ঢাকা ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট গুপ্ত এবং অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ভোট করতে হয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে জুবাইদা রহমান ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নতি স্বীকার: ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে পিছুটান ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে উড়িয়ে দিল ইরান, ‘কোনো আলোচনাই হয়নি’—আরাগচি ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার, ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষেধ শারীরিক অবস্থার উন্নতি কথা বলতে পারছেন মির্জা আব্বাস, দোয়া চেয়েছে পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে ‌অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন

৭ বছর বয়সেই দুই অন্ধ সহোদর এক মাসেই কোরআনে হাফেজ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:১২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী ২০১৬
  • ৩৫৩ বার

ইচ্ছা শক্তি যে মানুষকে কত দূর নিয়ে যেতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দুই অন্ধ সহোদর হাসান-হোসাইন। জন্ম থেকেই পৃথিবীর আলো দেখেনি তারা। ছোটবেলা থেকেই কোরআন শোনার প্রতি আগ্রহ ছিল দু’জনের। যেখানেই কোরআন তেলাওয়াত হত সেখানেই ছুটে যেত। চোখে না দেখলেও মন দিয়েই শুনতো কোরআনের সূরাগুলো। আর সেই আগ্রহ থেকেই ৭ বছর বয়সেই মাত্র এক মাসে কোরআনে হাফেজ হলো দু’সহোদর। যেমন কণ্ঠস্বর, তেমন মায়াবী চেহারা তাদের। যেন একই বৃন্তে দু’টি ফুটন্ত গোলাপ। দু’ভাইয়ের কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শুনে মুগ্ধ ফরিদগঞ্জবাসী। জন্মান্ধ হয়েও শুনে শুনে পবিত্র কোরআন মুখস্ত করেছে ৭ বছরের জমজ দু’ভাই হাসান-হোসাইন। সম্প্রতি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের মাহফিলে দু’ভাইয়ের কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শুনে মুসলিমরা শুধু মুগ্ধই হননি, পুরস্কৃতও করেন তাদের। তাদের সুললিত কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত আর সূরের মূর্ছানায় সবার হৃদয় বিগলিত করে। জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ গ্রামের কামিন উদ্দিন ছৈয়াল বাড়ির মো. আলমগীর হোসেনের জমজ এ দু’সন্তান হাসান-হোসাইন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়ার পর যখন তারা সমাজের চোখে অবহেলিত ছিল, তখন বাবা-মা তাদের কোরআনে হাফেজ করে সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য করার স্বপ্ন দেখলেন। জানা যায়, ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে আলমগীর হোসেন তার দু’জমজ সন্তান হাসান-হোসােইনকে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ মো. নজরুল ইসলামের কাছে কোরআন শিক্ষার জন্য ভর্তি করিয়ে দেন। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তারা কোরআনে হাফেজ হয়ে যান। তারা শুধু কোরআনের সূরাগুলো মুখস্তই বলতে পারে না। শুদ্ধ তেলাওয়াতও করতে পারেেএখন তারা পাক্কা হাফেজ। তাদের বয়স এখন ৯ বছর। তাদের কোরআন তেলাওয়াত শুনতে প্রতিদিনই ভিড় করেন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এলাকার লোকজনও তাদের খুবই আদর করেন। হাফেজ হাসান-হোসাইন ভবিষ্যতে বড় আলেম হতে চায়। ফলে তারা এখন কওমী মাদ্রাসায় ভর্তি হবেন বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে আলহাজ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ওরা দু’জনই আমার ছাত্র। ইচ্ছাশক্তি থাকলে অন্ধ থেকেও যে আল্লাহর কালাম শরীফ পবিত্র কোরআন যে কেউ মুখস্ত করতে পারে হাসান-হোসাঈন তার বাস্তব উদাহরণ। আমি আশাবাদী, ওরা আগামীতে আরো ভালো করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

৭ বছর বয়সেই দুই অন্ধ সহোদর এক মাসেই কোরআনে হাফেজ

আপডেট টাইম : ০৯:১২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী ২০১৬

ইচ্ছা শক্তি যে মানুষকে কত দূর নিয়ে যেতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দুই অন্ধ সহোদর হাসান-হোসাইন। জন্ম থেকেই পৃথিবীর আলো দেখেনি তারা। ছোটবেলা থেকেই কোরআন শোনার প্রতি আগ্রহ ছিল দু’জনের। যেখানেই কোরআন তেলাওয়াত হত সেখানেই ছুটে যেত। চোখে না দেখলেও মন দিয়েই শুনতো কোরআনের সূরাগুলো। আর সেই আগ্রহ থেকেই ৭ বছর বয়সেই মাত্র এক মাসে কোরআনে হাফেজ হলো দু’সহোদর। যেমন কণ্ঠস্বর, তেমন মায়াবী চেহারা তাদের। যেন একই বৃন্তে দু’টি ফুটন্ত গোলাপ। দু’ভাইয়ের কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শুনে মুগ্ধ ফরিদগঞ্জবাসী। জন্মান্ধ হয়েও শুনে শুনে পবিত্র কোরআন মুখস্ত করেছে ৭ বছরের জমজ দু’ভাই হাসান-হোসাইন। সম্প্রতি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের মাহফিলে দু’ভাইয়ের কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শুনে মুসলিমরা শুধু মুগ্ধই হননি, পুরস্কৃতও করেন তাদের। তাদের সুললিত কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত আর সূরের মূর্ছানায় সবার হৃদয় বিগলিত করে। জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ গ্রামের কামিন উদ্দিন ছৈয়াল বাড়ির মো. আলমগীর হোসেনের জমজ এ দু’সন্তান হাসান-হোসাইন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়ার পর যখন তারা সমাজের চোখে অবহেলিত ছিল, তখন বাবা-মা তাদের কোরআনে হাফেজ করে সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য করার স্বপ্ন দেখলেন। জানা যায়, ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে আলমগীর হোসেন তার দু’জমজ সন্তান হাসান-হোসােইনকে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ মো. নজরুল ইসলামের কাছে কোরআন শিক্ষার জন্য ভর্তি করিয়ে দেন। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তারা কোরআনে হাফেজ হয়ে যান। তারা শুধু কোরআনের সূরাগুলো মুখস্তই বলতে পারে না। শুদ্ধ তেলাওয়াতও করতে পারেেএখন তারা পাক্কা হাফেজ। তাদের বয়স এখন ৯ বছর। তাদের কোরআন তেলাওয়াত শুনতে প্রতিদিনই ভিড় করেন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এলাকার লোকজনও তাদের খুবই আদর করেন। হাফেজ হাসান-হোসাইন ভবিষ্যতে বড় আলেম হতে চায়। ফলে তারা এখন কওমী মাদ্রাসায় ভর্তি হবেন বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে আলহাজ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ওরা দু’জনই আমার ছাত্র। ইচ্ছাশক্তি থাকলে অন্ধ থেকেও যে আল্লাহর কালাম শরীফ পবিত্র কোরআন যে কেউ মুখস্ত করতে পারে হাসান-হোসাঈন তার বাস্তব উদাহরণ। আমি আশাবাদী, ওরা আগামীতে আরো ভালো করবে।