ঢাকা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ‘অল ওয়েদার রোড’ হাওরের বুকে নৈসর্গিক তৃপ্তি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০
  • ৩৬৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দুই পাশে সাগর-সমুদ্রের ঢেউ। বয়ে যায় মাতাল হাওয়া। যত দূর চোখ যায় জলরাশির অবারিত ঢল। এমন বিস্তীর্ণ হাওরের বুক চিরে গেছে পিচঢালা এক সড়কপথ। আর এমন দিগন্তজোড়া সড়ক মেলে ধরেছে শিল্পীর তুলিতে আঁকা চিত্রকর্ম। এতে আগ্রহ বেড়েছে পর্যটকদের।

দৃষ্টিনন্দন নতুন সড়কটি নির্মিত হয়েছে জলে ভাসা কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলা ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে। এতে নতুনত্বের ছোঁয়া পেয়েছে হাওরের প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্যে। দূরের বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট গ্রাম যেন একেকটি ভেসে থাকা দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমিতে পর্যটন আকর্ষণের নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে হাওরবাসীর স্বপ্নে।

ভরা বর্ষায় এখানকার মানুষের চলাচলে একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। আর এখন হাওরের বিস্ময় খ্যাত এই সড়কে চলে নানা ধরনের যানবাহন। উত্তাল ঢেউ আর এলোমেলো বাতাসে খানিকটা পথ মাড়ালেই মিলবে নৈসর্গিক তৃপ্তি। বিচ্ছিন্ন এসব এলাকার মানুষ এখন পাকা সড়ক ধরেই গন্তব্যে ছুটছেন।

ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম উপজেলায় এক হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব‌্যয়ে নির্মাণ করা হয় ‘অল ওয়েদার রোড’। এর মা‌ধ‌্যমে ৪৭ কিলোমিটার উঁচু পাকা সড়ক ও ৩৫ কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়ক এবং দৃষ্টিনন্দন সেতু ধরে সারা বছর যাতায়াত করে মানুষ। অল ওয়েদার সড়কের দুই পাশে অথৈ জলরাশি। বর্ষায় আকাশে সাদা মেঘের ভেলা মন কাড়ে। মেঘ আর জলের মিতালী এককথায় মনোরম।

কিশোরগঞ্জের হাওর প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাওরের অপরূপ সৌন্দর্যের ছবি চোখে পড়ে। এসব দেখে সুইডেন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর কিংবা অন্য কোনো দেশের মনে হলেও আদতে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল। এসব ছবি দেখে করোনাভাইরাস মহামারিতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ঘুরতে আসেন।

সাগরের মতোই হাওরে সূর্য ডোবে। ভোরে পানির নিচ থেকে উঠে আসা সূর্যকে দেখলে মনে জাগে অন্যরকম অনুভূতি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সৃষ্টি হয় চমৎকার সৌন্দর্য।

মিঠামইনের ইউএনও প্রভাংশু সোম মহান বলেন, প্রাকৃতিকভাবেই হাওরের সৌন্দর্য‌ নয়নাভিরাম। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সারা বছর চলাচল উপযোগী অল ওয়েদার রোড। সড়কটির ফলে এই এলাকা জুড়ে এখন পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক বলেন, হাওরে গাড়ি চলবে এমন স্বপ্ন আমার পূর্বপুরুষেরা কখনো দেখেনি। এখানে পর্যটন নিয়ে কিছু করলে মানুষ কক্সবাজার না গিয়ে এখানে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ‘অল ওয়েদার রোড’ হাওরের বুকে নৈসর্গিক তৃপ্তি

আপডেট টাইম : ১০:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দুই পাশে সাগর-সমুদ্রের ঢেউ। বয়ে যায় মাতাল হাওয়া। যত দূর চোখ যায় জলরাশির অবারিত ঢল। এমন বিস্তীর্ণ হাওরের বুক চিরে গেছে পিচঢালা এক সড়কপথ। আর এমন দিগন্তজোড়া সড়ক মেলে ধরেছে শিল্পীর তুলিতে আঁকা চিত্রকর্ম। এতে আগ্রহ বেড়েছে পর্যটকদের।

দৃষ্টিনন্দন নতুন সড়কটি নির্মিত হয়েছে জলে ভাসা কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলা ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে। এতে নতুনত্বের ছোঁয়া পেয়েছে হাওরের প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্যে। দূরের বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট গ্রাম যেন একেকটি ভেসে থাকা দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমিতে পর্যটন আকর্ষণের নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে হাওরবাসীর স্বপ্নে।

ভরা বর্ষায় এখানকার মানুষের চলাচলে একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। আর এখন হাওরের বিস্ময় খ্যাত এই সড়কে চলে নানা ধরনের যানবাহন। উত্তাল ঢেউ আর এলোমেলো বাতাসে খানিকটা পথ মাড়ালেই মিলবে নৈসর্গিক তৃপ্তি। বিচ্ছিন্ন এসব এলাকার মানুষ এখন পাকা সড়ক ধরেই গন্তব্যে ছুটছেন।

ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম উপজেলায় এক হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব‌্যয়ে নির্মাণ করা হয় ‘অল ওয়েদার রোড’। এর মা‌ধ‌্যমে ৪৭ কিলোমিটার উঁচু পাকা সড়ক ও ৩৫ কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়ক এবং দৃষ্টিনন্দন সেতু ধরে সারা বছর যাতায়াত করে মানুষ। অল ওয়েদার সড়কের দুই পাশে অথৈ জলরাশি। বর্ষায় আকাশে সাদা মেঘের ভেলা মন কাড়ে। মেঘ আর জলের মিতালী এককথায় মনোরম।

কিশোরগঞ্জের হাওর প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাওরের অপরূপ সৌন্দর্যের ছবি চোখে পড়ে। এসব দেখে সুইডেন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর কিংবা অন্য কোনো দেশের মনে হলেও আদতে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল। এসব ছবি দেখে করোনাভাইরাস মহামারিতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ঘুরতে আসেন।

সাগরের মতোই হাওরে সূর্য ডোবে। ভোরে পানির নিচ থেকে উঠে আসা সূর্যকে দেখলে মনে জাগে অন্যরকম অনুভূতি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সৃষ্টি হয় চমৎকার সৌন্দর্য।

মিঠামইনের ইউএনও প্রভাংশু সোম মহান বলেন, প্রাকৃতিকভাবেই হাওরের সৌন্দর্য‌ নয়নাভিরাম। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সারা বছর চলাচল উপযোগী অল ওয়েদার রোড। সড়কটির ফলে এই এলাকা জুড়ে এখন পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক বলেন, হাওরে গাড়ি চলবে এমন স্বপ্ন আমার পূর্বপুরুষেরা কখনো দেখেনি। এখানে পর্যটন নিয়ে কিছু করলে মানুষ কক্সবাজার না গিয়ে এখানে আসবে।