ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

ফড়িয়ারা কৃষকের লাভে ভাগ বসাচ্ছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১
  • ২৪৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শীতকালীন সবজির প্রচুর আবাদ হলেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রান্তিক চাষি। ফলন ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয় মেটাতে খেতে হচ্ছে হিমশিম।

তবে কৃষক দাম না পেলেও ফসলের লাভ ঠিকই তুলে নিচ্ছেন ফড়িয়ারা।

ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ের একাধিক প্রান্তিক কৃষকের সঙ্গে আলাপকালে তারা এমনটি জানান।

কৃষকরা জানান, ফসল ওঠার শুরুর দিকে সবজির দাম কিছুটা পেলেও বর্তমান অবস্থায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। উৎপাদন ভালো করেও ব্যয় মেটাতে পারছেন না।

সবজি উৎপাদনের পর বিক্রি থেকে যে আয় আসছে এতে লাভ তো দূরের কথা চালানই থাকছে না। আর ব্যাপারীরা নানা অজুহাতে সবজির দাম কমাচ্ছেন বলে জানালেন ধামরাই থানার ঢুলিভিটা ইউনিয়নের কৃষক শরিফ মিয়া।

তিনি বলেন, ফসল যখন নতুন ওঠা শুরু হয় তখন সবজির কিছুটা দাম পেয়েছিলাম। এখন যে সবজিগুলো উঠছে এতে দিন শেষে কামলা খরচও ওঠে না। এছাড়া ব্যাপারীরাও নানা অজুহাতে সবজির দাম কম দিচ্ছে।Welcome to Agrilife24 - আগাম ফুলকপির জাত নির্বাচন ও চাষাবাদ কৌশল

কৃষক ফসল ফলাচ্ছেন কিন্তু দাম পাচ্ছেন না, তাদের লাভ খেয়ে ফেলছে মধ্যসত্ত্বভোগীরা বলে জানান সাভার সিঙ্গাইরের প্রান্তিক কৃষক মিলন মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের সবজি তিনটি হাত ঘুরে ভালো দামে বিক্রি হলেও আমরা দাম পাই না। একটি ফুলকপি বাজারে খুচরা ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হলেও আমরা এটির দাম ৫ টাকাও পাই না। অথচ একটি ফুলকপি উৎপাদন করতে ১০ থেকে ১৫ টাকা খরচ পড়ে যায়। শুধু তাই নয় লাউ, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, শাকসহ সব সবজিতেই আমাদের পুঁজি উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে পেশা পরিবর্তন ছাড়া উপায় নেই।  শীতের রোদেলা সকালে খেত থেকে ফুলকপি তুলছেন কৃষক শাহজাহান আলী সাকিদার । এবার  তিনি ১৫ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। যোগাইপুর, বগুড়া সদর, ১৩ ...

ধামরাইয়ের চৌহাট ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক লিমন মিয়া বলেন, চার বন্ধু মিলে ৮ লাখ টাকা ব্যয় করে ফসল বুনেছিলাম। কিন্তু ফসলের যে দাম পাচ্ছি তাতে চালানের অর্ধেকও উঠবে কিনা জানি না। সামনের দিনগুলোতে আমাদের টিকে থাকাটা অনেক কঠিন হবে।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন। চাষির পণ্য বিক্রি করে কয়েক গুণ বেশি লাভ করেন এই মধ্যসত্ত্বভোগীরা।

স্থানীয় বাজারগুলোতে দেখা যায়, প্রতিটি সবজি কৃষকের কাছ থেকে কিনে মধ্যসত্ত্বভোগীরা ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে। শুধু তাই নয়, এই সবজিগুলো যখন ঢাকায় আসছে সেটি দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে উৎপাদন বেশি হওয়ায় সবজির দাম কমে গেছে বলে মনে করেন মধ্যসত্ত্বভোগীরা। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায়ও কৃষক সবজির দাম কিছুটা কম পাচ্ছে বলে মনে করেন তারা।

এ ব্যাপারে চৌহাট ইউনিয়নের মধ্যসত্ত্বভোগী সোবহান মিয়া  বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় সবজির দাম কমে গেছে। বাজারে যখন উৎপাদন কম ছিল সবজির বেশি দাম ছিল। সে সময় কৃষকরা দাম পেয়েছে। এখন দাম কম থাকায় আমরাও কম দাম দিয়ে সবজি কিনছি।

তবে মধ্যসত্ত্বভোগীদের লোকসানে খুব একটা পড়তে হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের অগ্রগতি, সাফল্যের বড় কৃতিত্ব কৃষকদের। অথচ ফসল ভালো ফলানোর পরও কৃষকের মুখে হাসি নেই। তাদের হাসি ফেরাতে সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। পণ্য উৎপাদনে সহায়তা, পরিবহন আর ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তন করতে অনেকেই বাধ্য হবে বলে মনে করেন প্রান্তিক কৃষকরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

