সাইফুল নামে দুই জন সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে আমার গাড়িতে হামলা করেছে। আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যা ও উচ্ছেদ করার জন্য নিজাম হাজারী, দিদার, সোহেল এবং একরামুল করিম চৌধুরীরা ৫০ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করেছে।’

এ বিষয়ে বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের কাছে চেয়ে বিচার পাননি জানিয়ে মির্জা কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে আক্রমণ করার বিষয়ে। উনি আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু গত চার দিনে একটা পিঁপড়াও গ্রেফতার হয়নি। সেজন্য আমি এখানে আসতে বাধ্য হয়েছি।’

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর