ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উৎসবমুখর পরিবেশে রোপা আমন ধান কাটা শুরু

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০
  • ৩২৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি সময় থেকেই গ্রাম বাংলার মাঠে মাঠে উত্তরের মৃদু বাতাসে সোনালী ধান দুলছে।

নতুন আমন ধানে নবান্ন উৎসবকে ঘিরে কৃষকের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। কৃষক তার উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

উত্তরের বাতাসে পাঁকা ধানের সুমিষ্ঠ ঘ্রাণে মুখরিত হওয়ায় মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায় কৃষকের। মাঠ ভরা সোনালী ধান বলে দেয় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য নবান্ন এসেছে, পাড়া-পড়শী, আত্বীয়-স্বজনকে নিয়ে এ এক ব্যতিক্রম কৃষকের উৎসব। নতুন ধানের চাল তৈরি করে নানান পিঠা-পুলি খাওয়ার উৎসবের অন্য রকম এক আনুষ্ঠানিকতার বার্তা বইছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পর পর জেলার সাত উপজেলায় রোপা আমন চাষ করেছেন কৃষকরা। দুই দফায় বন্যার পানিতে রোপা আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। আর এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা তার জমিতে বপন করেন রোপা আমন চারা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার রোপা আমনের ফলন ভালো হয়েছে। অগ্রাহণের শুরুর দিক থেকেই কৃষকের জমিতে উৎপাদিত রোপা আমন সোনালী রঙে সাজতে থাকে এবং মাঝামাঝি পথে এসে রোপা আমনের খেতে সোনালী নবান্নের বার্তা বইছে। কৃষকের জমির পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে এক সুমিষ্ট ঘ্রাণে মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কৃষক তার জমি থেকে সোনালী রোপা আমন কাটতে শুরু করেছেন এবং কাঁটার পর তা মারাই করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। মারাইয়ের পর তা থেকে আগাছা পরিষ্কার করার জন্য নারীরা কুলা দিয়ে তা উড়িয়ে পরিষ্কার করছেন।সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের নরেন্দ্র সরকার বাংলানিউজকে বলেন, দুই দফা বন্যার পানিতে আমার রোপা আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ৯০ শতাংশ জমির জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়ে আমন ধানের চারা ক্রয় করি। জমি প্রস্তুত থেকে কাটা পর্যন্ত যে টাকা খরচ হয়েছে তা উঠাতে পারবো, কারণ এবার রোপা আমনের ফলন ভালো হয়েছে। জমির দিকে তাকালে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। সোনালী পাঁকা ধানের মিষ্টি ঘ্রাণেও মন ভরে যায়।

জেলা সদর উপজেলার আটিগ্রাম এলাকার মফজেল বাংলানিউজকে বলেন, জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে এবং কিছু কিছু জায়গায় এরই মধ্যে কাটাও শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরে এবারের মতো ফলন হয়নি রোপা-আমনের। তবে ধান কাটা শ্রমিকের মূল্য একটু বেশি মনে হচ্ছে এবং বাজার ভালো পেলে বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে পারবো।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শাহজাহান আলী বিশ্বাস বাংলানিউজকে বলেন, বন্যায় কৃষকের বীজ তলার ক্ষতি হয়েছিল। সে জন্য আমাদের পক্ষ থেকে তাদের সার, বীজ, কৃটনাশকসহ সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের জমি পরিদর্শন করে কখন কী প্রয়োজন সে অনুযায়ী পরামর্শ দিয়েছেন আমাদের মাঠ কর্মীরা।

রোপা-আমনের ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে কৃষক ভালো দাম পাবে বলেও মন্তব্য করেন এই কৃষিবিদ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর পরিবেশে রোপা আমন ধান কাটা শুরু

আপডেট টাইম : ১২:১৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি সময় থেকেই গ্রাম বাংলার মাঠে মাঠে উত্তরের মৃদু বাতাসে সোনালী ধান দুলছে।

নতুন আমন ধানে নবান্ন উৎসবকে ঘিরে কৃষকের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। কৃষক তার উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

উত্তরের বাতাসে পাঁকা ধানের সুমিষ্ঠ ঘ্রাণে মুখরিত হওয়ায় মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায় কৃষকের। মাঠ ভরা সোনালী ধান বলে দেয় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য নবান্ন এসেছে, পাড়া-পড়শী, আত্বীয়-স্বজনকে নিয়ে এ এক ব্যতিক্রম কৃষকের উৎসব। নতুন ধানের চাল তৈরি করে নানান পিঠা-পুলি খাওয়ার উৎসবের অন্য রকম এক আনুষ্ঠানিকতার বার্তা বইছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পর পর জেলার সাত উপজেলায় রোপা আমন চাষ করেছেন কৃষকরা। দুই দফায় বন্যার পানিতে রোপা আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। আর এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা তার জমিতে বপন করেন রোপা আমন চারা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার রোপা আমনের ফলন ভালো হয়েছে। অগ্রাহণের শুরুর দিক থেকেই কৃষকের জমিতে উৎপাদিত রোপা আমন সোনালী রঙে সাজতে থাকে এবং মাঝামাঝি পথে এসে রোপা আমনের খেতে সোনালী নবান্নের বার্তা বইছে। কৃষকের জমির পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে এক সুমিষ্ট ঘ্রাণে মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কৃষক তার জমি থেকে সোনালী রোপা আমন কাটতে শুরু করেছেন এবং কাঁটার পর তা মারাই করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। মারাইয়ের পর তা থেকে আগাছা পরিষ্কার করার জন্য নারীরা কুলা দিয়ে তা উড়িয়ে পরিষ্কার করছেন।সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের নরেন্দ্র সরকার বাংলানিউজকে বলেন, দুই দফা বন্যার পানিতে আমার রোপা আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ৯০ শতাংশ জমির জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়ে আমন ধানের চারা ক্রয় করি। জমি প্রস্তুত থেকে কাটা পর্যন্ত যে টাকা খরচ হয়েছে তা উঠাতে পারবো, কারণ এবার রোপা আমনের ফলন ভালো হয়েছে। জমির দিকে তাকালে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। সোনালী পাঁকা ধানের মিষ্টি ঘ্রাণেও মন ভরে যায়।

জেলা সদর উপজেলার আটিগ্রাম এলাকার মফজেল বাংলানিউজকে বলেন, জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে এবং কিছু কিছু জায়গায় এরই মধ্যে কাটাও শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরে এবারের মতো ফলন হয়নি রোপা-আমনের। তবে ধান কাটা শ্রমিকের মূল্য একটু বেশি মনে হচ্ছে এবং বাজার ভালো পেলে বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে পারবো।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শাহজাহান আলী বিশ্বাস বাংলানিউজকে বলেন, বন্যায় কৃষকের বীজ তলার ক্ষতি হয়েছিল। সে জন্য আমাদের পক্ষ থেকে তাদের সার, বীজ, কৃটনাশকসহ সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের জমি পরিদর্শন করে কখন কী প্রয়োজন সে অনুযায়ী পরামর্শ দিয়েছেন আমাদের মাঠ কর্মীরা।

রোপা-আমনের ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে কৃষক ভালো দাম পাবে বলেও মন্তব্য করেন এই কৃষিবিদ