ফড়িয়ারা কৃষকের লাভে ভাগ বসাচ্ছে

আপডেট টাইম : ১১:১৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শীতকালীন সবজির প্রচুর আবাদ হলেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রান্তিক চাষি। ফলন ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয় মেটাতে খেতে হচ্ছে হিমশিম।

তবে কৃষক দাম না পেলেও ফসলের লাভ ঠিকই তুলে নিচ্ছেন ফড়িয়ারা।

ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ের একাধিক প্রান্তিক কৃষকের সঙ্গে আলাপকালে তারা এমনটি জানান।

কৃষকরা জানান, ফসল ওঠার শুরুর দিকে সবজির দাম কিছুটা পেলেও বর্তমান অবস্থায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। উৎপাদন ভালো করেও ব্যয় মেটাতে পারছেন না।

সবজি উৎপাদনের পর বিক্রি থেকে যে আয় আসছে এতে লাভ তো দূরের কথা চালানই থাকছে না। আর ব্যাপারীরা নানা অজুহাতে সবজির দাম কমাচ্ছেন বলে জানালেন ধামরাই থানার ঢুলিভিটা ইউনিয়নের কৃষক শরিফ মিয়া।

তিনি বলেন, ফসল যখন নতুন ওঠা শুরু হয় তখন সবজির কিছুটা দাম পেয়েছিলাম। এখন যে সবজিগুলো উঠছে এতে দিন শেষে কামলা খরচও ওঠে না। এছাড়া ব্যাপারীরাও নানা অজুহাতে সবজির দাম কম দিচ্ছে।Welcome to Agrilife24 - আগাম ফুলকপির জাত নির্বাচন ও চাষাবাদ কৌশল

কৃষক ফসল ফলাচ্ছেন কিন্তু দাম পাচ্ছেন না, তাদের লাভ খেয়ে ফেলছে মধ্যসত্ত্বভোগীরা বলে জানান সাভার সিঙ্গাইরের প্রান্তিক কৃষক মিলন মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের সবজি তিনটি হাত ঘুরে ভালো দামে বিক্রি হলেও আমরা দাম পাই না। একটি ফুলকপি বাজারে খুচরা ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হলেও আমরা এটির দাম ৫ টাকাও পাই না। অথচ একটি ফুলকপি উৎপাদন করতে ১০ থেকে ১৫ টাকা খরচ পড়ে যায়। শুধু তাই নয় লাউ, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, শাকসহ সব সবজিতেই আমাদের পুঁজি উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে পেশা পরিবর্তন ছাড়া উপায় নেই।  শীতের রোদেলা সকালে খেত থেকে ফুলকপি তুলছেন কৃষক শাহজাহান আলী সাকিদার । এবার  তিনি ১৫ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। যোগাইপুর, বগুড়া সদর, ১৩ ...

ধামরাইয়ের চৌহাট ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক লিমন মিয়া বলেন, চার বন্ধু মিলে ৮ লাখ টাকা ব্যয় করে ফসল বুনেছিলাম। কিন্তু ফসলের যে দাম পাচ্ছি তাতে চালানের অর্ধেকও উঠবে কিনা জানি না। সামনের দিনগুলোতে আমাদের টিকে থাকাটা অনেক কঠিন হবে।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন। চাষির পণ্য বিক্রি করে কয়েক গুণ বেশি লাভ করেন এই মধ্যসত্ত্বভোগীরা।

স্থানীয় বাজারগুলোতে দেখা যায়, প্রতিটি সবজি কৃষকের কাছ থেকে কিনে মধ্যসত্ত্বভোগীরা ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে। শুধু তাই নয়, এই সবজিগুলো যখন ঢাকায় আসছে সেটি দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে উৎপাদন বেশি হওয়ায় সবজির দাম কমে গেছে বলে মনে করেন মধ্যসত্ত্বভোগীরা। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায়ও কৃষক সবজির দাম কিছুটা কম পাচ্ছে বলে মনে করেন তারা।

এ ব্যাপারে চৌহাট ইউনিয়নের মধ্যসত্ত্বভোগী সোবহান মিয়া  বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় সবজির দাম কমে গেছে। বাজারে যখন উৎপাদন কম ছিল সবজির বেশি দাম ছিল। সে সময় কৃষকরা দাম পেয়েছে। এখন দাম কম থাকায় আমরাও কম দাম দিয়ে সবজি কিনছি।

তবে মধ্যসত্ত্বভোগীদের লোকসানে খুব একটা পড়তে হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের অগ্রগতি, সাফল্যের বড় কৃতিত্ব কৃষকদের। অথচ ফসল ভালো ফলানোর পরও কৃষকের মুখে হাসি নেই। তাদের হাসি ফেরাতে সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। পণ্য উৎপাদনে সহায়তা, পরিবহন আর ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তন করতে অনেকেই বাধ্য হবে বলে মনে করেন প্রান্তিক কৃষকরা।